এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী যাত্রীদের ভ্রমণ নথি যাচাইয়ের সময় জাল ও অসংগতিপূর্ণ ভিসা শনাক্ত হওয়ার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের বহু যাত্রী শেষ পর্যন্ত কুয়ালালামপুর যেতে পারেননি। সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—বোর্ডিং পাস সংগ্রহের পরও ৬১ যাত্রী বোর্ডিং গেটে উপস্থিত হননি বলে দাবি করেছে বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র।
শনিবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের BG386 ফ্লাইট ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর যাওয়ার আগে এ ঘটনা ঘটে। ফ্লাইটটির নির্ধারিত উড্ডয়ন সময় ছিল রাত ৮টা ৩৫ মিনিট।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, যাত্রীদের travel document যাচাইয়ের সময় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রথমে ১০ জনকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। পরে boarding gate-এ আরও পাঁচ যাত্রীর ভিসা ও পাসপোর্টের তথ্যে অসংগতি পাওয়া যায়। তাদের ভিসার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠায় ওই পাঁচজনকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি।
এরপর অন্য যাত্রীদের কাগজপত্র আরও নিবিড়ভাবে যাচাই শুরু হলে boarding pass নেওয়া ৬১ যাত্রী আর boarding gate-এ আসেননি বলে বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এই ৬১ যাত্রীকে ঘিরে।
বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তারা ইতোমধ্যে boarding pass সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু জাল ও অসংগতিপূর্ণ visa document শনাক্ত হওয়ার পর যাচাই জোরদার করা হলে তাদের আর boarding gate-এ পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অতিরিক্ত document verification-এর মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় তারা বিমানবন্দর ত্যাগ করে থাকতে পারেন।
তবে কেন তারা ফ্লাইটে ওঠেননি, সত্যিই বিমানবন্দর ত্যাগ করেছিলেন কি না কিংবা তাদের প্রত্যেকের travel document-এ কোনো সমস্যা ছিল কি না—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফলে ৬১ জনই জাল ভিসা ব্যবহার করছিলেন বা মানবপাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীদের প্রথম পর্যায়ের যাচাইয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ১০ জনকে offload করে।
অর্থাৎ তাদের ওই ফ্লাইটে দেশত্যাগের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এরপর boarding process চলাকালে আরও পাঁচ যাত্রীর passport ও visa information-এর মধ্যে অসংগতি ধরা পড়ে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের উপস্থাপিত visa document-এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় ওই পাঁচজনকেও aircraft-এ উঠতে দেওয়া হয়নি।
এ পর্যায়ে অন্য যাত্রীদের travel documents আরও সতর্কতার সঙ্গে যাচাই শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ জনকে প্রথমে offload, পাঁচজনকে boarding gate-এ আটকে দেওয়া এবং boarding pass নেওয়ার পর ৬১ জন অনুপস্থিত থাকার হিসাব যোগ করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৬ জন।
অন্যদিকে আরেকটি তথ্যে বলা হয়েছে, ফ্লাইটটিতে ২৬৩ জনের ভ্রমণের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২১২ জন নিয়ে aircraft ঢাকা ছেড়েছে।
এই দুটি সংখ্যার মধ্যে অসংগতি রয়েছে।
কারণ ২৬৩ থেকে ২১২ বাদ দিলে পার্থক্য হয় ৫১ জন, ৭৬ জন নয়।
ফলে flight manifest, check-in record এবং final passenger count-এর আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া ঠিক কতজন যাত্রী ওই ফ্লাইটে শেষ পর্যন্ত যেতে পারেননি, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তবে ইমিগ্রেশনে ১০ জন, boarding gate-এ পাঁচজন এবং boarding pass সংগ্রহের পর ৬১ জন অনুপস্থিত থাকার তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আলাদাভাবে জানিয়েছে।
বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আলোচিত যাত্রীরা মালয়েশিয়ার tourist visa নিয়ে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
তাদের একটি অংশের প্রকৃত উদ্দেশ্য পর্যটন ছিল কি না, সেটি নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কিছু যাত্রী travel agency বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে tourist visa নিয়ে মালয়েশিয়ায় গিয়ে সেখানে অবস্থান কিংবা কাজ করার পরিকল্পনা করে থাকতে পারেন।
তবে এ বিষয়ে কোনো তদন্তকারী সংস্থা এখনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি।
তাই সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের ‘শ্রমিক’, ‘অবৈধ অভিবাসী’ বা ‘মানবপাচারের শিকার’ হিসেবে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।
ঘটনাটি বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে।
কোনো দেশের tourist visa সাধারণত পর্যটন, স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ বা অনুমোদিত নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে প্রবেশের সুযোগ দেয়। এটি নিজে থেকে সেই দেশে চাকরি করার অনুমতি দেয় না।
বিদেশে কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম অনুযায়ী বৈধ work visa, work permit বা প্রয়োজনীয় employment authorisation থাকতে হয়।
ফলে কোনো ব্যক্তি tourist visa নিয়ে গিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে প্রবেশের চেষ্টা করলে গন্তব্য দেশের immigration authority তাকে প্রবেশে বাধা দিতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ফেরত পাঠানো বা অন্যান্য immigration action-ও হতে পারে।
Passport-এ visa থাকা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলেও সেটিই সব ক্ষেত্রে যাত্রার একমাত্র নিশ্চয়তা নয়।
