এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বাংলাদেশিসহ বিদেশি পর্যটকদের জন্য থাইল্যান্ড ভ্রমণের খরচ আরও বাড়তে পারে। দেশটির সরকার বিদ্যমান বিমানবন্দর সেবা ফির পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের ওপর নতুন প্রবেশ ফি এবং দেশত্যাগের সময় অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবিত দুটি নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে যোগ্য একজন বিদেশি বিমানযাত্রীকে তিন ধরনের ফি ও কর মিলিয়ে ২ হাজার ৫৭০ থাই বাত (প্রায় ৯ হাজার ৪০৬ টাকা) পরিশোধ করতে হতে পারে।
তবে থাই গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি চার্জের মধ্যে বর্তমানে শুধু বর্ধিত বিমানবন্দর সেবা ফি কার্যকর রয়েছে। বাকি দুটি প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনা ও অনুমোদনের অপেক্ষায়।
থাইল্যান্ডের বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারপোর্টস অব থাইল্যান্ড (AOT) গত ২০ জুন ২০২৬ থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে দেশত্যাগকারী যাত্রীদের প্যাসেঞ্জার সার্ভিস চার্জ (PSC) ৭৩০ বাত থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১২০ বাত করেছে।
ফলে থাইল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেশত্যাগকারী যাত্রীদের জন্য এই বাড়তি ব্যয় ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।
থাইল্যান্ডের পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আকাশপথে আগত যোগ্য বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪৫০ বাত ফি আদায়ের প্রস্তাব করেছে। তবে স্থল ও সমুদ্রপথে আগত পর্যটকদের ক্ষেত্রে এই ফি আদায় এক বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ২৪ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত অনলাইন জনমত গ্রহণে অংশগ্রহণকারীদের ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ খসড়া প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন। পাশাপাশি ৭৮ দশমিক ৩ শতাংশ প্রস্তাবিত ফির পরিমাণ সমর্থন করেছেন।
থাই পর্যটনমন্ত্রী সুরাসাক ফানচারোয়েনওরাকুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে এই ফি কার্যকর হতে পারে।
এই অর্থ দেশটির পর্যটন উন্নয়ন তহবিলে জমা হবে। এর একটি অংশ ফি প্রদানকারী পর্যটকদের মৃত্যু ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিমা সুবিধায় এবং অবশিষ্ট অর্থ পর্যটন গন্তব্যের উন্নয়ন, পুনরুদ্ধার ও টেকসই পর্যটন কার্যক্রমে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে থাইল্যান্ডের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজস্ব বিভাগ আকাশপথে দেশত্যাগকারী সব দেশের নাগরিকের জন্য নতুন কর আরোপের প্রস্তাব করেছে।
প্রস্তাবিত ডিপারচার ট্যাক্স অ্যাক্ট অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে প্রতিবার আকাশপথে দেশত্যাগের সময় ১ হাজার বাত কর দিতে হতে পারে। এই কর থাই নাগরিকসহ সব জাতীয়তার যাত্রীর জন্য প্রযোজ্য হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে করের সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার বাত নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে স্থল ও সমুদ্রপথে দেশত্যাগকারীদের এই করের আওতার বাইরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া প্রস্তাবটির ওপর জনমত গ্রহণ চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। অনুমোদন পেলে এয়ারলাইনস অথবা টিকিট বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর আদায় করা হতে পারে।
তবে অ্যাসোসিয়েশন অব থাই ট্রাভেল এজেন্টস এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। সংগঠনটির যুক্তি, বিমানযাত্রীদের ইতোমধ্যেই বিমানবন্দর ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন চার্জ দিতে হচ্ছে।
৮ অক্টোবরের আনুমানিক বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি থাই বাতের মূল্য ৩ টাকা ৬৬ পয়সা ধরে সম্ভাব্য খরচের হিসাব দাঁড়ায়—
বিমানবন্দর সেবা ফি (কার্যকর): ১,১২০ বাত বা প্রায় ৪,০৯৯ টাকা।
বিদেশি পর্যটক ফি (প্রস্তাবিত): ৪৫০ বাত বা প্রায় ১,৬৪৭ টাকা।
দেশত্যাগ কর (প্রস্তাবিত): ১,০০০ বাত বা প্রায় ৩,৬৬০ টাকা।
সব মিলিয়ে তিন ধরনের চার্জ প্রযোজ্য হলে একজন যোগ্য বিদেশি বিমানযাত্রীর মোট ব্যয় হতে পারে ২ হাজার ৫৭০ বাত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ৪০৬ টাকা।
তবে এই অর্থের পুরোটাই নতুন অতিরিক্ত ব্যয় নয়। এর মধ্যে ১ হাজার ১২০ বাত বিমানবন্দর সেবা ফি ইতোমধ্যে কার্যকর রয়েছে। নতুন দুটি প্রস্তাব অনুমোদিত হলে বিদ্যমান ফির সঙ্গে আরও ১ হাজার ৪৫০ বাত যোগ হতে পারে।
থাইল্যান্ড বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে চিকিৎসা, অবকাশযাপন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণের একটি পরিচিত গন্তব্য। নতুন ফি ও কর কার্যকর হলে বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীদের মোট ব্যয় বাড়তে পারে।
তবে প্রস্তাবিত পর্যটক ফির আওতায় কারা পড়বেন, কবে থেকে এটি কার্যকর হবে এবং দেশত্যাগ করের চূড়ান্ত হার কত হবে—এসব বিষয় এখনো নিশ্চিত নয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত প্রস্তাবিত দুটি চার্জকে কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
সূত্র: থাই গণমাধ্যমের প্রতিবেদন; থাইল্যান্ডের পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, রাজস্ব বিভাগ এবং এয়ারপোর্টস অব থাইল্যান্ড (AOT) সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য।
মন্তব্য করুন