এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া এসএমএস ও লিংকের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতারক চক্র। এমন প্রতারণা থেকে বিদেশগমনেচ্ছু বাংলাদেশিদের সতর্ক করেছে সরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সম্প্রতি কিছু প্রতারক ব্যক্তিগত বা অবৈধ মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে বিদেশগমনেচ্ছু প্রার্থীদের কাছে এসএমএস পাঠাচ্ছে। এসব বার্তায় বিভিন্ন লিংক দিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বোয়েসেল স্পষ্ট করেছে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পাঠানো এসএমএস শুধু “BOESL” নামেই আসে। কোনো ব্যক্তিগত বা সাধারণ মোবাইল নম্বর থেকে চাকরি, নিবন্ধন, প্রার্থী নির্বাচন কিংবা অর্থ পরিশোধের জন্য লিংক পাঠানো হয় না।
বোয়েসেলের সতর্কবার্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এসএমএস প্রেরকের পরিচয়।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বোয়েসেলের অফিসিয়াল এসএমএস প্রার্থীর মোবাইলে “BOESL” Sender ID থেকে পাঠানো হয়।
ফলে অপরিচিত ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে কেউ বোয়েসেলের পরিচয় দিয়ে চাকরির আবেদন, নিবন্ধন, নির্বাচিত হওয়ার তথ্য বা টাকা পরিশোধের লিংক পাঠালে সেটি নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষ করে ‘দ্রুত টাকা না দিলে চাকরি বাতিল’, ‘আজকের মধ্যেই পেমেন্ট করুন’ কিংবা ‘এই লিংকে প্রবেশ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন’—এ ধরনের চাপ সৃষ্টি করা বার্তা পেলে যাচাই ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।
প্রতারকরা অনেক সময় এমন ওয়েব ঠিকানা ব্যবহার করতে পারে, যা দেখতে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের মতো মনে হয়।
এসব লিংকে প্রবেশের পর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, মোবাইল নম্বর, ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য চাওয়া হতে পারে। আবার সরাসরি অর্থ পরিশোধের নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।
এ কারণে শুধু এসএমএসে বোয়েসেলের নাম বা লোগো দেখা গেলেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া নিরাপদ নয়।
চাকরির বিজ্ঞপ্তি, আবেদন প্রক্রিয়া, নির্বাচিত প্রার্থীর তথ্য কিংবা অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা বোয়েসেলের অফিসিয়াল মাধ্যমে মিলিয়ে দেখা জরুরি।
বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রার্থীরা অনেক সময় ভিসা, মেডিকেল, বিমান টিকিট, প্রশিক্ষণ বা অন্যান্য প্রক্রিয়ার জন্য অর্থ প্রদান করেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা ভুয়া পেমেন্ট লিংক বা ব্যক্তিগত নম্বরে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দিতে পারে।
বোয়েসেলের নামে কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর বা সন্দেহজনক অনলাইন লিংকের মাধ্যমে অর্থ চাইলে যাচাই ছাড়া টাকা পাঠানো উচিত নয়।
অর্থ প্রদানের প্রয়োজন হলে সেটি কোন খাতে নেওয়া হচ্ছে, নির্ধারিত ফি কত এবং কোন অনুমোদিত মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে—এসব তথ্য আগে নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতারকরা বিদেশে চাকরির জন্য আবেদনকারী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ‘আপনি নির্বাচিত হয়েছেন’, ‘আপনার ভিসা অনুমোদিত হয়েছে’ বা ‘আপনার ফ্লাইট নিশ্চিত করতে টাকা দিন’—এ ধরনের বার্তা পাঠাতে পারে।
কোনো প্রার্থী বাস্তবে বিদেশে চাকরির জন্য আবেদন করে থাকলে এমন বার্তা আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে।
তাই নির্বাচিত হওয়ার তথ্য পেলেও সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রার্থীর তথ্য এবং পরবর্তী নির্দেশনা অফিসিয়াল উৎস থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতারণা শুধু অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। সন্দেহজনক লিংকের মাধ্যমে পাসপোর্টের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টাও হতে পারে।
এ ধরনের তথ্য পরবর্তী সময়ে পরিচয় জালিয়াতি বা অন্য প্রতারণায় ব্যবহারের ঝুঁকি থাকে।
তাই অপরিচিত কোনো লিংকে পাসপোর্ট বা ব্যক্তিগত নথি আপলোড করার আগে সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মাধ্যম কি না নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বোয়েসেল বিদেশগমনেচ্ছু প্রার্থীদের অপরিচিত নম্বর থেকে আসা এসএমএস, সন্দেহজনক লিংক এবং অর্থ প্রদানের অনুরোধে সাড়া না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কোনো বার্তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে প্রথমে অফিসিয়াল উৎস থেকে তথ্য যাচাই করাই নিরাপদ।
একইভাবে বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, চাকরির পদ, বেতন, চুক্তিপত্র, ভিসার ধরন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বিদেশে চাকরির সুযোগ হারিয়ে যাবে—এমন ভয় দেখিয়ে কেউ দ্রুত টাকা দিতে বললেও যাচাই ছাড়া অর্থ লেনদেন করা উচিত নয়।
সরকারি প্রতিষ্ঠানটির সতর্কবার্তার মূল বক্তব্য পরিষ্কার—বোয়েসেলের এসএমএস “BOESL” নামেই আসে; ব্যক্তিগত বা সাধারণ মোবাইল নম্বর থেকে পাঠানো চাকরি বা পেমেন্টের লিংকে সাড়া দেওয়ার আগে অবশ্যই যাচাই করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)
মন্তব্য করুন