এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বাংলাদেশে কার্যক্রমের ১৫ বছর পূর্তি উদযাপনে রাজধানীর হাতিরঝিলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘তুর্কিশ এয়ারলাইন্স হাফ ম্যারাথন ২০২৬’। গত ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় পাঁচ হাজার দৌড়বিদ অংশ নেন।
ফিটনেস ও ক্রীড়া আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাক্টিভপালসের উদ্যোগে আয়োজিত হাফ ম্যারাথনের সঙ্গে যুক্ত হয় তুরস্কের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা তুর্কিশ এয়ারলাইন্স। স্বাস্থ্যকর ও সক্রিয় জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে এয়ারলাইন্সটির দেড় দশকের কার্যক্রম উদযাপন ছিল আয়োজনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক ইসলাম গুরে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের ১৫ বছরের যাত্রা শুধু বিমান যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই সময়ে বাংলাদেশ, তুরস্ক এবং বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তুর্কিশ এয়ারলাইন্স মানুষ ও সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিকে গুরুত্ব দেয়। নিয়মিত বিমানসেবার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।
আয়োজনটি সফল করতে সহযোগিতা করায় সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, ব্যবসায়িক অংশীদার, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক এবং অংশগ্রহণকারী দৌড়বিদদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
রাজধানীর অন্যতম পরিচিত বিনোদন ও উন্মুক্ত পরিসর হাতিরঝিলে আয়োজিত হাফ ম্যারাথনে দেশি দৌড়বিদদের পাশাপাশি বিদেশি অংশগ্রহণকারীরাও যোগ দেন।
প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের কারণে আয়োজনটি শুধু একটি corporate anniversary programme-এ সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং running community, aviation brand এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের অংশগ্রহণের একটি বৃহৎ সামাজিক আয়োজনে পরিণত হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন airline তাদের brand engagement-এর অংশ হিসেবে sports, tourism, culture এবং community event-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকে। Marathon ও running event-এর সঙ্গে airline-এর সম্পৃক্ততার একটি স্বাভাবিক যোগসূত্রও রয়েছে—কারণ এ ধরনের আন্তর্জাতিক sporting event অনেক ক্ষেত্রেই tourism এবং cross-border travel-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
বাংলাদেশে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের ১৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানেও সেই community engagement-এর দিকটি সামনে এসেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগিব সামাদ।
এছাড়া ঢাকায় তুরস্কের দূতাবাসের ইরেম চেলিক, ইউনাইটেড এয়গাজ এলপিজির হারুন ওর্তাচ, সিঙ্গার বেকো বাংলাদেশের ওসমান চেলিক, তুর্কিশ কার্গোর ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন খান এবং তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের সেমিহ কুলচু ও ইউসুফ সারিতাক এবং অ্যাক্টিভপালসের প্রতিষ্ঠাতা তানভীর আহমেদ ও মোরসালিন আহমেদও আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।
তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ইস্তাম্বুল শুধু একটি point-to-point destination নয়; এটি airlineটির বৈশ্বিক network-এর প্রধান hub।
ঢাকা থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের গন্তব্যে connecting journey করার সুযোগ থাকায় বাংলাদেশের international air travel market-এ এই route-এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
বিশেষ করে Europe ও North America-গামী যাত্রীদের একটি অংশ Middle Eastern এবং European hub ব্যবহার করে onward connection নেন। Istanbul সেই hub network-এর একটি বিকল্প।
ফলে বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক airline-এর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির গুরুত্ব শুধু ঢাকা ও ইস্তাম্বুলের মধ্যে যাত্রী পরিবহনের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে onward international connectivity-ও যুক্ত।
বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক airline connectivity-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে air cargo।
দেশের তৈরি পোশাক, উচ্চমূল্যের পণ্য, জরুরি shipment এবং দ্রুত পরিবহন প্রয়োজন এমন বিভিন্ন ধরনের রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে air freight গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তুর্কিশ এয়ারলাইন্স গ্রুপের cargo operation থাকায় passenger connectivity-এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক logistics network-এর সঙ্গেও বাংলাদেশের যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে Turkish Cargo-এর প্রতিনিধির উপস্থিতিও airlineটির বাংলাদেশ কার্যক্রমে passenger ও cargo—দুই segment-এর সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরে।
একটি airline-এর মূল ব্যবসা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন হলেও contemporary aviation industry-তে brand relationship শুধু airport বা aircraft cabin-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
Sports sponsorship, cultural programme, tourism event এবং community initiative-এর মাধ্যমে airlineগুলো যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করে।
Running event-এর ক্ষেত্রে এর সঙ্গে health, tourism ও international participation-এর মতো বিষয়ও যুক্ত হয়।
বিশেষ করে কোনো দেশে দীর্ঘ সময় কার্যক্রম পরিচালনার milestone উদযাপনে এ ধরনের public event traditional corporate অনুষ্ঠানের তুলনায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ বেশি তৈরি করে।
তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের ১৫ বছর পূর্তির আয়োজনেও প্রায় পাঁচ হাজার runner-এর অংশগ্রহণ সেই বৃহৎ জনসম্পৃক্ততার দিকটি সামনে এনেছে।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিমান যোগাযোগ পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক transit—বিভিন্ন ধরনের যাত্রীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
একটি direct air link দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণের সময় কমানোর পাশাপাশি business delegation, tourist এবং অন্যান্য traveller-এর চলাচল সহজ করতে পারে।
আর একটি hub airline-এর ক্ষেত্রে সেই connectivity আরও বিস্তৃত হয়, কারণ যাত্রীরা hub airport ব্যবহার করে তৃতীয় দেশের গন্তব্যেও যেতে পারেন।
তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক ইসলাম গুরের বক্তব্যেও এই people-to-people connection-এর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তার মতে, aviation connectivity-এর পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ বাংলাদেশ ও তুরস্কের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার সুযোগ তৈরি করে।
বাংলাদেশের aviation market গত দেড় দশকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াত, পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে বিদেশি airlineগুলোর জন্যও বাজারটির গুরুত্ব বেড়েছে।
এই বাজারে ১৫ বছর কার্যক্রম পরিচালনার milestone-কে তুর্কিশ এয়ারলাইন্স এবার প্রচলিত anniversary programme-এর পরিবর্তে বড় একটি public sporting event-এর সঙ্গে যুক্ত করেছে।
হাতিরঝিলে দেশি-বিদেশি প্রায় পাঁচ হাজার দৌড়বিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘তুর্কিশ এয়ারলাইন্স হাফ ম্যারাথন ২০২৬’ তাই শুধু একটি দৌড় প্রতিযোগিতা নয়; এটি airlineটির বাংলাদেশে দেড় দশকের উপস্থিতি, community engagement এবং international connectivity-কে একই আয়োজনে তুলে ধরেছে।
একই সঙ্গে আয়োজনটি স্বাস্থ্যকর ও সক্রিয় জীবনযাপন এবং বাংলাদেশ-তুরস্কের মানুষের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার বার্তা দিয়েছে।
সূত্র: তুর্কিশ এয়ারলাইন্স ও ‘তুর্কিশ এয়ারলাইন্স হাফ ম্যারাথন ২০২৬’ আয়োজনসংশ্লিষ্ট প্রকাশিত তথ্য।
মন্তব্য করুন