aviation
প্রকাশিত: 30 October 2026, 10:59:14 Am
অনলাইন সংস্করণ

শাহজালাল বিমানবন্দরে নিরাপত্তায় বহুমাত্রিক ব্যবস্থা, যাত্রী সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী, উড়োজাহাজ ও বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী ও লাগেজ তল্লাশি, অনুমোদিত যানবাহন চলাচল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ বিমান চলাচলের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিমানবন্দরটিতে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) প্রাসঙ্গিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিচালনা ও উন্নয়নের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষ করে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ সংরক্ষিত এলাকা, যাত্রী টার্মিনাল এবং উড়োজাহাজ চলাচলের এলাকাগুলোতে পৃথক নিরাপত্তা ও পরিচালনগত সুরক্ষা বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়।

সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারসাইড একটি সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত এলাকা। এখানে অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা যানবাহনের প্রবেশের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বেবিচক।

বিমানবন্দরের এয়ারসাইডে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অনুমোদিত যানবাহনকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।

বিশেষ করে রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যানবাহন প্রবেশের ক্ষেত্রে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক।

এ ধরনের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা উড়োজাহাজ ও যানবাহনের চলাচলের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যাত্রী ও লাগেজ নিরাপত্তায় একাধিক ধাপ

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনায় যাত্রী ও লাগেজ নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যাত্রীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে উড়োজাহাজে আরোহণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি যাচাই, নিরাপত্তা তল্লাশি এবং প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

একইভাবে যাত্রীদের সঙ্গে বহন করা হাতব্যাগ এবং চেক-ইন লাগেজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নিরাপত্তা পরীক্ষা রয়েছে।

এসব কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো বিমান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বা নিষিদ্ধ সামগ্রী শনাক্ত করা এবং বেআইনি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা কমানো।

এভিয়েশন সেফটি ও সিকিউরিটিতে পৃথক গুরুত্ব

বিমানবন্দরের নিরাপদ পরিচালনার ক্ষেত্রে এভিয়েশন সেফটি (Aviation Safety) এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি (Aviation Security) দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এভিয়েশন সেফটি মূলত উড়োজাহাজ পরিচালনা, রানওয়ে ব্যবহার, গ্রাউন্ড অপারেশন এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

অন্যদিকে এভিয়েশন সিকিউরিটি বিমান চলাচলের বিরুদ্ধে বেআইনি হস্তক্ষেপ, অননুমোদিত প্রবেশ এবং ইচ্ছাকৃত নিরাপত্তা হুমকি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেয়।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ দুটি ক্ষেত্রের জন্য পৃথক বিধিবিধান ও পরিচালনগত ব্যবস্থা রয়েছে।

সম্প্রতি এয়ারসাইডে যানবাহন চলাচল ও ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে বেবিচক জানিয়েছে, যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন মূলত পরিচালনগত সুরক্ষা জোরদারের একটি উদ্যোগ।

সংস্থাটির মতে, এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রমকে সামগ্রিক বিমানবন্দর নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইকাওর নির্ধারিত মানদণ্ড ও সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যাত্রী ও লাগেজ তল্লাশি, সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন—এসব বিষয় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর ও আধুনিক করার লক্ষ্যে বেবিচক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে।

এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১৩ থেকে ১৫ অক্টোবর দেশের বিমানবন্দরগুলোতে ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি উইক–২০২৬’ আয়োজন করা হয়।

এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রস্তুতি জোরদার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে গুরুত্ব দেওয়া।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ

একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু একটি সংস্থার দায়িত্ব নয়। বিমানবন্দর পরিচালনা, নিরাপত্তা তল্লাশি, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও বিভাগের কার্যক্রমের মাধ্যমে যাত্রীসেবা এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রাখতে নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিরাপত্তা বিধিবিধান অনুসরণের বিকল্প নেই।

দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে শাহজালালের নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী রাখা শুধু যাত্রীদের আস্থা অর্জনের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ এবং বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সুনাম বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এভিয়েশন নিরাপত্তায় দক্ষতা বাড়াতে শাহজালালে ডিএফটি প্রশিক্ষণ

1

শাহজালালে সোনা চোরাচালান থামছেই না: পাঁচ বছরে জব্দ প্রায় ২ হ

2

ঢাকায় চালু হচ্ছে কোরিয়া ভিসা আবেদন কেন্দ্র, ২ সেপ্টেম্বর থেক

3

তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় চূড়ান্ত নেগোশিয়েশন শুরু আজ, আলোচনা

4

সৌদি আরবে ফের ফ্লাইট বাড়াচ্ছে বিমান, দাম্মাম ও জেদ্দায় নতুন

5

বেবিচকে ৮৯০ জন নিয়োগ: আবেদন শুরু ২৭ জুলাই, চলবে ১৬ আগস্ট পর্

6

বেবিচকের নিয়োগে একাধিক পদে আবেদন করা যাবে না, ১৬ আগস্টের আগে

7

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, অনি

8

বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও ৩ ড্রিমলাইনার, আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বা

9

১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্যে বেবিচকের প্রস্তুতি

10

বৈধ মার্কিন ভিসা থাকলেও প্রবেশ নিশ্চিত নয়, সতর্ক করল ঢাকাস্থ

11

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) পদ

12

সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে প্রথমবারের মতো আইএলএস রক্ষণাবেক্ষণ প

13

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শুরু হতে পারে বেবিচকের নিয়োগ পরীক্ষ

14

জেদ্দায় বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা: রিয়াদ যাত্রীদ

15

বিদেশি উড়োজাহাজেরও ‘সি-চেক’ হচ্ছে বাংলাদেশে, বদলে যাচ্ছে এভি

16

আগামী সপ্তাহে চালু হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিন

17

উড়োজাহাজের টয়লেটে মিলল ৫০ স্বর্ণবার, শাহজালালে কাস্টমস গোয়েন

18

পিপিপিতে নতুন রূপ পাচ্ছে বগুড়া বিমানবন্দর, আন্তর্জাতিক মানে

19

ফেনম ৩০০ইভি উন্মোচন করল এমব্রায়ের, যুক্ত হলো অটোল্যান্ডসহ নত

20