আকাশে চলাচল করা কোনো উড়োজাহাজের বয়স তিন কিংবা চার দশক পেরিয়ে গেলেও যাত্রীরা অনেক সময় তা বুঝতে পারেন না। কারণ পুরোনো উড়োজাহাজের কাঠামো ঠিক রেখে কেবিন, আসন ও বিনোদন ব্যবস্থায় আধুনিকতার ছোঁয়া দিচ্ছে বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থা।
আমেরিকান এয়ারলাইন্স ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের মতো সংস্থাগুলো পুরোনো উড়োজাহাজের কেবিন সংস্কারে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। নতুন আসন, উন্নত সাইডওয়াল এবং আধুনিক ইনফ্লাইট বিনোদন ব্যবস্থা যুক্ত করে যাত্রীদের নতুন উড়োজাহাজের মতো অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কোনো কোনো ৪৫ বছর পুরোনো উড়োজাহাজও এখনো বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে।
এদিকে পুরোনো উড়োজাহাজের পাশাপাশি নতুন মডেলের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ১৯৮২ সালে যাত্রা শুরু করা বোয়িং ৭৬৭ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হলেও বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সকে ঘিরে বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যু আলোচনায় এসেছে। দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর মডেলটি ব্যাপক নজরদারির মধ্যে পড়ে। সম্প্রতি সিট স্থাপনসংক্রান্ত একটি বিষয়েও শত শত ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ পরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA)।
অন্যদিকে বিমানবন্দরের প্রিমিয়াম লাউঞ্জ নিয়েও যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অতিরিক্ত ভিড় ও প্রত্যাশিত সেবা না পাওয়ায় নিয়মিত ভ্রমণকারীদের একটি অংশ লাউঞ্জ ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে নতুন উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি পুরোনো বহরকে আধুনিকায়নের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে বিমান সংস্থাগুলো। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি কেবিন সংস্কারের মাধ্যমে পুরোনো উড়োজাহাজেও যাত্রীদের আরামদায়ক ও আধুনিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন