এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক পরিবেশ ও যাত্রীসেবা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বিদেশফেরত একাধিক যাত্রী। তবে ব্যস্ত সময়ে লাগেজ পরিবহনের ট্রলি সহজলভ্য রাখা এবং যাত্রীসেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরেজমিনে গিয়ে একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে এভিয়েশন বার্তা। তাঁদের বক্তব্যে বিমানবন্দরের বর্তমান পরিবেশ ও সেবার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব উঠে এসেছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের সুবিধার্থে ট্রলির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
কুমিল্লার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। এভিয়েশন বার্তার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিমানবন্দরের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
তবে ট্রলি পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে পাওয়া তথ্যে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। ফলে তাঁর বক্তব্য থেকে ট্রলি সংকট ছিল কি না, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
চাঁদপুরের বাসিন্দা ইব্রাহিম এবং মৌলভীবাজারের রফিক হোসেনের সঙ্গেও কথা বলে এভিয়েশন বার্তা। তাঁদের প্রতিক্রিয়াতেও বিমানবন্দরের বর্তমান সেবা ও পরিবেশ সম্পর্কে সন্তুষ্টির বিষয়টি উঠে এসেছে।
যাত্রীদের এসব অভিজ্ঞতা বিমানবন্দরের সেবার ইতিবাচক দিক তুলে ধরলেও ব্যস্ত সময়ে সব যাত্রী একই ধরনের সেবা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
বিমানবন্দরের বর্তমান যাত্রীসেবা ও ভবিষ্যৎ সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে চাইলে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান হবে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন টার্মিনাল চালুর মাধ্যমে যাত্রীসেবার অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়ার আগপর্যন্ত বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর সেবা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক কর্মকর্তা বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ট্রলি সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, যাত্রীদের সুবিধার্থে বেবিচকের উচিত বাড়তি কিছু ট্রলি কিনে রাখা, যাতে প্রয়োজনের সময় দ্রুত সরবরাহ করা যায়।
ট্রলি কেনার মতো তুলনামূলক সাধারণ একটি বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা কেন হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওই কর্মকর্তা। তবে ক্রয়প্রক্রিয়ার কোনো নির্দিষ্ট ফাইল কোথায় বা কেন আটকে রয়েছে, সে বিষয়ে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
তাঁর মতে, যাত্রীসেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বিমানবন্দরের সেবা আরও সহজ করা সম্ভব।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ প্রবাসী বাংলাদেশি। ফলে আগমন ও বহির্গমন এলাকায় ট্রলি, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, যাত্রী সহায়তা এবং যানবাহন চলাচলের মতো সেবাগুলো সরাসরি যাত্রী অভিজ্ঞতার ওপর প্রভাব ফেলে।
এভিয়েশন বার্তার সরেজমিনে কথা বলা যাত্রীদের সন্তুষ্টি বিমানবন্দরের বর্তমান সেবার একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছে। তবে এই অভিজ্ঞতাকে সব যাত্রীর সামগ্রিক সন্তুষ্টির প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যমান ইতিবাচক পরিবেশ ধরে রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ট্রলি সরবরাহ, নিয়মিত তদারকি এবং সেবার মান উন্নয়নে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতির পাশাপাশি বর্তমান টার্মিনালগুলোর যাত্রীসেবা আরও কার্যকর করার মধ্য দিয়েই বিমানবন্দরের সামগ্রিক সক্ষমতা ও যাত্রীদের আস্থা বাড়ানো সম্ভব।
সূত্র: এভিয়েশন বার্তার সরেজমিন প্রতিবেদন
মন্তব্য করুন