aviation
প্রকাশিত: 3 October 2026, 11:28:55 Am
অনলাইন সংস্করণ

এক যাত্রীর সঙ্গে ৫-১০ স্বজন: বাংলাদেশি সংস্কৃতির চাপ সামলাতে আধুনিক হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দর

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীর পাশাপাশি তাদের স্বজনদের উপস্থিতিতে landside এলাকায় তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ। বিমানবন্দরসংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে একজন যাত্রীকে বিদায় জানাতে বা স্বাগত জানাতে ৫ থেকে ১০ জন পর্যন্ত স্বজন বিমানবন্দরে আসেন।

প্রবাসী অধ্যুষিত বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় দীর্ঘদিন ধরেই বিমানবন্দরে স্বজনদের এমন উপস্থিতি দেখা যায়। বিদেশগামী পরিবারের সদস্যকে বিদায় জানানো কিংবা দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরা প্রবাসীকে স্বাগত জানাতে পরিবার-পরিজনের একসঙ্গে বিমানবন্দরে আসা অনেকের কাছেই আবেগের অংশ।

কিন্তু যাত্রীসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে এই অতিরিক্ত visitor traffic যুক্ত হওয়ায় বিমানবন্দরের terminal-এর বাইরের সড়ক, parking, arrival ও departure frontage এবং আশপাশের landside infrastructure-এর ওপরও চাপ বাড়ছে।

এর সঙ্গে বর্তমানে চলমান বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়নকাজ যুক্ত হওয়ায় ব্যস্ত সময়ে যানবাহন চলাচলে সাময়িক ধীরগতি ও congestion দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

একজন যাত্রী, সঙ্গে একাধিক স্বজন

Airport passenger traffic-এর হিসাব সাধারণত শুধু actual traveller-এর সংখ্যা দিয়ে করা হয়। কিন্তু landside planning-এর ক্ষেত্রে যাত্রীর সঙ্গে আসা visitor বা meeter-greeter-এর সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে বিশেষ করে আন্তর্জাতিক যাত্রীর ক্ষেত্রে পরিবারের একাধিক সদস্য একসঙ্গে বিমানবন্দরে আসার প্রবণতা রয়েছে।

কেউ বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রথমবার যাচ্ছেন, কেউ হজ বা ওমরাহ করতে যাচ্ছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরছেন—এ ধরনের যাত্রাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের বিমানবন্দরে উপস্থিতি অনেক সময় উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে।

বিমানবন্দরসংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে একজন যাত্রীর সঙ্গে পাঁচ থেকে দশজন পর্যন্ত স্বজন বিমানবন্দরে আসেন।

তবে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত national average হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং বিমানবন্দরের দৈনন্দিন operation-এ দেখা একটি সামাজিক প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

টার্মিনালের ভেতরের যাত্রীর চেয়ে বাইরে চাপ হতে পারে অনেক বেশি

ধরা যাক, নির্দিষ্ট সময়ে এক হাজার international passenger arrival বা departure-এর জন্য বিমানবন্দরে রয়েছেন।

তাদের একটি অংশের সঙ্গে যদি একাধিক স্বজন গাড়ি নিয়ে বিমানবন্দরে আসেন, তাহলে terminal-এর বাইরের বাস্তব crowd ও vehicle demand শুধু ওই এক হাজার যাত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

এ কারণেই একটি বিমানবন্দরের passenger terminal capacity এবং landside capacity এক বিষয় নয়।

Terminal-এর ভেতরে immigration, security ও baggage handling গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাইরে airport access road, parking, drop-off/pick-up zone, pedestrian movement এবং public transport management সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শাহজালালের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই landside pressure ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

চলমান উন্নয়নকাজেও সাময়িক চাপ

বর্তমানে বিমানবন্দর এলাকায় একাধিক বড় অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ চলছে।

নির্মাণকাজের কারণে কিছু জায়গায় road space, vehicle movement এবং pedestrian access সাময়িকভাবে সীমিত হওয়ায় peak hour-এ traffic flow ধীর হতে পারে।

বিশেষ করে একই সময়ে কয়েকটি আন্তর্জাতিক flight arrival বা departure হলে terminal frontage-এ private car, microbus, taxi এবং অন্যান্য যানবাহনের উপস্থিতি দ্রুত বেড়ে যায়।

