এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাংগঠনিক কাঠামোয় অস্থায়ীভাবে সৃষ্ট ২ হাজার ৩১১টি পদের মেয়াদ আরও এক বছর সংরক্ষণের অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। নতুন অনুমোদন অনুযায়ী, এসব পদের মেয়াদ ১ জুন ২০২৬ থেকে ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
অর্থ বিভাগের এ সিদ্ধান্তকে বেবিচকের জনবল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী পদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পদ সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ স্থায়ীকরণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, নতুন অনুমোদনের ফলে তা অনেকাংশে দূর হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেবিচকের এসব অস্থায়ী পদে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ইতোমধ্যে সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পরও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তাঁদের স্থায়ীকরণের বিষয়টি এতদিন চূড়ান্ত হয়নি। ফলে চাকরির ভবিষ্যৎ, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অপেক্ষা ছিল।
প্রচলিত বিধি ও প্রযোজ্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্ধারিত সময় সন্তোষজনকভাবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থায়ীকরণের সুযোগ থাকলেও এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। অর্থ বিভাগের সর্বশেষ অনুমোদন সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ বিভাগের অনুমোদনের পর এখন বিষয়টি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা রয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের স্থায়ীকরণের বিষয়টি পরবর্তী ধাপে এগোবে।
সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হলে আগামী ৮ থেকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এটি একটি প্রত্যাশিত সময়সীমা; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিষয়টির আর্থিক গুরুত্বও রয়েছে। স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রযোজ্য বিধি ও সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (Increment), বকেয়া প্রাপ্য (Arrear) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও চাকরিগত সুবিধা পাওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ স্থায়ীকরণের অপেক্ষায় থাকায় অর্থ বিভাগের অনুমোদনের খবরের পর তাঁদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাকি প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করা গেলে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিশ্চয়তার একটি স্থায়ী সমাধান হতে পারে।
বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বেবিচক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর পরিচালনা ও উন্নয়ন, বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, এয়ার ট্রাফিক সেবা, এভিয়েশন নিরাপত্তা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক ও পরিচালনাগত কার্যক্রমের সঙ্গে সংস্থাটির জনবল সরাসরি যুক্ত।
দেশের বিমান পরিবহন খাতের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম এবং যাত্রীসেবার চাপও বাড়ছে। এ অবস্থায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল ধরে রাখা এবং তাঁদের চাকরিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাকে বেবিচকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থ বিভাগের অনুমোদনের ফলে ২ হাজার ৩১১টি পদের ধারাবাহিকতা আরও এক বছরের জন্য নিশ্চিত হওয়া তাই শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নয়, বেবিচকের সামগ্রিক জনবল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনকারী জনবলের চাকরিগত অনিশ্চয়তা কমলে কর্মপরিবেশ ও কর্মোদ্যমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—অস্থায়ী পদের মেয়াদ সংরক্ষণের অনুমোদন এবং ওই পদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ এক বিষয় নয়। অর্থ বিভাগ বর্তমানে ২ হাজার ৩১১টি পদের মেয়াদ ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত সংরক্ষণের অনুমোদন দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্থায়ীকরণ এবং আর্থিক সুবিধা কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে।
এখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে। দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ হলে বেবিচকের দীর্ঘদিনের একটি জনবলসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা নিরসনের পাশাপাশি সংস্থাটির মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় আরও স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র
মন্তব্য করুন