এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় জনদুর্ভোগ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিমানবন্দর থানা। অভিযানে মোট ৮২ জনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) ভোরে বিমানবন্দর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিমানবন্দর এলাকায় ভবঘুরে, ভিক্ষুক ও মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের উৎপাত কমানো এবং বিশেষ করে প্রবাসীসহ সাধারণ যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে আটক ৮২ জনের মধ্যে ৫৮ জনকে মাদকাসক্ত পথশিশু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ২৪ জন বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক হয়েছেন।
তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে তাদের কারও বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
ডিএমপি জানিয়েছে, আটক শিশুদের ক্ষেত্রে প্রচলিত সাধারণ প্রক্রিয়ার পরিবর্তে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি যাত্রীর পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন।
ফ্লাইটে ওঠা বা বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর যাত্রীদের বিমানবন্দর টার্মিনাল থেকে সড়কপথে গন্তব্যে যেতে হয়। ফলে বিমানবন্দরের টার্মিনালের নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রবেশ ও বহির্গমন সড়ক, গণপরিবহন এলাকা এবং আশপাশের জননিরাপত্তাও যাত্রীসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশেষ করে বিদেশফেরত যাত্রীরা অনেক সময় লাগেজ, নগদ অর্থ ও মূল্যবান ব্যক্তিগত সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের হন। তাই টার্মিনালের বাইরের এলাকায় হয়রানি, ছিনতাই, প্রতারণা বা অন্য কোনো অপরাধের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।
ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী জানিয়েছেন, বিমানবন্দর এলাকায় জনদুর্ভোগ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
পুলিশের লক্ষ্য বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় এমন পরিবেশ বজায় রাখা, যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা অপরাধের শিকার না হন।
তবে ভবঘুরে, ভিক্ষুক কিংবা পথশিশুদের উপস্থিতির বিষয়টি শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে সামাজিক ও পুনর্বাসনসংক্রান্ত বিষয়ও জড়িত। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের সুরক্ষা, পরিচয় শনাক্তকরণ, পরিবারে পুনঃএকত্রীকরণ কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বাসনের বিষয়টি প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী অভিজ্ঞতার একটি বড় অংশ নির্ভর করে টার্মিনালে পৌঁছানো এবং সেখান থেকে নিরাপদে বের হওয়ার ব্যবস্থার ওপর। টার্মিনালের ভেতরে নিরাপত্তা জোরদার থাকলেও আশপাশের এলাকায় অপরাধ, অননুমোদিত প্রবেশ বা যাত্রী হয়রানির ঘটনা ঘটলে সামগ্রিক বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী, স্বজন, পরিবহনকর্মী ও বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চলাচল রয়েছে। ফলে পুরো বিমানবন্দর এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
ডিএমপি জানিয়েছে, বিমানবন্দর এলাকায় জনদুর্ভোগ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে তাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)
মন্তব্য করুন