এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
অস্ট্রিয়ায় আকাশে দুটি ছোট উড়োজাহাজের সংঘর্ষে দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে দেশটির Lower Austria অঞ্চলের Krems-Gneixendorf বিমানক্ষেত্রের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর উড়োজাহাজ দুটি কাছাকাছি আঙুর বাগানে বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়।
স্থানীয় পুলিশ ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টা ১৫ মিনিটে মাটি থেকে আনুমানিক ৩৫০ মিটার উচ্চতায় দুটি ultralight aircraft-এর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে উড়োজাহাজ দুটির ধ্বংসাবশেষ বিমানক্ষেত্রের উত্তরে Wachau অঞ্চলের আঙুর বাগানে ছড়িয়ে পড়ে।
অস্ট্রিয়ান পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় দুই উড়োজাহাজের দুই পাইলটই নিহত হয়েছেন। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ৩৬ ও ৭০ বছর। উড়োজাহাজ দুটিতে পাইলট ছাড়া অন্য কোনো যাত্রী ছিলেন না।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে একটি ultralight aircraft একটি glider-কে আকাশে তোলার জন্য towing operation পরিচালনা করছিল। নির্ধারিত উচ্চতায় পৌঁছানোর পর gliderটি নিরাপদে বিচ্ছিন্ন হয় এবং পরে অবতরণ করে।
এরপর towing aircraftটি বিমানক্ষেত্রে ফিরে আসছিল। একই সময়ে আরেকটি ultralight aircraft বিমানক্ষেত্র থেকে উড্ডয়ন করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই পর্যায়েই দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা হয়নি।
আকাশে সংঘর্ষের পর দুটি উড়োজাহাজই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে যায় এবং আগুন ধরে যায়। ধ্বংসাবশেষ বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধার কার্যক্রমেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস, প্যারামেডিক ও পুলিশসহ প্রায় ১৬০ জন জরুরি বিভাগের কর্মী মোতায়েন করা হয়। আগুন ও ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে পানি ব্যবহার করেন অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা।
স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজে থাকা Ballistic Parachute Rescue System সক্রিয় হয়েছে কি না, তা প্রথমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ধরনের ব্যবস্থায় প্যারাশুট দ্রুত বের করার জন্য pyrotechnic বা বিস্ফোরকজাতীয় চার্জ থাকতে পারে। ফলে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসাবশেষের কাছে যাওয়ার আগে বাড়তি সতর্কতা নেন।
দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে অস্ট্রিয়ার Landeskriminalamt তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি দেশটির Federal Safety Investigation Authority-ও প্রযুক্তিগত তদন্তে যুক্ত হয়েছে।
তদন্তে দুটি উড়োজাহাজের উড্ডয়নপথ, সংঘর্ষের আগের অবস্থান, পাইলটদের যোগাযোগ, আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজগুলোর প্রযুক্তিগত অবস্থা যাচাই করা হতে পারে।
বিশেষ করে বিমানক্ষেত্রের কাছাকাছি একই সময়ে একটি উড়োজাহাজ অবতরণের জন্য ফিরে আসা এবং অন্যটির উড্ডয়নের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে। তবে পাইলটের ভুল, কারিগরি ত্রুটি বা অন্য কোনো বিষয় দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ছিল কি না—এ বিষয়ে এখনো কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
তদন্ত ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই আকাশে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
সূত্র: অস্ট্রিয়ান পুলিশ, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও Federal Safety Investigation Authority
মন্তব্য করুন