এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অডিট সামনে রেখে দেশের বিমানবন্দরগুলোর Aviation Security বা AVSEC ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ধারাবাহিক প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এর অংশ হিসেবে দেশের ৮টি বিমানবন্দরের ৪০ কর্মকর্তাকে Airport Security Programme (ASP) ও ICAO Universal Security Audit Programme–Continuous Monitoring Approach (USAP-CMA) বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
গত ৩ ও ৪ মে বেবিচক সদরদপ্তরে এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে এপ্রিলে বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনাকারী ৩৬টি বিদেশি এয়ারলাইনসের ৬৫ প্রতিনিধিকে নিয়ে Supplementary Station Procedure বা SSP প্রস্তুতিবিষয়ক তিনটি কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছিল।
এসব কার্যক্রম এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশে ICAO-এর USAP-CMA audit হওয়ার কথা রয়েছে। অডিটে বেবিচক সদরদপ্তরের পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের aviation security management ও implementation মূল্যায়ন করা হবে।
মে মাসের ASP কর্মশালায় দেশের আটটি বিমানবন্দরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক security standards অনুসরণে বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও সুসংহত করা এবং aviation security-এর regulatory requirement সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা আরও পরিষ্কার করা।
একটি বিমানবন্দরের security programme শুধু যাত্রী ও baggage screening-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
Access control, restricted area protection, aircraft security, cargo ও mail security, staff security procedure, emergency response এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দায়িত্ব ও সমন্বয়ের মতো বিষয়ও airport security framework-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ফলে প্রতিটি বিমানবন্দরে দায়িত্ব, procedure ও compliance requirement লিখিত ও সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকা aviation security management-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
Airport Security Programme বা ASP মূলত একটি বিমানবন্দরের security ব্যবস্থা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তার লিখিত কাঠামো।
বাংলাদেশের National Civil Aviation Security Programme (NCASP)-এর আলোকে প্রতিটি বিমানবন্দরের নিজস্ব security programme তৈরি এবং সেটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের requirement অনুযায়ী পরিচালনা করা প্রয়োজন।
এতে বিমানবন্দরে কোন সংস্থা কী দায়িত্ব পালন করবে, restricted area কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, passenger ও baggage screening কীভাবে হবে এবং security incident বা threat-এর ক্ষেত্রে কী procedure অনুসরণ করা হবে—এ ধরনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ফলে ASP শুধু একটি administrative document নয়; airport-level security implementation-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
কর্মশালায় বেবিচকের তৈরি Model ASP Checklist-এর বিভিন্ন ধাপ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
এর উদ্দেশ্য ছিল বিমানবন্দরগুলোর ASP প্রস্তুত, হালনাগাদ এবং অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ ও সুশৃঙ্খল করা।
একটি common model বা checklist ব্যবহারের সুবিধা হলো—দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের security programme প্রস্তুতের সময় গুরুত্বপূর্ণ regulatory requirement বাদ পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়।
একই সঙ্গে regulator-এর পক্ষেও airportগুলোর programme review ও compliance যাচাই তুলনামূলকভাবে সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল, বিএসপি, বিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জিডি(পি)।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপ-পরিচালক (চিফ এভসেক ইন্সপেক্টর), ICAO auditor ও certified instructor মোহাম্মদ আলমগীর।
এ ছাড়া এভসেকের policy, certification, training এবং security operation-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মশালায় আলোচনায় অংশ নেন।
কর্মশালায় ASP নিয়মিত হালনাগাদ করার মাধ্যমে airport-এর internal quality control, national regulatory compliance এবং ICAO audit preparation আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ICAO-এর USAP-CMA একটি airport-এর security checkpoint ভালো চলছে কি না—শুধু সেটি যাচাই করার audit নয়।
এতে একটি রাষ্ট্রের aviation security oversight system এবং আন্তর্জাতিক security standards বাস্তবায়নের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়।
ফলে regulation থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, সেই regulation airport ও operator level-এ বাস্তবে কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এখানেই Airport Security Programme-এর গুরুত্ব।
একটি airport-এর approved security programme এবং বাস্তব security operation-এর মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে audit-এর সময় implementation gap চিহ্নিত হতে পারে।
