এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (IGI) জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিমানবন্দরের টার্মিনালসংলগ্ন এলাকা ও প্রবেশপথে পানি জমে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি ফ্লাইট পরিচালনাও ব্যাহত হয়। সর্বশেষ হিসাবে দিল্লিগামী অন্তত ১১টি ফ্লাইট লখনৌ, জয়পুর, আহমেদাবাদ ও চণ্ডীগড়ে ডাইভার্ট করা হয়।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে নয়টি ফ্লাইট ডাইভার্টের কথা জানানো হলেও পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যে সংখ্যা বেড়ে ১১টিতে পৌঁছায়। এর মধ্যে পাঁচটি জয়পুরে, চারটি লখনৌয়ে এবং একটি করে আহমেদাবাদ ও চণ্ডীগড়ে পাঠানো হয়। ডাইভারশনগুলো মূলত বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে ঘটে।
ভারী বৃষ্টির পর দিল্লি বিমানবন্দরের Terminal 2 ও Terminal 3-এর approach road ও forecourt এলাকায় পানি জমে যায়। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে যাত্রীদের প্যান্ট গুটিয়ে জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে লাগেজ ট্রলি ঠেলে টার্মিনালের দিকে যেতে দেখা যায়।
বিমানবন্দর পরিচালনাকারী Delhi International Airport Limited (DIAL) জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে approach road ও forecourt এলাকায় পানি জমেছিল। তবে কিছু সময়ের মধ্যেই জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলা হয় এবং নিরাপদ ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এএনআইকে মানসি নামের এক যাত্রী জানান, এমন পরিস্থিতি তিনি আগে দেখেননি। পানি কিছুটা কমার অপেক্ষায় তাকে প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।
লখনৌয়ের Chaudhary Charan Singh International Airport-এ চারটি দিল্লিগামী ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়। এগুলো হলো Akasa Air-এর Bengaluru–Delhi QP1821 এবং Air India-এর Ludhiana–Delhi AI484, Indore–Delhi AI2516 ও Hyderabad–Delhi AI2541।
ফ্লাইটগুলো বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিট থেকে ৫টা ৬ মিনিটের মধ্যে লখনৌয়ে অবতরণ করে। দিল্লির আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে সেগুলো আবার গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
অন্যদিকে জয়পুরে পাঁচটি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়। একটি চীনা SF Airlines কার্গো ফ্লাইট আহমেদাবাদে এবং IndiGo-এর Hyderabad–Delhi 6E711 চণ্ডীগড়ে পাঠানো হয়।
বৃষ্টির প্রভাব শুধু ডাইভারশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রকাশিত ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি বিমানবন্দরে ওই দিন ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে Air India, IndiGo ও Akasa Air-সহ বিভিন্ন এয়ারলাইন যাত্রীদের ফ্লাইট স্ট্যাটাস পরীক্ষা করে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরামর্শ দেয়।
শহরের বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা ও যানজট তৈরি হওয়ায় বিমানবন্দরে পৌঁছাতেও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগছিল।
ফ্লাইট পরিচালনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াগত ঘটনাগুলোর একটি ছিল Palam Airport এলাকায় আকস্মিক squall বা তীব্র ঝোড়ো বাতাস।
India Meteorological Department (IMD)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টা ৩৭ থেকে ৩টা ৩৯ মিনিটের মধ্যে Palam এলাকায় squall রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৭৬ কিলোমিটার পৌঁছে এবং দৃশ্যমানতা কমে প্রায় ৬০০ মিটারে নেমে আসে।
Squall সাধারণ দমকা বাতাসের তুলনায় বেশি সময় স্থায়ী হওয়া আকস্মিক তীব্র বাতাস। উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় দ্রুত পরিবর্তনশীল বাতাস, বজ্রঝড় এবং কম দৃশ্যমানতা থাকলে বিমান পরিচালনায় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন হয়।
দিনের শুরুতে Palam-এ তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড হলেও বিকেলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।
IMD-এর Regional Meteorological Centre-এর তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত Palam-এ ৭২.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। একই সময়ে Naraina-তে ৫৪ মিলিমিটার, Janakpuri-তে ৪৮.৫ মিলিমিটার, Lodhi Road-এ ৩৪.৬ মিলিমিটার এবং Safdarjung-এ ৩২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।
ফলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে থাকা Palam-এর ৩.৪ মিলিমিটার বৃষ্টির হিসাবটি দিনের আগের একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরিমাপ; বিকেলের তীব্র বৃষ্টির পর মোট পরিস্থিতি বোঝাতে পরবর্তী তিন ঘণ্টার ৭২.২ মিলিমিটার পরিমাপটি বেশি প্রাসঙ্গিক।
দিল্লি-NCR অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে IMD শুক্রবার বিভিন্ন সময়ে আবহাওয়া সতর্কতা জারি করে। বিকেলে দিল্লির বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টি, বজ্রঝড়, বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার—দমকা হাওয়ায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার—বেগে বাতাসের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
ভারী বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকা ও আন্ডারপাসে পানি জমা, যানজট এবং গণপরিবহনে বিলম্বের ঝুঁকির কথাও জানানো হয়।
দিল্লি বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর এবং এখানে প্রতিদিন ১ হাজার ৩০০টির বেশি flight movement পরিচালিত হয়। ফলে অল্প সময়ের জন্যও আবহাওয়ার কারণে arrival ও departure rate কমে গেলে দ্রুত একাধিক ফ্লাইটে knock-on delay তৈরি হতে পারে।
একটি inbound ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে ডাইভার্ট হলে আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা, অতিরিক্ত জ্বালানি, ক্রু duty time এবং পরবর্তী নির্ধারিত ফ্লাইট—সবকিছুর ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
শুক্রবারের ঘটনায় বিমানবন্দরের জলাবদ্ধতা দ্রুত সরিয়ে ফেলা হলেও ভারী বৃষ্টি, বজ্রঝড়, কম দৃশ্যমানতা এবং তীব্র ঝোড়ো বাতাস একসঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনায় প্রভাব ফেলেছিল। ফলে যাত্রীদের দৃশ্যমান জলাবদ্ধতার পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়াই দিল্লির বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল।
সূত্র: India Meteorological Department (IMD), Delhi International Airport Limited (DIAL), PTI, ANI ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম
মন্তব্য করুন