এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র প্রভাবে ভারতের চেন্নাই বিমানবন্দরে ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় তামিলনাড়ুসহ ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।
সোমবার (২ নভেম্বর) ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চেন্নাই ও আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সোমবার চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে চেন্নাই-ভিজয়ওয়াড়া, চেন্নাই-রাজামুন্দ্রি, চেন্নাই-কাদাপা এবং চেন্নাই-তিরুচিরাপল্লি রুটের ফ্লাইট রয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি অন্ধ্র প্রদেশের নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে।
উপকূলে আঘাত হানার সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি নেল্লোর থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। একই সময়ে চেন্নাই থেকে ১৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং কাভালি থেকে ১৮০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে ছিল এর অবস্থান।
আগের ছয় ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ২২ কিলোমিটার গতিতে অগ্রসর হয়েছে বলে জানানো হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রোববার রাত থেকে তামিলনাড়ুর চেন্নাই, চেঙ্গালপাট্টু ও তিরুভাল্লুর জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় চেন্নাইয়ের মাধাভারামে সর্বোচ্চ ১১ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া এনোর বন্দর ও নুঙ্গামবাক্কামে ১০ সেন্টিমিটার করে বৃষ্টিপাত হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় চেন্নাইয়ে কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় সোমবার চেন্নাই ও তিরুভাল্লুর জেলার সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যেও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজ্যটির ছয়টি জেলায় কমলা এবং পাঁচটি জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে কয়েক দিন আগে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে অন্ধ্র প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নতুন ঘূর্ণিঝড়ের আগমন উপকূলীয় অঞ্চলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ, বাতাসের গতিবেগ এবং সম্ভাব্য প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।
সূত্র: ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)
মন্তব্য করুন