aviation
প্রকাশিত: 1 October 2026, 11:36:14 Pm
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের মধ্যে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি সই

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের মধ্যে কূটনৈতিক, অফিসিয়াল ও সার্ভিস পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতি সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে চুক্তিতে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী এসব পাসপোর্টধারী দুই দেশের মধ্যে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান এবং আজারবাইজানের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেহুন বায়রামভ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

কারা পাবেন ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা

চুক্তিটি সব বাংলাদেশি বা আজারবাইজানি নাগরিকের জন্য সাধারণ ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা নয়। এটি নির্দিষ্ট তিন ধরনের পাসপোর্টধারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—কূটনৈতিক, অফিসিয়াল ও সার্ভিস পাসপোর্ট।

অর্থাৎ সাধারণ বা Ordinary Passport ব্যবহারকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের আজারবাইজান ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই চুক্তির কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা অব্যাহতি মিলবে না।

একইভাবে সাধারণ পাসপোর্টধারী আজারবাইজানি নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রেও এই নির্দিষ্ট চুক্তিকে সাধারণ ভিসামুক্ত সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পাসপোর্টধারীরা এতে নির্ধারিত মেয়াদ, প্রবেশ ও অবস্থানসংক্রান্ত শর্ত অনুসরণ করে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারবেন।

সরকারি সফর সহজ করতে পারে নতুন ব্যবস্থা

কূটনৈতিক ও সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বিদেশ সফরে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত ভ্রমণের প্রয়োজন হয়। আগে থেকে ভিসা সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা থাকলে সরকারি বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা কিংবা জরুরি দায়িত্বে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

ভিসা অব্যাহতি কার্যকর হলে দুই দেশের যোগ্য সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের সফরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।

বিশেষ করে উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি দল, কূটনীতিক এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ভ্রমণকারী কর্মকর্তাদের যাতায়াত সহজ করার মাধ্যমে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ-আজারবাইজান যোগাযোগে নতুন মাত্রা

বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে যোগাযোগ রয়েছে। নতুন ভিসা অব্যাহতি চুক্তিকে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ সহজ করার আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হলে সরকারি প্রতিনিধি দলের সফর, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ আরও সহজ হতে পারে।

একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা ও অন্যান্য সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধিতেও এ ধরনের ব্যবস্থা সহায়ক হতে পারে।

বিমান ভ্রমণেও রয়েছে গুরুত্ব

ভিসা অব্যাহতি মূলত একটি কূটনৈতিক ও অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা হলেও আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রেও এর প্রত্যক্ষ গুরুত্ব রয়েছে।

কোনো যাত্রী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ওঠার আগে গন্তব্য দেশের প্রবেশের শর্ত পূরণ করছেন কি না, তা যাচাই করা ভ্রমণ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের যোগ্য কূটনৈতিক, অফিসিয়াল ও সার্ভিস পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে ভিসা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হবে।

তবে ভিসা অব্যাহতি মানেই সীমাহীন সময় অবস্থানের অনুমতি নয়। কতদিন ভিসা ছাড়া থাকা যাবে, কোন উদ্দেশ্যে এই সুবিধা ব্যবহার করা যাবে এবং প্রবেশের ক্ষেত্রে অন্য কোনো শর্ত প্রযোজ্য হবে কি না—এসব বিষয় চুক্তির কার্যকর বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

সাধারণ পাসপোর্টধারীদের জন্য নয়

বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন ব্যবস্থাটি সাধারণ পাসপোর্টধারীদের ভিসামুক্ত আজারবাইজান ভ্রমণের ঘোষণা নয়।

কেবল কূটনৈতিক, অফিসিয়াল ও সার্ভিস পাসপোর্টধারীরা চুক্তিতে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী এই সুবিধা পাবেন।

এ ছাড়া চুক্তি স্বাক্ষর এবং বাস্তবে ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা কার্যকর হওয়ার তারিখ এক নাও হতে পারে। সাধারণত এ ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও পারস্পরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

তাই সংশ্লিষ্ট পাসপোর্টধারীদের ভ্রমণের আগে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে কি না এবং অবস্থানের সর্বোচ্চ মেয়াদসহ কী কী শর্ত প্রযোজ্য—তা বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা থেকে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও আজারবাইজান আশা করছে, নতুন এই চুক্তি দুই দেশের কূটনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ সহজ করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদারে ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এয়ারলাইন্সগুলোর তালিকায় এমিরেটস

1

আগামী সপ্তাহে চালু হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিন

2

থার্ড টার্মিনাল চালুর সমঝোতায় এখনও জট, লক্ষ্য ১৬ ডিসেম্বর

3

বিমানে ২৫ বৈমানিকের পদোন্নতি ও পদায়ন, থাকছে প্রশিক্ষণসহ নানা

4

শাহ আমানত বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ২০৭০ সালের মাস্টারপ্ল্যান,

5

বারবার নিষেধ, তবু ভিড়; বাধা দিলেই হুমকি’, শাহজালালে বাড়ছে বি

6

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে আগুন, নিরাপদে সরানো

7

রাজশাহী-ঢাকা আকাশপথে ফ্লাইট সংকট, বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি

8

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এভিয়েশন সক্ষমতার উজ্জ্বল প্রতি

9

২০২৭ সালে বাণিজ্যিক উড়াল দিতে পারে ইরানের দেশীয় কার্গো বিমান

10

হায়াত প্লেস ঢাকা উত্তরায় ১০ দিনের সি-ফুড উৎসব শুরু ৬ আগস্ট

11

চার্টার্ড ফ্লাইট কী, বাংলাদেশে কীভাবে ভাড়া করবেন—জেনে নিন পু

12

শাহ মখদুম বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা, বাড়ছ

13

রানওয়ের শেষ প্রান্তে গিয়ে উড়ল ভিয়েতনাম এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭

14

বিদেশি এয়ারলাইনসের আধিপত্যের নেপথ্যে দেশীয় সংস্থার দুর্বলতা:

15

পুরো প্রকল্পে ১৪,৮২৪টি আইটেম, একটি আইটেমের দাম নিয়ে বিভ্রান্

16

১৩ নভেম্বর থেকে ঢাকা–চেন্নাই রুটে সপ্তাহে ৫ ফ্লাইট চালাবে ইউ

17

শাহজালালে যাত্রীর পায়ুপথে লুকানো তিনটি ‘স্বর্ণের ডিম’ উদ্ধার

18

কম্বোডিয়ার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফ

19

রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধে ৯টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত, ভোগান্তির মুখ

20