এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবন সিটিক টাওয়ারে (চায়না জুন) একটি ছোট বিমান আঘাত হানার ঘটনায় পাইলট নিহত এবং আরও ১৩ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ভবন ও আশপাশের এলাকায় জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ঘটনাটি গত ২৬ জুন স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে বেইজিংয়ের চাওয়াং জেলার ইস্ট থার্ড রিং রোড এলাকায় ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ, দমকল ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
বেইজিং কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটি ছিল একটি সিঙ্গেল-ইঞ্জিন, দুই আসনের হালকা স্পোর্টস এয়ারক্রাফট। বিমানটিতে শুধু পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন এবং ঘটনাস্থলে আরও ১৩ জন আহত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে সিটিক টাওয়ারের ওপরের অংশের কাচের বহিরাবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা যায়। বিমানটি ভবনে আঘাত করার পর এর ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ নিচে পড়ে যায়।
ঘটনার পর ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। জরুরি সেবার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং আশপাশের কয়েকটি সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটি ছিল চীনে তৈরি Sunward SA60L Aurora মডেলের একটি হালকা স্পোর্টস এয়ারক্রাফট। উড়োজাহাজটির নিবন্ধন নম্বর ছিল B-12PP।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটায় দেখা যায়, বিমানটি বেইজিংয়ের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর শহরের কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পরে সেটি সিটিক টাওয়ারে আঘাত হানে।
CITIC Tower, যা China Zun নামেও পরিচিত, বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবন। প্রায় ৫২৮ মিটার উঁচু ১০৮ তলাবিশিষ্ট ভবনটি বেইজিংয়ের সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত।
আধুনিক বেইজিংয়ের অন্যতম পরিচিত স্থাপত্য হিসেবে বিবেচিত এই ভবনে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত CITIC Group-এর সদর দপ্তর রয়েছে।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকায় একটি হালকা উড়োজাহাজ কীভাবে প্রবেশ করে আকাশচুম্বী ভবনে আঘাত হানল, সেই বিষয়টিও দুর্ঘটনার পর আলোচনায় আসে।
বেইজিংয়ের মতো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় এমন দুর্ঘটনা সাধারণ বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
বিশেষ করে চীনে হালকা উড়োজাহাজ, ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য নিম্ন-উচ্চতার আকাশযানকে কেন্দ্র করে ‘লো-অল্টিটিউড ইকোনমি’ সম্প্রসারণের উদ্যোগের মধ্যে ঘটনাটি নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব আরও সামনে নিয়ে আসে।
দুর্ঘটনার পর বেসরকারি হালকা ফিক্সড-উইং উড়োজাহাজসহ কিছু ধরনের বিনোদনমূলক বিমান চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপের খবরও পাওয়া যায়। তবে বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী ও কার্গো ফ্লাইট এসব ব্যবস্থার আওতার বাইরে ছিল।
কী কারণে বিমানটি নির্ধারিত পথ থেকে সরে বেইজিংয়ের কেন্দ্রীয় এলাকায় প্রবেশ করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত সিটিক টাওয়ারে আঘাত হানে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা, পাইলটের ফ্লাইট পরিকল্পনা, এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং দুর্ঘটনার আগে বিমানের গতিপথসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি সাধারণ বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে শুধু উড়োজাহাজের নিরাপত্তাই নয়, ঘনবসতিপূর্ণ শহরের ওপর দিয়ে ছোট বিমান পরিচালনায় কার্যকর আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে সামনে এনেছে।
মন্তব্য করুন