এভিয়েশন বার্তা বিশেষ প্রতিনিধি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় একাধিক অগ্নিকাণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে গত অর্থবছরে ঢাকা কাস্টম হাউজ কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন কাস্টম কমিশনার মো. মসিউর রহমান। গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও তা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ শতাংশ কম ছিল বলে জানান তিনি।
এ পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বাড়াতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে ঢাকা কাস্টম হাউজ। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া থাকা প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকা আদায়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা কাস্টম হাউজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বাটজা)-এর নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান কাস্টম কমিশনার।
মো. মসিউর রহমান জানান, বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় একাধিক অগ্নিকাণ্ডে কাস্টমসের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষ করে স্ক্যানারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় ধীরগতি ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অবকাঠামোগত ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা গত অর্থবছরের রাজস্ব কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলেছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারলে ঢাকা কাস্টম হাউজের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ার আরেকটি কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন কাস্টম কমিশনার।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিমানপথে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে ঢাকা কাস্টম হাউজের রাজস্ব আদায়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি-রপ্তানি ও কার্গো পরিবহনে পরিবর্তন হলে তার প্রভাব রাজস্ব আদায়েও পড়তে পারে।
তবে গত অর্থবছরের রাজস্ব ঘাটতির কত অংশ অগ্নিকাণ্ড এবং কত অংশ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে হয়েছে—সে বিষয়ে আলাদা কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।
ঢাকা কাস্টম হাউজের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বড় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বকেয়া।
কাস্টম কমিশনার জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ঢাকা কাস্টমসের প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।
বকেয়া অর্থ আদায়ের পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করবে।
বকেয়া রাজস্ব আদায়, শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধ এবং রাজস্ব সংগ্রহের বিভিন্ন ক্ষেত্র চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
রাজস্ব সুরক্ষার পাশাপাশি বিমানবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কাস্টম কমিশনার।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কাস্টম হাউজে পণ্য লিকেজ, চুরি কিংবা শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিমানবন্দরের কার্গো কার্যক্রমে পণ্যের নিরাপত্তা শুধু রাজস্বের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার ও এয়ারলাইন্সের আস্থার সঙ্গেও বিষয়টি জড়িত। ফলে কার্গো ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ঢাকা কাস্টম হাউজ আকাশপথে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের শুল্কায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কার্গো এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে স্ক্যানার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু রাজস্ব আদায় নয়, পণ্য পরীক্ষা ও দ্রুত খালাসের কার্যক্রমেও চাপ তৈরি হতে পারে।
এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম ও অবকাঠামো দ্রুত সচল করার পাশাপাশি স্ক্যানিং সক্ষমতা, অগ্নিনিরাপত্তা, পণ্যের নিরাপত্তা এবং দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি অর্থবছরে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং ৪৫৫ কোটি টাকার বকেয়া আদায়ের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন ঢাকা কাস্টম হাউজের রাজস্ব প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সূত্র: ঢাকা কাস্টম হাউজের কাস্টম কমিশনার মো. মসিউর রহমানের বক্তব্য; বাটজা–ঢাকা কাস্টম হাউজ মতবিনিময় সভা
মন্তব্য করুন