এর সঙ্গে construction-related diversion বা lane restriction যুক্ত হলে congestion আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

তবে এই অসুবিধার একটি অংশ উন্নয়নকাজের সময়কার সাময়িক operational challenge বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১,০৭০ মিটারের আন্ডারপাসে বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশা

বিমানবন্দর এলাকার landside connectivity উন্নয়নে সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৭০ মিটার দীর্ঘ আধুনিক আন্ডারপাস।

প্রকল্পটি বিমানবন্দর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে pedestrian ও transport connectivity আরও নিরাপদ এবং সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত হচ্ছে।

আন্ডারপাসে আধুনিক fire safety system, escalator, elevator, ventilation এবং emergency service-সহ বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এটি পুরোপুরি চালু হলে airport area-তে মানুষের চলাচল আরও সংগঠিত করার পাশাপাশি surface road-এর ওপর pedestrian pressure কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আন্ডারপাস হলেই সব যানজট শেষ হবে না

নতুন infrastructure বিমানবন্দর এলাকার traffic management-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু একটি underpass চালু হলেই শাহজালালের landside congestion পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

কারণ airport traffic-এর সঙ্গে passenger volume, visitor সংখ্যা, private vehicle dependency, parking capacity, public transport, terminal frontage management এবং airport access road-এর সামগ্রিক traffic flow জড়িত।

ফলে underpass-এর পাশাপাশি কার্যকর pick-up/drop-off management, parking discipline, public transport connectivity এবং traffic enforcement প্রয়োজন হবে।

নির্বাহী পরিচালক যা বললেন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ, পিএসসি, জিডি(পি) জানিয়েছেন, যাত্রীর চাপ বেশি থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তবে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

চলমান উন্নয়নকাজের কারণে বর্তমানে কিছু সাময়িক অসুবিধা থাকলেও কাজ শেষ হওয়ার পর যাত্রীরা আরও আধুনিক, নিরাপদ ও উন্নত বিমানবন্দর সেবা পাবেন বলে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন নির্বাহী পরিচালক।

চালু হয়েছে ফ্রি শাটল সার্ভিস

যাত্রীদের landside movement সহজ করতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ইতোমধ্যে ফ্রি শাটল সার্ভিস চালু করেছে।

এই সেবার মাধ্যমে বিমানবন্দরে আগত ও প্রস্থানকারী যাত্রীদের নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের মধ্যে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে public transport ব্যবহারকারী যাত্রী এবং লাগেজ নিয়ে airport terminal-এ যাতায়াতকারীদের জন্য shuttle service একটি অতিরিক্ত বিকল্প তৈরি করেছে।

Airport area-তে private vehicle dependency কিছুটা কমাতে দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের public transport connectivity গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শুধু যাত্রী নয়, গাড়ির সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ

একটি airport-এর landside congestion বোঝার ক্ষেত্রে কতজন মানুষ বিমানবন্দরে আসছেন, তার পাশাপাশি তারা কতটি গাড়িতে আসছেন—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

একই পরিবারের পাঁচজন একটি গাড়িতে এলে যে road space প্রয়োজন, পাঁচজন পাঁচটি আলাদা গাড়িতে এলে তার প্রভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এ কারণে visitor management-এর পাশাপাশি vehicle occupancy, parking duration এবং pick-up/drop-off behaviour-ও traffic planning-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশেষ করে arrival passenger নিতে আসা গাড়ি দীর্ঘ সময় terminal frontage-এ অপেক্ষা করলে road capacity দ্রুত কমে যেতে পারে।

Flight information ব্যবহারে কমতে পারে অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা

বিদেশ থেকে আগত কোনো flight নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে পৌঁছালে যাত্রীকে নিতে আসা স্বজনরা আগে থেকেই বিমানবন্দরে উপস্থিত হলে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

এর ফলে parking ও surrounding road-এ গাড়ির অবস্থানের সময়ও বাড়ে।

স্বজনরা airport-এ রওনা হওয়ার আগে airline বা airport-এর updated flight status যাচাই করলে অপ্রয়োজনীয় waiting time কিছুটা কমানো সম্ভব।