তাই document update-এর পাশাপাশি বাস্তবে personnel, procedure, training এবং security equipment-এর কার্যকারিতাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে সর্বশেষ ICAO aviation security audit হয়েছিল ২০১৮ সালে। এরপর ICAO-এর requirement ও security environment-এ বিভিন্ন পরিবর্তন এসেছে বলে বেবিচক জানিয়েছে।
এবারের USAP-CMA audit ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ICAO experts বেবিচক সদরদপ্তর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের security management ও implementation framework মূল্যায়ন করবেন।
জুলাইয়ে বেবিচক জানিয়েছিল, ICAO ও যুক্তরাজ্যের DfT audit সামনে রেখে তাদের সামগ্রিক প্রস্তুতির প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
এরপর যুক্তরাজ্যের DfT assessment-এ শাহজালাল ও ওসমানীর aviation security performance-এ অগ্রগতির তথ্যও পাওয়া গেছে। DfT ফলাফলকে আসন্ন ICAO audit-এর প্রস্তুতিতে সহায়ক হিসেবে দেখছে বেবিচক।
ICAO audit preparation-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বাংলাদেশে পরিচালনাকারী foreign airline-গুলোর security documentation শক্তিশালী করা।
গত ৫, ৬ ও ৭ এপ্রিল বেবিচকের এভসেক বিভাগ ৩৬টি বিদেশি airline-এর মোট ৬৫ প্রতিনিধিকে নিয়ে তিনটি SSP preparation workshop আয়োজন করে।
National Civil Aviation Security Programme অনুযায়ী বাংলাদেশে পরিচালনাকারী foreign operator-দের সংশ্লিষ্ট station বা airport-এর জন্য লিখিত Supplementary Station Procedure (SSP) তৈরি করে বেবিচকের অনুমোদন নিতে হয়।
এই প্রক্রিয়া সহজ করতে বেবিচক Model SSP তৈরি করে এবং workshop-এ document preparation, submission, review ও approval process নিয়ে বিস্তারিত guidance দেওয়া হয়।
দুটি নাম কাছাকাছি হলেও ASP ও SSP-এর কাজ এক নয়।
ASP বা Airport Security Programme মূলত একটি বিমানবন্দরের সামগ্রিক security framework-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
অন্যদিকে SSP বা Supplementary Station Procedure বাংলাদেশে পরিচালনাকারী foreign aircraft operator-এর নির্দিষ্ট station-ভিত্তিক security procedure-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
বেবিচকের বর্তমান aviation security requirements-এ foreign aircraft operator-এর aircraft protection measures তাদের Aircraft Operator Security Programme বা Supplementary Station Procedure-এ অন্তর্ভুক্ত করার বিধানও রয়েছে।
ফলে ICAO audit-এর প্রস্তুতিতে airport authority এবং foreign airline operator—দুই পক্ষের security documentation ও বাস্তব implementation গুরুত্বপূর্ণ।
Aviation security audit preparation-এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো documented procedure এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব operation-এর মধ্যে সামঞ্জস্য।
একটি security programme-এ নির্দিষ্ট procedure লেখা থাকলেও personnel যদি সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করেন, equipment কার্যকর না থাকে অথবা নিয়মিত quality control না হয়, তাহলে বাস্তব security effectiveness প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
এ কারণেই training, inspection, internal quality control এবং periodic review গুরুত্বপূর্ণ।
বেবিচকের ASP ও SSP workshop-গুলোর লক্ষ্যও শুধু document তৈরি নয়; সংশ্লিষ্ট stakeholder-দের regulatory requirement সম্পর্কে ধারণা বাড়িয়ে বাস্তব compliance শক্তিশালী করা।
মে মাসের workshop-এ আট বিমানবন্দরের ৪০ কর্মকর্তা অংশ নেওয়ায় প্রশিক্ষণটি শুধু ঢাকার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ছিল না।
প্রতিনিধিরা নিজ নিজ airport-এ ফিরে ASP preparation, update এবং compliance কার্যক্রমে এই জ্ঞান কাজে লাগাতে পারবেন।
এতে দেশের airport security framework-এ একটি তুলনামূলক common standard প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়।
বিশেষ করে ছোট ও আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর ক্ষেত্রেও একই national aviation security framework অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ aviation security chain-এর কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে প্রতিটি সংশ্লিষ্ট airport ও operator-এর compliance-এর ওপর।
এপ্রিলের foreign airline SSP workshop, মে মাসে আট বিমানবন্দরের ASP workshop এবং পরবর্তী মাসগুলোতে audit preparation—সব মিলিয়ে ICAO USAP-CMA সামনে রেখে বেবিচক ধাপে ধাপে security compliance শক্তিশালী করার কার্যক্রম চালিয়েছে।
এখন সেই প্রস্তুতির বড় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ২৬ অক্টোবর।
ICAO audit-এর ফলাফল শুধু একটি percentage score-এর বিষয় নয়। বাংলাদেশের aviation security regulatory framework, oversight capability এবং airport-level implementation আন্তর্জাতিক standards-এর সঙ্গে কতটা কার্যকরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ—সেটিও এর মাধ্যমে মূল্যায়িত হবে।
তাই ASP ও SSP-এর মতো security programme নিয়মিত হালনাগাদ, trained manpower, কার্যকর equipment, internal quality control এবং stakeholder coordination দীর্ঘমেয়াদেও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আসন্ন audit-এর আগে বেবিচকের এসব প্রস্তুতি দেশের aviation security system-কে আরও সুসংহত করার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
সূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)
মন্তব্য করুন