এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বাংলাদেশি পর্যটকদের নেপাল ভ্রমণে উৎসাহিত করতে ঢাকায় বিশেষ পর্যটন প্রচারণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নেপাল দূতাবাস ও নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড। ‘নেপাল ইজ কলিং: ভিজিট, এক্সপ্লোর, এক্সপেরিয়েন্স’ শীর্ষক এ আয়োজনে দুই দেশের পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যৌথ ট্যুর প্যাকেজ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও নেপালের পর্যটন খাতের উদ্যোক্তা, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা অংশ নেন। ঢাকায় নেপাল দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো পর্যটন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ।
তিনি দুই দেশের ভৌগোলিক নৈকট্য, সাংস্কৃতিক মিল ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, নেপালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বৈচিত্র্যময় পর্যটন আকর্ষণ বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এ সময় তিনি বাংলাদেশি পর্যটকদের নেপাল ভ্রমণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ডা. নুরুন নাহার চৌধুরী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের সম্পর্ক আরও গভীর করতে পর্যটন খাতে সহযোগিতা এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দুই দেশের পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও নেপালের ট্যুর অপারেটরদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং পর্যটকদের জন্য যৌথ ভ্রমণ প্যাকেজ তৈরির আহ্বান জানান সচিব।
অনুষ্ঠানে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সিনিয়র ম্যানেজার সন্তোষ কুমার ঘিমিরে দেশটির পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন।
তিনি নেপালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম এবং স্বাস্থ্য ও সুস্থতাভিত্তিক পর্যটনের সুযোগ তুলে ধরেন।
এ ছাড়া সভা, প্রণোদনামূলক ভ্রমণ, সম্মেলন ও প্রদর্শনীভিত্তিক পর্যটন বা এমআইসিই (MICE) খাতের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সন্তোষ কুমার ঘিমিরে নেপালকে সারা বছর ভ্রমণের উপযোগী, নিরাপদ ও অতিথিপরায়ণ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ও নেপালের ট্যুর অপারেটর এবং ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক পর্যায়ের (B2B) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের পর্যটন উদ্যোক্তারা যৌথ ভ্রমণ প্যাকেজ, দলগত পর্যটন এবং পারস্পরিক প্রচারণার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
এ ধরনের যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন প্রতীক কার্কী, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ এবং এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল।
পর্যটন প্রচারণা অনুষ্ঠানে নেপালের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি র্যাফেল ড্র আয়োজন করা হয়।
র্যাফেল ড্রয়ের পুরস্কারের মধ্যে ছিল হিমালয়া এয়ারলাইন্সের পৃষ্ঠপোষকতায় বিমান টিকিট।
এ ছাড়া নেপালের অংশগ্রহণকারী ট্যুর ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে বিশেষ হলিডে প্যাকেজ দেওয়া হয়।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম নেপালের পর্যটন গন্তব্য সম্পর্কে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
এদিকে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের নেতৃত্বে দেশটির ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিনিধিরা ঢাকায় অনুষ্ঠিত ১৪তম বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ারে (বিটিটিএফ) অংশ নিচ্ছেন।
২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আয়োজিত এ মেলায় নেপালের পর্যটন আকর্ষণ ও ভ্রমণসেবা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন দেশটির পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের প্রচারণা ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে পর্যটক বিনিময় বাড়াতে এবং দুই দেশের পর্যটন খাতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: ঢাকায় নেপাল দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
মন্তব্য করুন