সংযুক্ত আরব আমিরাতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু মীর্জা আদনান পাঁচ দিন ধরে আটক রয়েছেন। তবে কী অভিযোগে বা কোন কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, গত ২২ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৫১ ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্বে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান মীর্জা আদনান। ফ্লাইট শেষে শারজাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে। পরে অধিকতর তদন্তের জন্য তাকে আবুধাবি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি আবুধাবি সিআইডির হেফাজতে রয়েছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, সংশ্লিষ্ট কেবিন ক্রু দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন। সেখানে ইমিগ্রেশন তাকে আটক করেছে। আটকের কারণ সম্পর্কে ইমিগ্রেশন কোনো তথ্য দেয় না। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
বিমানের শারজাহ স্টেশনের ব্যবস্থাপক জাকির হোসাইন জানান, শারজাহ সিআইডি তাকে আটক করে আবুধাবি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করেছে। পরে আবুধাবির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিমানের আবুধাবি স্টেশন ও বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিষয়টি অবহিত করেছে। তবে আটকের কারণ সম্পর্কে তারা কোনো তথ্য জানায়নি।
এদিকে, গত ২২ জুলাই থেকে মীর্জা আদনানের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী আনীসা মীর্জা। তিনি স্বামীর বর্তমান অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এবং আটকের কারণ সম্পর্কে দ্রুত স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রুদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশে দায়িত্ব পালনরত কোনো বিমানকর্মীকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার ঘটনায় দ্রুত কনস্যুলার ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত ঘটনা জানা যায় এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
মন্তব্য করুন