ইতালির সিসিলি দ্বীপে মাউন্ট এথনা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ছাই ছড়িয়ে পড়ায় কাতানিয়া বিমানবন্দরের ফ্লাইট কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৭০০ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আড়াই শতাধিক ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইতালীয় বার্তা সংস্থা আনসার তথ্য অনুযায়ী, ৮ থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে কাতানিয়া বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৪০০টি বহির্গামী ফ্লাইট বাতিল করা হয়। বুধবারও আরও ৫২টি ফ্লাইট বাতিলের সূচিতে ছিল।
আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে আড়াই শতাধিক ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক ফ্লাইট কোমিসো বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। এ ছাড়া প্রায় ৫০টি ফ্লাইট পালেরমো এবং আরও ২২টি ফ্লাইট ট্রাপানি বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
কাতানিয়া বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান স্যাক জানিয়েছে, বায়ুমণ্ডলে আগ্নেয়গিরির ছাই থাকায় বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত সব আগমনী ও বহির্গামী ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাইয়ের মেঘে প্রভাবিত আকাশসীমা বন্ধ রাখার সময়ও বাড়ানো হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় যাত্রীদের বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর কোমিসো বিমানবন্দর পুনরায় পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করেছে।
সিসিলিতে গ্রীষ্মকালীন পর্যটনের ব্যস্ত মৌসুমে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় হাজারো যাত্রী ও পর্যটক ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে মাউন্ট এথনার কাছাকাছি কাতানিয়া বিমানবন্দরের অবস্থান এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতজনিত ঝুঁকির বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সিসিলির পূর্ব উপকূলে অবস্থিত মাউন্ট এথনা বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই উড়োজাহাজের ইঞ্জিন ও ফ্লাইট পরিচালনার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমান চলাচলে সতর্কতা বজায় রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন