অতি ভারী বৃষ্টি, প্রবল দমকা হাওয়া ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। এর মধ্যে আবুধাবি ও শারজাহ থেকে আসা দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করতে না পেরে আবার ঢাকায় ফিরে গেছে।
একই সঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমন ও প্রস্থানের প্রায় সব ফ্লাইটে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আবুধাবি থেকে চট্টগ্রামগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের BS-350 ফ্লাইটটি বৈরী আবহাওয়ার কারণে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারেনি।
একই পরিস্থিতির মুখে পড়ে শারজাহ থেকে চট্টগ্রামগামী এয়ার এরাবিয়ার G9-526 ফ্লাইট।
চট্টগ্রামের আবহাওয়া নিরাপদ অবতরণের অনুকূলে না থাকায় দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটই বিকল্প হিসেবে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে একটি ফ্লাইটের নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে অন্য উপযুক্ত বিমানবন্দরে অবতরণ করাকে সাধারণভাবে diversion বলা হয়।
আন্তর্জাতিক দুই ফ্লাইটের পাশাপাশি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের BG-121 ফ্লাইটটিও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামে অবতরণ করতে পারেনি।
ফ্লাইটটি পরে আবার ঢাকায় ফিরে যায়।
কোনো বিমানবন্দরের আবহাওয়া নিরাপদ অবতরণের উপযোগী না থাকলে ফ্লাইটের পাইলট পরিস্থিতি বিবেচনায় অপেক্ষা, অন্য বিমানবন্দরে যাওয়া অথবা যাত্রার বিমানবন্দরে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তাই বৈরী আবহাওয়ায় কোনো ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে চলে যাওয়া বা ফিরে আসা নিজে কোনো উড়োজাহাজের কারিগরি ত্রুটির প্রমাণ নয়; এটি নিরাপদ ফ্লাইট পরিচালনার অংশ হতে পারে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় বিমানবন্দর এলাকায় ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া প্রবাহিত হচ্ছিল।
প্রবল বাতাসের পাশাপাশি ভারী বৃষ্টি থাকলে দৃশ্যমানতা, রানওয়ের অবস্থা এবং অবতরণের সামগ্রিক পরিবেশ প্রভাবিত হতে পারে।
পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ফ্লাইট পরিচালনার সময় বাতাসের গতি ও দিক, দৃশ্যমানতা, মেঘ, বৃষ্টিপাত এবং সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ ও বিমানবন্দরের পরিচালন সীমাসহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করেন।
নিরাপদ পরিচালনার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হলে নির্ধারিত বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বিকল্প সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপত্তার দিক থেকে স্বাভাবিক পদ্ধতি।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে সেটি অতি ভারী বৃষ্টির পর্যায়ে পড়ে। সে হিসাবে চট্টগ্রামে রেকর্ড হওয়া বৃষ্টিপাত অতি ভারী বৃষ্টির সীমার কয়েক গুণ বেশি।
এ ধরনের টানা বৃষ্টিতে বিমানবন্দরের কার্যক্রমের পাশাপাশি শহরের সড়ক যোগাযোগেও জলাবদ্ধতা ও যানজট তৈরি হতে পারে। ফলে যাত্রীদের বিমানবন্দরে পৌঁছাতেও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।
তিনটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করতে না পারলেও বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম থেকে নির্ধারিত ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করা হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আগমন ও প্রস্থানের প্রায় সব ফ্লাইটে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হলে এই বিলম্বের সময়ও পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে নির্ধারিত সময়ের ফ্লাইট পরবর্তী সময়ে আরও বিলম্বিত, পুনর্নির্ধারিত কিংবা পরিস্থিতি অনুযায়ী বাতিলও হতে পারে।
কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে ডাইভার্ট হওয়ার অর্থ এই নয় যে যাত্রীর গন্তব্য স্থায়ীভাবে পরিবর্তন হয়ে গেছে।
আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন পরিস্থিতি ও পরিচালন সক্ষমতা বিবেচনা করে ফ্লাইটটি আবার মূল গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্প ফ্লাইট বা অন্য ব্যবস্থা নেওয়াও হতে পারে।
তবে প্রতিটি ঘটনার সিদ্ধান্ত আলাদা। জ্বালানির পরিমাণ, ক্রুদের অনুমোদিত কর্মঘণ্টা, বিমানবন্দরের আবহাওয়া এবং উড়োজাহাজের পরবর্তী ফ্লাইট সূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করে।
চট্টগ্রাম থেকে যাদের ফ্লাইট রয়েছে বা যাদের স্বজন কোনো ফ্লাইটে চট্টগ্রামে আসছেন, তাদের এয়ারলাইনের সর্বশেষ ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই করে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়া ভালো।
বিশেষ করে অতি ভারী বৃষ্টিতে শুধু আকাশপথ নয়, বিমানবন্দরে যাওয়ার সড়কেও জলাবদ্ধতা ও যানজট হতে পারে। তাই স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অতিরিক্ত সময় হাতে রাখা প্রয়োজন।
ফ্লাইট ডাইভার্ট বা দীর্ঘ সময় বিলম্বিত হলে যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের কাউন্টার বা অনুমোদিত যোগাযোগমাধ্যম থেকে পরবর্তী যাত্রার তথ্য নেওয়া উচিত।
বৈরী আবহাওয়ায় কোনো ফ্লাইট নির্ধারিত বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পারা যাত্রীদের জন্য অসুবিধাজনক হলেও বিমান চলাচলে নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বিশেষ করে অতি ভারী বৃষ্টি ও প্রবল দমকা হাওয়ার মধ্যে অবতরণের পরিবেশ নিরাপদ না মনে হলে বিকল্প বিমানবন্দরে যাওয়া কিংবা আগের বিমানবন্দরে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
চট্টগ্রামের ঘটনায়ও আবুধাবি ও শারজাহ থেকে আসা দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় ডাইভার্ট হয়েছে এবং ঢাকা থেকে আসা একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ফিরে গেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলের বিলম্বও ধীরে ধীরে কমে আসার প্রত্যাশা রয়েছে।
সূত্র: শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
মন্তব্য করুন