এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের ৩৪টি দেশের ভিসা অব্যাহতি (Visa Waiver) চুক্তি কার্যকর রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট শ্রেণির বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা সংশ্লিষ্ট দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পান।
তবে ৩৪টি দেশেই বাংলাদেশের সাধারণ বা Ordinary Passport নিয়ে ভিসা ছাড়া যাওয়া যায়—বিষয়টি এমন নয়। অধিকাংশ চুক্তিই কূটনৈতিক (Diplomatic) ও সরকারি (Official) পাসপোর্টধারীদের জন্য প্রযোজ্য।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে কার্যকর থাকা ভিসা অব্যাহতি চুক্তির আওতায় ৩১টি দেশে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীরা, দুটি দেশে শুধু কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীরা এবং মালদ্বীপে সাধারণ পাসপোর্টধারীরাও নির্দিষ্ট শর্তে ভিসা ছাড়া প্রবেশের সুযোগ পান।
বাংলাদেশের সঙ্গে ৩১টি দেশের এমন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীরা নির্ধারিত শর্তে ভিসা অব্যাহতি সুবিধা পান।
দেশগুলো হলো—
সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, চিলি, লাওস, বেলারুশ, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কুয়েত, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, ভারত, চীন, ব্রুনেই, ওমান, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, কাতার, বতসোয়ানা, কসোভো, দক্ষিণ কোরিয়া, সার্বিয়া, আর্জেন্টিনা, কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড, তিমুর-লেস্তে, গাম্বিয়া, পাকিস্তান ও মঙ্গোলিয়া।
অর্থাৎ এসব দেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টধারীরা শুধু এই দ্বিপক্ষীয় Visa Waiver Agreement দেখিয়ে ভিসামুক্ত ভ্রমণের দাবি করতে পারবেন না।
তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সাধারণ ভিসা নীতি ও প্রবেশের শর্ত প্রযোজ্য হবে।
তালিকা অনুযায়ী, জাপান ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ভিসা অব্যাহতি চুক্তির সুবিধা আরও সীমিত।
এই দুটি দেশের ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশের Diplomatic Passport বা কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীরা নির্ধারিত শর্তে ভিসা অব্যাহতির সুবিধা পান।
Official Passport থাকলেই এই দুই দেশের ক্ষেত্রে একই সুবিধা পাওয়া যাবে—এমনটি প্রকাশিত তালিকায় বলা হয়নি।
প্রকাশিত তালিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মালদ্বীপ।
মালদ্বীপের ক্ষেত্রে সব ধরনের বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীর জন্য নির্ধারিত শর্তে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। ফলে সাধারণ বা Ordinary Passport ব্যবহারকারী বাংলাদেশিরাও এই সুবিধার আওতায় পড়েন।
তবে ভিসামুক্ত প্রবেশের অর্থ এই নয় যে কোনো বাংলাদেশি মালদ্বীপে গিয়ে সরাসরি চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে এই ভিসা অব্যাহতি সুবিধা প্রযোজ্য নয়।
মালদ্বীপে চাকরির উদ্দেশ্যে যেতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রম ও অভিবাসন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় Work Permit, Employment Approval বা প্রযোজ্য অন্যান্য অনুমোদন নিতে হবে।
ভিসা অব্যাহতি নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—Visa-Free Entry এবং unrestricted stay এক বিষয় নয়।
দুই দেশের চুক্তিতে কত দিন অবস্থান করা যাবে, কী উদ্দেশ্যে প্রবেশ করা যাবে এবং কী ধরনের পাসপোর্ট থাকতে হবে—এসব শর্ত নির্ধারিত থাকতে পারে।
একইভাবে ভিসা প্রয়োজন না হলেও একজন যাত্রীর বৈধ পাসপোর্ট, ফিরতি বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট, আবাসনের তথ্য কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের চাওয়া অন্যান্য নথি প্রয়োজন হতে পারে।
চূড়ান্তভাবে কোনো যাত্রীকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশের সীমান্ত বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের।
বাংলাদেশের সঙ্গে ৩৪টি দেশের Visa Waiver Agreement থাকার তথ্য দেখে সাধারণ যাত্রীদের একটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
‘বাংলাদেশিরা ৩৪ দেশে ভিসা ছাড়া যেতে পারবেন’—এভাবে তথ্যটি উপস্থাপন করলে তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
কারণ প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ৩১টি দেশের চুক্তি মূলত Diplomatic ও Official Passport-এর জন্য এবং আরও দুটি দেশের সুবিধা শুধু Diplomatic Passport-এর জন্য।
তাই সাধারণ পাসপোর্টধারী কোনো যাত্রী সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত, চীন, তুরস্ক, রাশিয়া, ওমান, কাতার বা তালিকার অন্য কোনো দেশে ভ্রমণের আগে ওই দেশের Ordinary Passport-এর জন্য প্রযোজ্য বর্তমান ভিসা নীতি আলাদাভাবে যাচাই করবেন।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ভিসা ও প্রবেশের নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে শুধু পুরোনো কোনো তালিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা ট্রাভেল এজেন্টের মৌখিক তথ্যের ভিত্তিতে বিমান টিকিট কেনা ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষ করে Visa Waiver, Visa on Arrival এবং e-Visa—এই তিনটি সুবিধা এক নয়।
Visa Waiver-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে আগাম ভিসা প্রয়োজন হয় না। Visa on Arrival-এর ক্ষেত্রে গন্তব্যে পৌঁছে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ভিসা বা প্রবেশের অনুমতি নিতে হয়। অন্যদিকে e-Visa সাধারণত ভ্রমণের আগে অনলাইনে আবেদন করে অনুমোদন নিতে হয়।
তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ অথবা সরকারি ভিসা পোর্টালের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করাই নিরাপদ।
দুই দেশের মধ্যে Visa Waiver Agreement সরকারি ও কূটনৈতিক যোগাযোগ সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে সরকারি প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং নির্ধারিত শ্রেণির পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়ার সময় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে এ ধরনের চুক্তি সহায়ক।
একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সরকারি যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণেও এসব চুক্তি ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমানে ৩৪ দেশের এ ধরনের চুক্তি থাকলেও সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য মূল বার্তা হলো—নিজের পাসপোর্টের ধরন এবং গন্তব্য দেশের বর্তমান প্রবেশনীতি নিশ্চিত না হয়ে শুধু Visa Waiver তালিকার ওপর নির্ভর করে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা উচিত নয়।
সূত্র: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ
মন্তব্য করুন