২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে দেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার ইউনাইটেড কনভেনশন হলে বণিক বার্তা আয়োজিত এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা, নীতিগত সংস্কার ও আগামীর করণীয়বিষয়ক পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
মন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের জন্য সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে বিমানবন্দরগুলোকে দেশের প্রবেশদ্বার ও রাষ্ট্রের ‘আয়না’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অবকাঠামোর পরিকল্পিত উন্নয়নে এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রায় ৪২ বছর পর Civil Aviation Rules-1984 সংশোধন করে নতুন Civil Aviation Rules-2026 প্রণয়ন করা হচ্ছে। নতুন বিধিমালা ব্যবসা ও বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব করার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হবে।
এয়ারলাইনসগুলোর প্রতিনিধিদের দেশের এভিয়েশন খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ সহজীকরণের লক্ষ্যে নতুন বিধিমালা প্রণয়নে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর সুবিধা বিবেচনায় বিমান রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত বিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (MRO) কার্যক্রমের জটিলতা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দেশের এভিয়েশন খাতে যাত্রী হয়রানি কমানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সেবার মানোন্নয়নে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা বাড়াতে আন্তর্জাতিক মানের Maintenance, Repair and Overhaul (MRO) Unit স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, এভিয়েশন খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। বিমানবন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা এবং এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মন্তব্য করুন