এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
মাত্র দুটি উড়োজাহাজ নিয়ে শুরু হয়েছিল যাত্রা। আজ ১২ বছর পর সেই ছোট্ট উদ্যোগই পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিমান সংস্থায়। বহর, গন্তব্য, যাত্রী পরিবহন, আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সব ক্ষেত্রেই এখন দেশের অন্যান্য বেসরকারি এয়ারলাইন্সকে ছাড়িয়ে গেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা-যশোর রুটে একটি ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তখন খুব কম মানুষই ধারণা করেছিলেন, এক দশকের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই ইউএস-বাংলা দেশের বেসরকারি বিমান চলাচলের সবচেয়ে বড় নাম হয়ে উঠবে।
বর্তমানে ইউএস-বাংলার বহরে রয়েছে ২৫টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ৩টি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০, ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, ১০টি এটিআর ৭২-৬০০ এবং ৩টি ড্যাশ-৮ কিউ৪০০। বহরের আকারের দিক থেকে এটি এখন দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি এয়ারলাইন।
দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সৈয়দপুর ও রাজশাহীতে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং চীনের বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা।
বাংলাদেশের বেসরকারি এভিয়েশন শিল্পে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ইউএস-বাংলা ধীরে ধীরে নিজেদের একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং চিকিৎসাসেবাগ্রহণকারী যাত্রীদের কাছে প্রতিষ্ঠানটি একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে। সাশ্রয়ী ভাড়া, বহুমুখী রুট এবং ধারাবাহিক ফ্লাইট পরিচালনার কারণে যাত্রীদের আস্থা অর্জন করেছে তারা।
প্রতিষ্ঠার এক যুগ পূর্তিতে ইউএস-বাংলা আরও বড় পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে বহরে যুক্ত হবে আরও ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ। এর মধ্যে থাকবে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ নেক্সট জেনারেশন।
একই সময়ে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কলম্বো, মালয়েশিয়ার জহুরবারু, পেনাং ও হংকংয়ে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া ২০২৮ সালের মধ্যে লন্ডন, রোমসহ ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্য এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক, টরন্টো ও অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ফ্লাইট পরিচালনার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউএস-বাংলার সম্প্রসারণ শুধু একটি এয়ারলাইন্সের ব্যবসায়িক সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের সক্ষমতারও প্রতিফলন।
প্রতিদিন হাজারো যাত্রী পরিবহন, হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান, পর্যটন খাতের বিকাশ, বৈদেশিক কর্মসংস্থানে সহায়তা এবং দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির মতো কঠিন সময়েও ইউএস-বাংলা বহর সম্প্রসারণ এবং নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি। বরং সংকট কাটিয়ে পুনরুদ্ধারের পথেই এগিয়েছে।
যেকোনো বড় প্রতিষ্ঠানের মতো ইউএস-বাংলাকেও নানা সময়ে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে প্রতিদিন শত শত ফ্লাইট পরিচালনা করে হাজারো যাত্রীকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া, নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্স হিসেবে অবস্থান শক্তিশালী করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রতিষ্ঠানটিকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
প্রতিটি সফল ফ্লাইটের পেছনে কাজ করেন পাইলট, কেবিন ক্রু, প্রকৌশলী, অপারেশনস, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও কাস্টমার সার্ভিস বিভাগের অসংখ্য কর্মী। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই ইউএস-বাংলার সাফল্যের ভিত্তি।
বাংলাদেশের আকাশপথে যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র দুটি উড়োজাহাজ দিয়ে। এক যুগের ব্যবধানে ইউএস-বাংলা শুধু দেশের বৃহত্তম বেসরকারি এয়ারলাইন্সেই পরিণত হয়নি, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিতেও পরিণত হয়েছে।
বহর সম্প্রসারণ, নতুন গন্তব্য, আধুনিক উড়োজাহাজ সংযোজন এবং আন্তমহাদেশীয় রুট চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে ইউএস-বাংলা শুধু দেশীয় নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি এয়ারলাইন্স হিসেবেও নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।
সূত্র: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স
মন্তব্য করুন