এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সিভিল এভিয়েশন বিষয়ে মৌলিক ও সমন্বিত ধারণা দিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘Indoctrination Training on Civil Aviation’ প্রশিক্ষণ কোর্স শেষ হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
সিভিল এভিয়েশন একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে মন্ত্রণালয়ের ২৭ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। গত ১৮-১৯ সেপ্টেম্বর, ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২ অক্টোবর তিন ধাপে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সিভিল এভিয়েশন খাতের নীতি, নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়।
এর মধ্যে ছিল Civil Aviation Policy and Procedure, Flight Safety and Regulation, Aviation Security, Air Transport Economy, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতাসহ এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যাতে নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সময় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার কারিগরি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো সম্পর্কে সমন্বিত ধারণা কাজে লাগাতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই প্রশিক্ষণটি আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণ শুধু শ্রেণিকক্ষের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। অংশগ্রহণকারীদের বিমানবন্দরের কার্যক্রম সরাসরি দেখানোর ব্যবস্থাও করা হয়।
এর অংশ হিসেবে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (ATMC), এপ্রোন এবং ফায়ার স্টেশন পরিদর্শন করেন।
এর মাধ্যমে বিমানবন্দর পরিচালনা, উড়োজাহাজের গ্রাউন্ড অপারেশন, এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পান অংশগ্রহণকারীরা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
তিনি বলেন, সিভিল এভিয়েশন সম্পর্কে সমন্বিত জ্ঞান ও অভিন্ন ধারণা মন্ত্রণালয় এবং বেবিচকের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ জুলকার নায়ন উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মাহাবুব আলম বলেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা সিভিল এভিয়েশনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব ও সমন্বিত ধারণা অর্জন করেছেন।
অর্জিত জ্ঞান তাদের দায়িত্ব পালনে সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ হবে।
বিশেষ করে ICAO-এর স্ট্যান্ডার্ড ও সুপারিশমালার আলোকে বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে তারা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল একটি উচ্চমাত্রায় নিয়ন্ত্রিত ও কারিগরিনির্ভর খাত। বিমানবন্দর পরিচালনা, ফ্লাইট সেফটি, এভিয়েশন সিকিউরিটি, এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়ন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের সমন্বিত প্রশিক্ষণ দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কারিগরি ও প্রশাসনিক বোঝাপড়া আরও বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান, সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান, সদস্য (এটিএম) এয়ার কমোডোর মোঃ নূর-ই-আলম, সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস) এয়ার কমোডোর মোঃ মনিরুল ইসলাম, সদস্য (অর্থ) মোহাম্মদ নাজমুল হক, প্রধান প্রকৌশলী মোঃ জাকারিয়া হোসেন, সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।
সূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)
মন্তব্য করুন