এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত এবং বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড অপারেশনের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আধুনিক গ্রাউন্ড সাপোর্ট সরঞ্জাম সংযোজনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যানবাহন চালুর উদ্যোগও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড সার্ভিসের দক্ষতা বৃদ্ধি, উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কমানো এবং যাত্রীদের দ্রুত ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করাই এ বিনিয়োগের অন্যতম লক্ষ্য।
বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৫৯০টি গ্রাউন্ড সাপোর্ট সরঞ্জাম পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আরও ১৪৬টি আধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন সরঞ্জামগুলো যুক্ত হলে সংস্থাটির গ্রাউন্ড অপারেশনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজ পুশব্যাক ট্রাক্টর, ব্যাগেজ বেল্ট লোডার, লাগেজ পরিবহনের ট্রাক্টর, যাত্রী ওঠানামার সিঁড়ি, গ্রাউন্ড পাওয়ার ইউনিট (জিপিইউ), ক্যাটারিং ট্রাক এবং বিভিন্ন ধরনের আধুনিক র্যাম্প সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট। এসব সরঞ্জাম উড়োজাহাজের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম দ্রুত ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।
গ্রাউন্ড অপারেশনে জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮০টি বৈদ্যুতিক যানবাহন চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব যানবাহন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চার্জিং অবকাঠামো স্থাপনের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, প্রচলিত জ্বালানিচালিত যানবাহনের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো গেলে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ পরিবহন কার্যক্রমে জ্বালানি খরচ ও কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব বিমানবন্দর পরিচালনার আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা যাবে।
গ্রাউন্ড অপারেশন আধুনিকায়নের পাশাপাশি উড়োজাহাজের বহর সম্প্রসারণেও বড় পরিকল্পনা নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।
বর্তমানে সংস্থাটির বহরে ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ২১টি বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সংস্থাটির বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের মাধ্যমে বিদ্যমান রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এর বাইরে নতুন করে আরও ১৬টি আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
আন্তর্জাতিক রুট ও উড়োজাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, ফ্লাইট পরিচালনা এবং কারিগরি সহায়তার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেটে শক্তিশালী আঞ্চলিক পরিচালন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ফ্লাইট পরিচালনা, গ্রাউন্ড সাপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে সমন্বয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে ইউএস-বাংলা।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস জানিয়েছে, আধুনিক গ্রাউন্ড সাপোর্ট সরঞ্জাম, প্রযুক্তিনির্ভর পরিচালনব্যবস্থা এবং দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের গ্রাউন্ড অপারেশন আরও দ্রুত ও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
বিশেষ করে লাগেজ ওঠানো-নামানো, যাত্রী পরিবহন, উড়োজাহাজের পরবর্তী ফ্লাইটের প্রস্তুতি এবং এপ্রোন এলাকায় বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমের সমন্বয় উন্নত হলে ফ্লাইট বিলম্ব কমানো ও সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা সহজ হবে।
সংস্থাটির প্রত্যাশা, এ বিনিয়োগের মাধ্যমে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল খাতে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের বিমান চলাচল খাতের সামগ্রিক উন্নয়নেও অবদান রাখতে চায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।
সূত্র: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
মন্তব্য করুন