Airline check-in এবং immigration clearance-এর সময় visa validity, passport information, travel purpose এবং প্রয়োজনীয় supporting documents যাচাই করা হতে পারে।
বিশেষ করে visa document-এর নাম, passport number বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের মধ্যে অসংগতি পাওয়া গেলে আরও verification প্রয়োজন হতে পারে।
কোনো document জাল বলে সন্দেহ হলে airline এবং immigration authority উভয় পর্যায়েই যাত্রা বন্ধ হতে পারে।
ঘটনাটিতে আরেকটি বিষয় সামনে এসেছে—boarding pass হাতে থাকা মানেই যাত্রী aircraft-এ উঠে গেছেন, এমন নয়।
Check-in সম্পন্ন হওয়ার পর একজন যাত্রী boarding pass পেতে পারেন। এরপরও তাকে immigration, security এবং শেষ পর্যায়ে boarding gate-এর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
শেষ পর্যন্ত aircraft-এ কে উঠেছেন, সেটি নিশ্চিত করতে airline-এর final passenger reconciliation গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে check-in করা কোনো যাত্রী boarding gate-এ উপস্থিত না হলে তার checked baggage aircraft-এ রয়েছে কি না, সেটিও operational security procedure অনুযায়ী বিবেচনায় আসে।
Tourist visa ব্যবহার করে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখানো মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের বিভিন্ন ঘটনায় একটি পরিচিত ঝুঁকি।
অসাধু মধ্যস্থতাকারীরা কখনো বৈধ tourist visa, আবার কখনো জাল বা পরিবর্তিত document ব্যবহার করে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে।
এ ধরনের ঘটনায় একজন যাত্রী নিজেও প্রতারণার শিকার হতে পারেন।
কেউ হয়তো বৈধ চাকরির আশ্বাসে অর্থ দিয়েছেন, কিন্তু তাকে work visa-এর পরিবর্তে tourist visa দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ জেনেশুনেও immigration rules এড়িয়ে বিদেশে গিয়ে কাজ করার চেষ্টা করতে পারেন।
দুটি পরিস্থিতি আইনগত ও তদন্তের দৃষ্টিতে এক নয়।
এ কারণেই সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের প্রত্যেকের পরিস্থিতি আলাদাভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র যাত্রীদের একটি অংশের travel agency-এর মাধ্যমে ভ্রমণ আয়োজনের কথা জানিয়েছে।
তবে কোন agency তাদের visa processing করেছে, কোনো agency অবৈধ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কি না কিংবা যাত্রীরা নিজেরাই visa সংগ্রহ করেছিলেন—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
ফলে তদন্ত ছাড়া কোনো travel agency-কে এ ঘটনার জন্য দায়ী করা সমীচীন নয়।
যদি সংগঠিতভাবে জাল visa document তৈরি বা tourist visa ব্যবহার করে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি শুধু immigration violation নয়; পরিস্থিতি অনুযায়ী fraud বা human trafficking investigation-এর বিষয়ও হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাল visa এবং সম্ভাব্য মানবপাচার ঠেকাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশগামী যাত্রীদের travel document verification জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষ করে tourist visa-এ বিদেশগামীদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও কাগজপত্রে অসংগতি দেখা দিলে বাড়তি যাচাই করা হচ্ছে।
তবে tourist visa নিয়ে ভ্রমণ করাই সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নয়। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বৈধভাবেই পর্যটন, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করা এবং অন্যান্য অনুমোদিত উদ্দেশ্যে বিদেশে যান।
মূল বিষয় হচ্ছে visa-এর শর্ত অনুযায়ী ভ্রমণ করা এবং সঠিক ও সত্য travel document ব্যবহার করা।
কর্মকর্তারা বিদেশগামী যাত্রীদের passport ও visa হাতে পাওয়ার পর নিজেরাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশেষ করে নাম, passport number, visa category, validity এবং permitted purpose of travel ঠিক আছে কি না—সেগুলো নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বিদেশে চাকরির উদ্দেশ্যে গেলে tourist visa-এর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট দেশের বৈধ employment process অনুসরণ করা প্রয়োজন।
কোনো মধ্যস্থতাকারী ‘tourist visa-এ আগে যান, পরে work permit হয়ে যাবে’—এ ধরনের প্রস্তাব দিলে সেটি যাচাই না করে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এই ঘটনার সবচেয়ে অস্বাভাবিক অংশ হচ্ছে boarding pass সংগ্রহের পর বিপুলসংখ্যক যাত্রীর boarding gate-এ উপস্থিত না হওয়ার দাবি।
তারা স্বেচ্ছায় যাত্রা বাতিল করেছেন, document verification এড়াতে বিমানবন্দর ছেড়েছেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—সেটি নির্ধারণে check-in data, immigration record, CCTV এবং airline passenger reconciliation তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
একই সঙ্গে প্রকাশিত ২৬৩ জন নির্ধারিত যাত্রী, ২১২ জনের প্রকৃত যাত্রা এবং ৭৬ জন যেতে না পারার হিসাবের অসংগতিও আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের আগে তাই আলোচিত যাত্রীদের সবাইকে জাল ভিসাধারী কিংবা মানবপাচার নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না।
এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, শাহজালাল বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী কয়েকজন যাত্রীর travel document-এ গুরুতর অসংগতি শনাক্ত হওয়ার পর যাচাই জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনাটি বিদেশগামী যাত্রীদের visa verification ও সম্ভাব্য অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকানোর বিষয়টিকে আবারও সামনে এনেছে।
সূত্র: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইমিগ্রেশন ও বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র
মন্তব্য করুন