বিমানের ফ্লাইটে ১৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টের কাছ থেকে মিলল ১২০ পিস
aviation
প্রকাশিত: 3 October 2026, 8:38:11 Pm
|অনলাইন সংস্করণ
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের BG-148 ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে ১২০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ১৩ দশমিক ৯২ কেজি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটিতে বিশেষ তল্লাশি চালানো হয়। ফ্লাইটটি দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় পৌঁছেছিল।
যেভাবে উদ্ধার হলো স্বর্ণ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা কাস্টম হাউস স্বর্ণ চোরাচালানের বিষয়ে তথ্য পায়। এরপর কাস্টমস কর্মকর্তা ও প্রিভেন্টিভ টিমের সদস্যরা BG-148 ফ্লাইটের ভেতরে বিশেষ তল্লাশি শুরু করেন।
উড়োজাহাজের পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হওয়ার পর বের হওয়ার সময় মেকানিক্যাল ও ক্লিনিং টিমের সদস্যদের বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তায় তল্লাশি করা হয়। এ সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মীর কাছ থেকে কালো টেপে মোড়ানো প্যাকেটে স্বর্ণ পাওয়া যায় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা স্বর্ণের তালিকা ও ওজন নির্ধারণ করা হয়। এতে ১২০টি স্বর্ণের বারের মোট ওজন ১৩ দশমিক ৯২ কেজি পাওয়া যায়। সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে প্রকাশিত হিসাবে এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
বিমানের কর্মী আটক
এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মীকে আটক করা হয়। পরবর্তী আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে তাকে বিমানের Assistant Technical Helper হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, তিনি স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এটি তদন্তাধীন অভিযোগ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।
ঘটনার পর বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি আদালত আটক বিমানকর্মীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান। তদন্তকারীরা চোরাচালানের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।
বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ও ব্যাগেজ তল্লাশির পাশাপাশি উড়োজাহাজে প্রবেশাধিকার থাকা কর্মী, গ্রাউন্ড সার্ভিস এবং অন্যান্য অপারেশনাল কর্মীদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের গুরুত্বও সামনে এনেছে।
একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ অবতরণের পর ক্লিনিং, মেকানিক্যাল পরীক্ষা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন কাজে একাধিক দলের সদস্যদের উড়োজাহাজে প্রবেশ করতে হয়। ফলে বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাত্রীকেন্দ্রিক নিরাপত্তার পাশাপাশি এয়ারসাইডে কর্মরত ব্যক্তিদের চলাচল ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনায় উদ্ধার করা স্বর্ণ কোথা থেকে এসেছে, কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।