এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বিদেশে পরিচিতজনদের জন্য সঙ্গে নেওয়া ভারতীয় মিষ্টিই বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এক যাত্রীর জন্য। পোস্তদানা বা খুসখুস মাখানো ‘রসকদম’ বহনের কারণে ভারতের বিহারের বাসিন্দা সতীশ কুমারকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই পাটনা থেকে আহমেদাবাদ হয়ে আবুধাবির উদ্দেশে যাত্রা করেন সতীশ। পরিচিতজনদের উপহার দেওয়ার জন্য সঙ্গে নিয়েছিলেন জনপ্রিয় মিষ্টি রসকদম। মিষ্টিটির বাইরের অংশে পোস্তদানা ব্যবহার করা হয়েছিল।
আবুধাবি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় মিষ্টির ওপর থাকা পোস্তদানা শনাক্ত হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে আটক করা হয় বলে পরিবারের দাবি।
ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পোস্তদানা বা খুসখুস রান্না ও মিষ্টান্নে পরিচিত একটি উপাদান। ভারতে এটি বৈধভাবে খাদ্যপণ্য হিসেবে বিক্রি ও ব্যবহার করা হয়।
ফলে সতীশের পরিবার জানিয়েছে, পরিচিত একটি খাদ্য উপাদান অন্য দেশে প্রবেশের সময় আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে—এ বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা ছিল না।
তাদের দাবি, সতীশ কোনো নিষিদ্ধ বস্তু বহনের উদ্দেশ্যে পোস্তদানা সঙ্গে নেননি। এটি ছিল সঙ্গে নেওয়া মিষ্টির একটি উপাদান। পরিবার এখন তার দ্রুত মুক্তির জন্য ভারতীয় দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েছে।
তবে সতীশের আটকের পরিস্থিতি এবং তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো—নিজ দেশে বৈধ কোনো খাদ্যপণ্য বা উপাদান গন্তব্য দেশেও একইভাবে অনুমোদিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
বিশেষ করে উদ্ভিদবীজ, মাংস, ফলমূল, দুগ্ধজাত পণ্য, ওষুধ এবং নির্দিষ্ট ধরনের খাদ্য উপাদান বহনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের কাস্টমস ও আমদানি বিধিতে বড় পার্থক্য রয়েছে।
পোস্তদানা পপি উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়। রান্নায় ব্যবহৃত বীজ এবং মাদকজাত উপাদান এক বিষয় না হলেও কিছু দেশে পপি-সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বা বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে কোনো খাবারের মধ্যে অল্প পরিমাণে এমন উপাদান থাকলেও সীমান্ত বা বিমানবন্দরের তল্লাশিতে সেটি বাড়তি যাচাইয়ের কারণ হতে পারে।
বিদেশ ভ্রমণের সময় নিজের জন্য বা আত্মীয়-স্বজনের জন্য দেশীয় খাবার নেওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর শুধু এয়ারলাইনের ব্যাগেজ নীতিই নয়, গন্তব্য দেশের কাস্টমস ও আমদানি আইনও প্রযোজ্য হয়।
কোনো পণ্য বিমানের চেকড ব্যাগেজ বা কেবিন ব্যাগেজে বহন করা সম্ভব হলেও সেটি গন্তব্য দেশে প্রবেশের জন্য বৈধ নাও হতে পারে। অর্থাৎ এয়ারলাইনের ব্যাগেজে কোনো পণ্য নেওয়ার অনুমতি এবং একটি দেশের সীমান্ত দিয়ে সেই পণ্য প্রবেশের অনুমতি দুটি আলাদা বিষয়।
এ কারণে মিষ্টি, মসলা, বীজ, শুকনো খাবার বা ওষুধের মতো পণ্য বিদেশে নেওয়ার আগে গন্তব্য দেশের সরকারি কাস্টমস নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে প্যাকেটজাত নয় বা উপাদানের তালিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই—এমন খাবারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণে শুধু চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, যাত্রাপথে ট্রানজিট বা কানেক্টিং বিমানবন্দর থাকলে সেখানকার নিয়মও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। কোনো যাত্রীকে ট্রানজিটের সময় ইমিগ্রেশন বা কাস্টমস অতিক্রম করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের বিধিনিষেধ তার বহন করা পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হতে পারে।
তাই বিদেশ ভ্রমণের আগে এয়ারলাইনের ব্যাগেজ নীতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের কাস্টমস, নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পণ্যের তালিকা এবং খাদ্য আমদানির নিয়ম দেখে নেওয়া নিরাপদ।
সতীশ কুমারের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, পরিচিত একটি মিষ্টির উপাদান সম্পর্কে বিধিনিষেধ না জানার কারণেই তিনি এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও তুলে ধরেছে—নিজ দেশে পরিচিত ও বৈধ কোনো খাবার বিদেশে নেওয়ার আগে তার প্রতিটি উপাদান গন্তব্য দেশে অনুমোদিত কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
সূত্র: ETV Bharat
মন্তব্য করুন