এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনালে আগামী ১৬ ডিসেম্বর সীমিত পরিসরে যাত্রীসেবা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিজয় দিবসে ঢাকা–নারিতা রুটের একটি প্রতীকী ফ্লাইটের মাধ্যমে নতুন টার্মিনালের কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা রয়েছে। একই দিনে অন্তত ১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, উদ্বোধনের দিন যাত্রীরা তৃতীয় টার্মিনালেই check-in, immigration ও baggage handlingসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। শুরুতে দুই থেকে তিনটি boarding bridge এবং baggage handling ব্যবস্থার একটি অংশ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কার্যক্রম স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
এর আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ১৬ ডিসেম্বর আংশিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য এবং প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০টি ফ্লাইট পরিচালনার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। ফলে প্রথম দিনের সুনির্দিষ্ট ফ্লাইট সংখ্যা এখনো প্রস্তুতি ও অপারেশনাল সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।
জাপান তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হওয়ায় উদ্বোধনী দিনে ঢাকা–নারিতা ফ্লাইটকে প্রতীকীভাবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামকে টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। কনসোর্টিয়ামটি গত ২৫ আগস্ট CAAB-এর কাছে তাদের technical ও financial proposal জমা দিয়েছে।
১৬ ডিসেম্বরের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে Operation and Maintenance (O&M) agreement চূড়ান্ত করা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, CAAB অক্টোবরের শেষ নাগাদ জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে। আলোচনায় CAAB-এর জন্য ২৭ শতাংশ revenue share-এর বিষয়ে সমঝোতার কথাও প্রকাশিত হয়েছে।
প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার বর্গমিটারের তৃতীয় টার্মিনালে ১১৫টি check-in counter, ৬৬টি departure ও ৫৯টি arrival immigration desk, ১২টি boarding bridge এবং ১২টি baggage conveyor belt রয়েছে। পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এটি শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে টার্মিনালটির আনুষ্ঠানিক soft opening হলেও তখন যাত্রীসেবা শুরু হয়নি। এবার ১৬ ডিসেম্বরের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রথমবারের মতো নতুন টার্মিনালের অবকাঠামো ব্যবহার করে বাস্তব যাত্রী ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হবে। তবে ঢাকা–নারিতা প্রতীকী ফ্লাইটসহ উদ্বোধনী দিনের চূড়ান্ত অপারেশন পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভর করবে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
মন্তব্য করুন