এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে ৫৯৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট, ২৪ দশমিক ২ কেজি নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম এবং ১০ লিটার Black Label ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID)। জব্দ করা পণ্যগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের কর্মকর্তারা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, গোপন তথ্য পাওয়ার পর বিমানবন্দরে নজরদারি জোরদার করা হয়। পরে কলম্বো থেকে ঢাকায় আসা একটি ফ্লাইটের পাঁচ যাত্রীর ব্যাগেজ পৃথকভাবে স্ক্যান ও তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও গৌরী ক্রিম পাওয়া যায়। অন্যদিকে মুম্বাই থেকে আসা আরেক যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে বিদেশি মদ জব্দ করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দার তথ্য অনুযায়ী, UL189 (Colombo–Dhaka) ফ্লাইটে আসা পাঁচ যাত্রীর ব্যাগেজ পৃথকভাবে স্ক্যান ও তল্লাশি করা হয়।
এ সময় Mohammad Robel-এর ব্যাগেজ থেকে ১৬১ কার্টন সিগারেট এবং ৬ দশমিক ৪ কেজি নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম জব্দ করা হয়।
Abdullah Al Mobarak-এর ব্যাগেজ থেকে পাওয়া যায় ১৪৯ কার্টন সিগারেট এবং ৫ দশমিক ৮ কেজি গৌরী ক্রিম।
একই ফ্লাইটে আসা Khorshed Alom-এর ব্যাগেজ থেকে ১৮৮ কার্টন সিগারেট জব্দের কথা জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা।
এ ছাড়া Mst Rabeya Begum-এর ব্যাগেজ থেকে ৮৮ কার্টন সিগারেট ও ১২ কেজি নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম এবং Md Golap-এর ব্যাগেজ থেকে আরও ৯ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়।
সব মিলিয়ে কলম্বো-ঢাকা ফ্লাইটের পাঁচ যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ৫৯৫ কার্টন সিগারেট ও ২৪ দশমিক ২ কেজি গৌরী ক্রিম পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
একই দিনে আরেক অভিযানে Air India-এর AI2183 (Mumbai–Dhaka) ফ্লাইটে আসা এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, Mubarak Hossain-এর ব্যাগেজ স্ক্যান ও তল্লাশি করে ১০ লিটার Black Label ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় পণ্যগুলোর বৈধ আমদানি, বহনের অনুমোদিত সীমা এবং প্রযোজ্য শুল্ক ও অন্যান্য বিধিবিধানের বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হবে।
দুই ফ্লাইটে পরিচালিত অভিযানে জব্দ পণ্যের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৩৪ লাখ টাকা।
এর মধ্যে রয়েছে ৫৯৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট, ২৪ দশমিক ২ কেজি নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম এবং ১০ লিটার বিদেশি মদ।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী জব্দ করা পণ্যের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবৈধ বা নিয়ন্ত্রিত পণ্য শনাক্তে যাত্রী প্রোফাইলিং, ব্যাগেজ স্ক্যানিং এবং গোয়েন্দা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ক্ষেত্রেও গোপন তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের ব্যাগেজ আলাদাভাবে স্ক্যান ও তল্লাশি করা হয় বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের বহন করা সিগারেট, অ্যালকোহল, স্বর্ণসহ বিভিন্ন শুল্কযোগ্য বা নিয়ন্ত্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচলিত ব্যাগেজ ও কাস্টমস বিধি অনুসরণ করতে হয়।
বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরার সময় কোনো পণ্য সঙ্গে আনার আগে সেটি দেশে আনা বৈধ কি না, কত পরিমাণ পর্যন্ত অনুমোদিত এবং শুল্ক বা ঘোষণা প্রয়োজন কি না—এসব বিষয় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
অন্য কারও অনুরোধে অজানা প্যাকেট, ব্যাগ বা পণ্য বহন করাও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ব্যাগেজে থাকা পণ্যের বিষয়ে বিমানবন্দরে যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
একইভাবে বিদেশ থেকে আনা প্রসাধনী, ওষুধ, অ্যালকোহল, তামাকজাত পণ্য বা অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত সামগ্রীর ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ব্যবহারের অনুমোদিত সীমা ও বাণিজ্যিক পরিমাণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন তথ্য, যাত্রী প্রোফাইলিং এবং নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য প্রবেশ প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে ব্যাগেজ থেকে কোনো পণ্য জব্দ হওয়ার ঘটনা নিজে থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে না। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তদন্ত, কাস্টমস প্রক্রিয়া ও আইনগত কার্যক্রমের মাধ্যমেই দায় নির্ধারিত হবে।
সূত্র: কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID)
মন্তব্য করুন