এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর যেসব বাংলাদেশি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আসবেন, তারা পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় যাদের জোরপূর্বক ফেরত বা ডিপোর্ট করা হবে, তারা এই সুবিধা পাবেন না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে নিরাপদ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসন, মানবপাচার প্রতিরোধ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের উপযোগী প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের অনিয়মিত অভিবাসন ও আশ্রয় আবেদনের বিষয়টিও উঠে আসে।
সারাহ কুক জানান, যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনকারীদের উৎস দেশের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচটির মধ্যে রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশিদের করা আশ্রয় আবেদনের মধ্যে অল্পসংখ্যক অনুমোদন পেয়েছে এবং প্রত্যাখ্যাত আবেদনকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
তবে আশ্রয়ের আবেদন করা এবং অনিয়মিতভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করা একই বিষয় নয়। প্রতিটি asylum claim ব্যক্তির পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিবেচিত হয়।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার জানান, আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর যারা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে আসতে চান, তাদের পুনর্বাসনে ৩ হাজার পাউন্ড আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাদের ডিপোর্ট বা ফেরত পাঠানো হয়, তাদের ক্ষেত্রে এই আর্থিক সুবিধা প্রযোজ্য নয়।
ফলে এই সহায়তাকে যুক্তরাজ্যে থাকা সব বাংলাদেশির জন্য সাধারণ ‘ফেরত ভাতা’ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এটি প্রত্যাখ্যাত আশ্রয় আবেদনকারীদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের নির্দিষ্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী অভিবাসী কর্মীদের শোষণ, অনিয়মিত অভিবাসন এবং মানবপাচার প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি দক্ষ জনশক্তি তৈরি, বিদেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত এবং প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কর্মী তৈরিতেও সহযোগিতা চেয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী।
বিশেষ করে ইংরেজি ভাষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
দেশে থাকা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি Green Skill ও Digital Skill প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণেও যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন।
তার মতে, এর মাধ্যমে ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ নিয়ে বৈধভাবে বিদেশে কাজের সুযোগ বাড়লে তরুণদের নিয়মিত অভিবাসনের পথে উৎসাহিত করা সহজ হবে বলেও বৈঠকে মত দেওয়া হয়।
অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে একটি যৌথ Working Group গঠনের প্রস্তাব দেন আরিফুল হক চৌধুরী।
একই সঙ্গে ফিরে আসা প্রবাসী কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসন ও সমাজে পুনঃএকত্রীকরণে চলমান প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সারাহ কুক আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি নিরাপদ, নিয়মিত ও সাশ্রয়ী শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করা, অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং Global Compact for Migration বাস্তবায়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেন।
যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে চাকরি, পড়াশোনা বা অন্য উদ্দেশ্যে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য সঠিক ভিসা ও অভিবাসনপথ অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারী ‘যুক্তরাজ্যে গিয়ে asylum করলেই থাকা যাবে’ কিংবা ‘আশ্রয়ের আবেদন করলেই পরে বৈধ হওয়া যাবে’—এ ধরনের নিশ্চয়তা দিলে তা বিশ্বাস করার আগে যুক্তরাজ্যের সরকারি immigration rules যাচাই করা উচিত।
একইভাবে ৩ হাজার পাউন্ডের সহায়তাকে যুক্তরাজ্যে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করার আর্থিক সুবিধা হিসেবেও দেখা উচিত নয়। বৈঠকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর যোগ্য ব্যক্তির স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সঙ্গে যুক্ত পুনর্বাসন সহায়তা।
বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স কাউন্সেলর রায়ান ডানকানসন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও প্রকাশিত তথ্য
মন্তব্য করুন