একইভাবে পরিবারের সবাই আলাদা গাড়িতে না এসে সম্ভব হলে একসঙ্গে যাতায়াত করলে vehicle pressure কমানো যায়।

এগুলো ছোট পদক্ষেপ হলেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও visitor থাকা একটি airport-এর ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

পারিবারিক সংস্কৃতিকে বাদ দিয়ে সমাধান নয়

বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিদেশগামী বা বিদেশফেরত স্বজনকে বিদায় ও স্বাগত জানাতে পরিবারের সদস্যদের বিমানবন্দরে আসার বিষয়টি শুধু traffic management-এর সমস্যা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না।

এর সঙ্গে দেশের শক্তিশালী পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন জড়িত।

বিশেষ করে বহু বছর পর দেশে ফেরা প্রবাসী কিংবা প্রথমবার বিদেশে যাওয়া পরিবারের সদস্যকে ঘিরে airport farewell ও reception অনেক পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আবেগঘন মুহূর্ত।

তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত এই সামাজিক বাস্তবতাকে বাধা দেওয়া নয়; বরং airport infrastructure ও traffic management-কে সেই বাস্তবতার উপযোগী করে গড়ে তোলা।

সামনে প্রয়োজন সমন্বিত landside management

শাহজালালের passenger traffic বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু terminal-এর ভেতরের capacity বৃদ্ধি করলেই যথেষ্ট হবে না।

Terminal frontage, parking, pedestrian access, shuttle service, public transport connection, traffic circulation এবং visitor management—সবকিছুকে একই পরিকল্পনার মধ্যে আনতে হবে।

চলমান underpass এবং অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্প শেষ হলে বর্তমান কিছু bottleneck কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তৃতীয় টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ operation শুরু হলে airport landside management-এর গুরুত্ব আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক traffic management, পর্যাপ্ত parking এবং public transport ও shuttle connectivity-এর সমন্বয়ে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাতায়াত আরও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হবে।

শাহজালালের জন্য চ্যালেঞ্জটি তাই শুধু বাড়তে থাকা যাত্রী সামলানো নয়—যাত্রীকে বিদায় ও স্বাগত জানাতে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচলকেও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ব্যবস্থার মধ্যে আনা।

সূত্র:  বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে শাহজালালে যাত্রী ধারণক্ষমতা বেড়ে হব

1

১৪০তম ক্যান্টন ফেয়ার উপলক্ষে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ ভিসা সু

2

কক্সবাজার থেকে পেনাং, কাঠমান্ডু ও কুনমিংয়ে সরাসরি ফ্লাইটের ন

3

নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান পর্যটন মন্ত্

4

নাইজেরিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ৩২ আরোহীর সবাই নিহত

5

আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ, ব্যয় হবে কয়েক বিলিয়ন ডলার

6

বিমানের কাছে বেবিচক-পদ্মা অয়েলের পাওনা ৭ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা

7

শাহজালাল বিমানবন্দরে কোটি টাকার বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণ, নিষি

8

সিভিল এভিয়েশন বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রথম প্রশিক্ষ

9

হেনলি পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি, তিন ধাপ এগিয়ে ৯৭তম

10

তীব্র ঝড়ো আবহাওয়ায় তিউনিসিয়ায় নামতে পারেনি Turkish Airlines-

11

হায়াত প্লেস ঢাকা উত্তরায় ১০ দিনের সি-ফুড উৎসব শুরু ৬ আগস্ট

12

বোয়িং ৭৮৭-৯ এ প্রথম স্টারলিংক চালু করল কাতার এয়ারওয়েজ

13

১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা–রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করল বিম

14

অক্টোবরে চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: বিমানম

15

প্রবাসীদের নিরাপত্তায় বিমানবন্দর এলাকায় বাড়ছে নজরদারি, ১০০ স

16

সন্দেহ হলেই যাত্রী ছাড়াই লাগেজ খুলে তল্লাশি করবে থাইল্যান্ডে

17

ইউএস-বাংলার হজ ফ্লাইটে আগ্রহ, ৯৮ হাজার টাকা নেট ভাড়ার প্রস্ত

18

বরিশাল-ঢাকা রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট চালুর দাবি, যশোর-বরিশাল-চট্

19

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌনে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণের চুড়িসহ যাত্

20