এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
প্রায় এক বছর বিরতির পর জাপানের টোকিও (নারিতা) ও বাংলাদেশের ঢাকার মধ্যে পুনরায় সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী ২৭ জুলাই ২০২৬ থেকে এই রুটে আবার যাত্রী পরিবহন শুরু করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনটি।
প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে একটি রাউন্ড-ট্রিপ ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি সোমবার ঢাকা ও টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে ফ্লাইটটি চলবে।
দূরপাল্লার এই রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে।
প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, প্রতি সোমবার ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটে একটি রাউন্ড-ট্রিপ ফ্লাইট পরিচালিত হবে।
টোকিওর নারিতা থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে ফ্লাইটটির আনুমানিক ৭ ঘণ্টা সময় লাগবে। অন্যদিকে ঢাকা থেকে নারিতা যেতে সময় লাগবে প্রায় ৬ ঘণ্টা ৫০ মিনিট।
সরাসরি ফ্লাইট হওয়ায় যাত্রীদের তৃতীয় কোনো দেশের বিমানবন্দরে ট্রানজিট বা উড়োজাহাজ পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। ফলে কানেক্টিং ফ্লাইটের তুলনায় ভ্রমণের মোট সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
বিশেষ করে পরিবারসহ ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী, প্রবীণ যাত্রী এবং সময়-সংবেদনশীল ব্যবসায়িক যাত্রীদের জন্য ননস্টপ ফ্লাইট বাড়তি সুবিধা তৈরি করবে।
ঢাকা-নারিতা রুটে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
ড্রিমলাইনার মূলত দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনার জন্য তৈরি আধুনিক ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ। জ্বালানি দক্ষতা, দীর্ঘপথে পরিচালন সক্ষমতা এবং আধুনিক কেবিন প্রযুক্তির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন দূরপাল্লার রুটে বোয়িং ৭৮৭ পরিবার ব্যবহার করে।
ঢাকা থেকে টোকিওর মতো প্রায় সাত ঘণ্টার ফ্লাইটে ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ ব্যবহার যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি ব্যাগেজ ও কার্গো সক্ষমতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা-নারিতা রুট পুনরায় চালুর অন্যতম বড় সুবিধা হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে ননস্টপ আকাশ যোগাযোগ।
বর্তমানে এই রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সই সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইন হওয়ায় যাত্রীরা ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে উঠে কোনো ট্রানজিট ছাড়াই টোকিও পৌঁছাতে পারবেন।
সরাসরি ফ্লাইট না থাকলে বাংলাদেশ থেকে জাপানগামী যাত্রীদের অনেক ক্ষেত্রে তৃতীয় দেশের কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে কানেক্টিং ফ্লাইট ব্যবহার করতে হয়। এতে যাত্রার মোট সময় বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘ ট্রানজিট ও ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনার মতো বাড়তি ঝামেলা তৈরি হতে পারে।
সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় এসব যাত্রীর সামনে তুলনামূলক সহজ একটি বিকল্প ফিরে আসছে।
জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত মানুষ জাপানে যাতায়াত করেন। তাদের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সরকারি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ীদেরও নিয়মিত ভ্রমণ রয়েছে।
সরাসরি ফ্লাইট থাকলে জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফেরা কিংবা বাংলাদেশ থেকে দ্রুত জাপানে পৌঁছানো সহজ হবে।
তবে প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে মাত্র একটি ফ্লাইট থাকায় যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা নির্ধারিত দিনের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। ভবিষ্যতে যাত্রী চাহিদা বাড়লে ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশের বিভিন্ন বড় অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে জাপানের প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সম্পৃক্ততা রয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগকেন্দ্রিক যোগাযোগও রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবসায়িক সফরের সময় কমাতে এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি ড্রিমলাইনারের কার্গো সক্ষমতাও দুই দেশের মধ্যে উচ্চমূল্যের ও সময়-সংবেদনশীল পণ্য পরিবহনে সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট শুধু প্রবাসী ও ব্যবসায়িক যাত্রীদের জন্য নয়, পর্যটন খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
জাপানি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ এবং বাংলাদেশি পর্যটকদের জাপান ভ্রমণে সরাসরি আকাশ যোগাযোগ যাত্রাপথকে সহজ করে। ট্রানজিটের প্রয়োজন না থাকায় স্বল্প সময়ের ভ্রমণ পরিকল্পনাও তুলনামূলক সুবিধাজনক হয়ে ওঠে।
এক বছর বিরতির পর রুটটি পুনরায় চালু হওয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সরাসরি আকাশ যোগাযোগ আবার সচল হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট দিয়ে শুরু হলেও যাত্রী চাহিদা ও রুটটির বাণিজ্যিক সাফল্য ভবিষ্যতে এর ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
মন্তব্য করুন