aviation
প্রকাশিত: 3 September 2026, 9:26:09 Am
অনলাইন সংস্করণ

একসময় ঢাকা-রাজশাহী-ঈশ্বরদী রুটে উড়ত বিমানের ৭০ আসনের ATP, ২০০৪ সালে শেষ হয় অধ্যায়

একসময় দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বাংলাদেশ বিমানের ব্রিটিশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজ BAe ATP। ঢাকা-রাজশাহী-ঈশ্বরদীসহ স্বল্প দূরত্বের রুটে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হওয়া এই উড়োজাহাজের মাধ্যমে নব্বইয়ের দশকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে আকাশ যোগাযোগ ছিল আরও সহজ। তবে যান্ত্রিক জটিলতা ও বহর আধুনিকায়নের সিদ্ধান্তের কারণে ২০০৩-০৪ সালের মধ্যে বিমানের বহর থেকে বিদায় নেয় ATP।

১৯৯৭ সালে ঢাকা-রাজশাহী-ঈশ্বরদী-ঢাকা রুটে একাধিকবার ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন একজন সাবেক যাত্রী। তিনি জানান, রাজশাহী থেকে ঈশ্বরদী যেতে বিমানের ATP উড়োজাহাজে সময় লাগত মাত্র ১৭ মিনিট। তখন ঈশ্বরদী রুটে বাংলাদেশ বিমানের একমাত্র উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত হতো BAe ATP, যাতে যাত্রী আসন ছিল ৭০টি।

তিনটি ATP অর্ডার, পরিচালিত হয় দুটি

বাংলাদেশ বিমান ১৯৮৯ সালের শেষ দিকে ব্রিটিশ অ্যারোস্পেস (British Aerospace)-এর তৈরি BAe ATP (Advanced Turbo Prop) উড়োজাহাজ তিনটি কেনার অর্ডার দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানের বহরে যুক্ত হয় দুটি উড়োজাহাজ।

বিমান দুটির নিবন্ধন ছিল—

  • S2-ACX
  • S2-ACY

তৃতীয় উড়োজাহাজটি S2-ACZ হিসেবে নির্ধারিত থাকলেও বাংলাদেশ বিমান সেটি গ্রহণ করেনি (Not Taken Up)।

প্রতিটি BAe ATP উড়োজাহাজে ছিল ৭০টি যাত্রী আসন। এগুলো মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ ও স্বল্প দূরত্বের রুটে পরিচালনা করা হতো।

ঈশ্বরদীসহ অভ্যন্তরীণ রুটে ATP-এর ব্যবহার

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে ATP গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঢাকা থেকে রাজশাহী, ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন স্বল্প দূরত্বের রুটে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হতো এই উড়োজাহাজ।

বিশেষ করে ছোট রানওয়ে ও স্বল্প দূরত্বের গন্তব্যে টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজ কার্যকর হওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

কেন বন্ধ হয়ে গেল ATP?

২০০৩ সালের দিকে বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তারা ATP উড়োজাহাজের অপারেশন নিয়ে কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সমসাময়িক প্রতিবেদনে উড়োজাহাজগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটি (Mechanical Defect) এবং অভ্যন্তরীণ অপারেশনে নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের বিষয় উঠে আসে।

একই সময়ে বাংলাদেশ বিমান বহর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেয়। ATP-এর পরিবর্তে নতুন প্রজন্মের টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজ হিসেবে ATR 72-500 অথবা Bombardier Dash 8-Q400 যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় S2-ACX ও S2-ACY ২০০৩ সালের শেষ দিকে বিমানের নিয়মিত অপারেশন থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে উড়োজাহাজ দুটি বিক্রি বা হস্তান্তর করা হয়।

বিমানের ATP অধ্যায়ের সমাপ্তি

বাংলাদেশ বিমানের বহরে BAe ATP-এর সময়কাল ছিল প্রায় এক দশকের বেশি। তিনটি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে দুটি ATP-ই যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।

স্বল্প দূরত্বের অভ্যন্তরীণ রুটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর যান্ত্রিক নির্ভরযোগ্যতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং নতুন প্রযুক্তির উড়োজাহাজ আনার সিদ্ধান্তের কারণে ২০০৪ সালে বিমানের ATP যুগের অবসান ঘটে।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার শুরু ১৭ সেপ্টেম্বর, অংশ নিচ্ছে ১০

1

যশোর বিমানবন্দরে চালু হলো প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র

2

ঢাকা-সিউল সরাসরি ফ্লাইটের উদ্যোগ, সপ্তাহে ৫৬টি যাত্রী ও কার্

3

১৯৬০ থেকে ১৫০ কোটি যাত্রী সামলেছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্

4

নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান পর্যটন মন্ত্

5

শাহজালালে যাত্রীর পায়ুপথে লুকানো তিনটি ‘স্বর্ণের ডিম’ উদ্ধার

6

বিটিটিএফ ২০২৬-এর প্লাটিনাম স্পনসর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর

7

বাংলাদেশের প্রথম নারী বাণিজ্যিক পাইলট কানিজ ফাতেমা রোকসানার

8

ট্রাফিক হেলপার পদে নির্বাচিত ৮৭ প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য ডাকল

9

দেশের সব বিমানবন্দরে ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি উইক’ পালন করছে বেবিচ

10

বৈধ মার্কিন ভিসা থাকলেও প্রবেশ নিশ্চিত নয়, সতর্ক করল ঢাকাস্থ

11

১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্যে বেবিচকের প্রস্তুতি

12

শাহজালাল বিমানবন্দরে লাইভ ব্যাগেজ মনিটরিং কার্যক্রম পরিদর্শন

13

মাঝ আকাশে ২৮ হাজার ফুট দ্রুত নিচে নামল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্

14

কমোডের ট্যাংকে ‘স্বর্ণের গুপ্তভাণ্ডার’, উদ্ধার ৪.২০৪ কেজি স্

15

তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পেতে প্রতিযো

16

রিয়াদগামী ৭ ফ্লাইট বাতিল, যাত্রীদের দুর্ভোগ এড়াতে আগাম তথ্য

17

বোয়িং ৭৪৭ থেকে ফ্লাইট বন্ধ: যেভাবে হারিয়ে গেল দেশের প্রথম বে

18

বিমানের কাছে বেবিচক-পদ্মা অয়েলের পাওনা ৭ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা

19

লস অ্যাঞ্জেলেসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৩

20