শাহজালালসহ দেশের কোনো বিমানবন্দরে নেই ‘ইঞ্জিন রান-আপ বে’, বাড়ছে শব্দদূষণ ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ
aviation
প্রকাশিত: 31 July 2026, 11:36:36 Am
|অনলাইন সংস্করণ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের কোনো বিমানবন্দরেই উড়োজাহাজের ইঞ্জিন পূর্ণ ক্ষমতায় পরীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত শব্দনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো ‘ইঞ্জিন রান-আপ বে’ (Engine Run-up Bay) নেই। ফলে বড় ধরনের মেরামত বা ওভারহলের পর উড়োজাহাজের ইঞ্জিন পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বর্তমানে রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে কিংবা খোলা অ্যাপ্রনে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে বিমান পরিচালনায় সমন্বয়গত চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিমানবন্দরের অ্যারোড্রোম ডিরেক্টরি ও সর্বশেষ কারিগরি তথ্য পর্যালোচনায় এ চিত্র উঠে এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মানের একটি ইঞ্জিন রান-আপ বে নির্মাণের জন্য সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে প্রস্তাব দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক এভিয়েশন নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মানদণ্ড অনুযায়ী বড় ধরনের মেরামতের পর উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা আদর্শভাবে শব্দ ও জেট ব্লাস্ট নিয়ন্ত্রণে সক্ষম বিশেষায়িত এনক্লোজারে সম্পন্ন করা হয়। তবে বাংলাদেশে এমন স্থাপনা না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় পরীক্ষার কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) অনুমোদন ও সমন্বয়ের মাধ্যমে শাহজালাল বিমানবন্দরের রিমোট অ্যাপ্রন, ট্যাক্সিওয়ের শেষাংশ কিংবা নির্ধারিত মেইনটেন্যান্স পার্কিং স্ট্যান্ডে এসব পরীক্ষা পরিচালিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরীক্ষার সময় ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ক্ষমতায় চালানো হলে উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টি হয়, যা আশপাশের এলাকায় প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে পরীক্ষার সময় বিমানবন্দরের কিছু পরিচালনাগত সমন্বয়ও প্রয়োজন হয়।
বিমানবন্দর-সংলগ্ন উত্তরা এলাকার বাসিন্দা আরিফ মোল্লা বলেন, গভীর রাতে ইঞ্জিন পরীক্ষার সময় সৃষ্ট উচ্চমাত্রার শব্দে আশপাশের বাসিন্দাদের ভোগান্তি হয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এটি কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি দ্রুত কার্যকর সমাধানের দাবি জানান।
বাংলাদেশ বিমানের সাবেক প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান বলেন, ইঞ্জিন রান-আপ উড়োজাহাজের নিরাপদ পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ধাপ। বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের পর স্থির অবস্থায় ইঞ্জিনকে বিভিন্ন শক্তিমাত্রায় চালিয়ে ইগনিশন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, অয়েল প্রেসার, অয়েল টেম্পারেচারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচক পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল পাওয়ার পরই উড়োজাহাজকে বাণিজ্যিক উড্ডয়নের জন্য উপযুক্ত বিবেচনা করা হয়।
বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেট এ-১ জ্বালানি, ২৪ ঘণ্টা কাস্টমস সুবিধা এবং আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের ইঞ্জিন রান-আপ বে, অক্সিজেন রিফিলিং ও এক্সটার্নাল জেট স্টার্ট ইউনিট (জেএসইউ)-এর মতো কিছু বিশেষায়িত সুবিধা এখনও নেই।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিমান চলাচল বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে আধুনিক ইঞ্জিন রান-আপ বে নির্মাণ সময়োপযোগী উদ্যোগ হতে পারে। এমন একটি অবকাঠামো নির্মিত হলে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরাপদ পরিবেশে ইঞ্জিন পরীক্ষা পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি শব্দদূষণ কমবে এবং রানওয়ে বা ট্যাক্সিওয়ে ব্যবহারের ওপর চাপও হ্রাস পাবে, যা বিমানবন্দরের সার্বিক পরিচালনা আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে।
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
সক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৫৯ শতাংশ বেশি যাত্রী সামলাচ্ছে শাহজালাল
1
বিমানের বহরে আসছে ২৫ নতুন বোয়িং, অর্ডারে ১৫ ড্রিমলাইনার ও ১০
2
বিদেশি উড়োজাহাজেরও ‘সি-চেক’ হচ্ছে বাংলাদেশে, বদলে যাচ্ছে এভি
3
শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজের গতিবিধি সরাসরি দেখবেন যাত্রীরা,
4
বৈধ মার্কিন ভিসা থাকলেও প্রবেশ নিশ্চিত নয়, সতর্ক করল ঢাকাস্থ
5
ঢাকায় চালু হচ্ছে কোরিয়া ভিসা আবেদন কেন্দ্র, ২ সেপ্টেম্বর থেক
6
রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধে ২৮ ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত, ভোগান্তিতে ৪ হ
7
শাহজালালে গ্রিন চ্যানেলে ৮১.৫০ লিটার বিদেশি মদ আটক, মূল্য ১৬
8
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে বড় নিয়োগ, ১৩ পদে নেওয়া হবে ২৩৪ জন