aviation
প্রকাশিত: 3 October 2026, 10:16:24 Am
অনলাইন সংস্করণ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার উদ্বোধন

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনাকে আরও নিরাপদ, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু হয়েছে আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (ATMC)। গত ২০ এপ্রিল সকাল ১০টায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বেবিচকের সরকারি ফটো গ্যালারিতেও ২০ এপ্রিলের উদ্বোধন ও দুই মন্ত্রীর কেন্দ্র পরিদর্শনের তথ্য রয়েছে। 

নতুন কেন্দ্রটির প্রযুক্তি সরবরাহ ও স্থাপনে কাজ করেছে ফ্রান্সের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Thales। নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ফ্লাইটগুলোকে রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, যা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের আরও কার্যকরভাবে উড়োজাহাজ চলাচল পরিচালনায় সহায়তা করবে। 

২২ জানুয়ারি থেকেই অপারেশনে ছিল নতুন ব্যবস্থা

যদিও কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে ২০ এপ্রিল, এর ATM Automation System গত ২২ জানুয়ারি থেকেই নতুন ATMC থেকে অপারেশন শুরু করে। বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান। 

নতুন ব্যবস্থায় Flight Data Processing, radar এবং ADS-B তথ্য সমন্বয়ের পাশাপাশি উন্নত safety net ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা একই ব্যবস্থার মধ্যে বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। 

এ ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ কারণ একটি দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় শুধু উড়োজাহাজের অবস্থান দেখাই যথেষ্ট নয়। কোন ফ্লাইট কোন রুটে যাচ্ছে, উচ্চতা কত, অন্য উড়োজাহাজের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় থাকছে কি না এবং ট্রাফিক প্রবাহ কীভাবে পরিচালনা করা হবে—এসব তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

বাড়বে আকাশসীমার সক্ষমতা

বেবিচক জানিয়েছে, নতুন ATMC চালুর ফলে ফ্লাইট পরিচালনায় নির্ভুলতা ও সময়ানুবর্তিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের আকাশসীমার ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো এবং ট্রাফিক মনিটরিং ও কন্ট্রোল আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। 

নতুন ব্যবস্থার নজরদারি সক্ষমতা বাংলাদেশের সমগ্র আকাশসীমাকে অন্তর্ভুক্ত করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রকল্পটি ২০১৯ সালে পরিকল্পনার পর্যায়ে যায় এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হয় বলে বেবিচক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়েছে। 

ওভারফ্লাইট থেকেও বাড়তে পারে রাজস্ব

আধুনিক আকাশসীমা ব্যবস্থাপনার অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। বাংলাদেশে অবতরণ না করেও যেসব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট দেশের নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমা ব্যবহার করে, সেসব ওভারফ্লাইট থেকে নির্ধারিত চার্জ আদায়ের সুযোগ রয়েছে।

বেবিচকের সদস্য (এটিএম) জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ওভারফ্লাইট রাজস্ব বৃদ্ধি, বিলম্ব হ্রাস ও জ্বালানি সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আরও দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর কাছে বাংলাদেশের আকাশপথের আকর্ষণ বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

আঞ্চলিক সমন্বয়েও নতুন সুযোগ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, নতুন প্রযুক্তি আঞ্চলিক সহযোগিতা ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমন্বিত আকাশসীমা ব্যবস্থাপনার সুযোগ বাড়াবে। নতুন ব্যবস্থার কভারেজ প্রায় ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। 

প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক রাডার, অটোমেশন ও ডেটা-নির্ভর এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রয়োজন।

বাংলাদেশ-ফ্রান্স সহযোগিতার অংশ

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-শার্লে নতুন ATMC-কে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সহযোগিতার একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এবং Thales-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট নিকোলাস বুভেরোসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

শুধু নতুন প্রযুক্তি নয়, দক্ষ পরিচালনাই হবে মূল পরীক্ষা

নতুন ATMC বাংলাদেশের এভিয়েশন অবকাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সংযোজন। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল নির্ভর করবে প্রযুক্তির নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম, প্রশিক্ষিত জনবল, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী অপারেশন পরিচালনার ওপর।

দেশের আকাশসীমায় ট্রাফিক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ও নিরাপদে বেশি সংখ্যক ফ্লাইট পরিচালনা, বিলম্ব কমানো এবং প্রতিবেশী দেশের এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নতুন কেন্দ্রটি সেই সক্ষমতা তৈরির অবকাঠামোগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বেবিচকে ‘Civil Aviation & Air Traffic Operation’ শীর্ষক কর্ম

1

বিমানের ফ্লাইটে ১৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট

2

AirAsia-এর অর্থসংকটে সরকারি সহায়তা নিয়ে আলোচনা

3

ICAO অডিট সামনে, নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করতে হবে: মন্ত্রী আফর

4

৮০ লাখ সক্ষমতায় ১ কোটি ২৬ লাখ যাত্রী, শাহজালালের চাপ কমাতে ১

5

ডিসেম্বরে চালুর লক্ষ্যে থার্ড টার্মিনালের প্রস্তুতি জোরদার,

6

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে বিমানমন্ত্রীকে সৌজন্য সাক্ষাৎ, HR

7

শাহজালালে মালয়েশিয়ান যাত্রীর কাছ থেকে সাড়ে ৪ কেজি স্বর্ণ উদ্

8

১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনে আগামী মাসেই ORAT প্রক্র

9

যাত্রীর মৃত্যুতে মাসকাটে আটকে আছে বিমানের বিজি-১৩৬ ফ্লাইট

10

শাহজালালসহ দেশের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জা

11

মাঝ আকাশে প্রতিকূল আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ইনডিগোর উড়োজাহাজ, নি

12

সব পাইলটের বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্টের সিদ্ধান্ত এয়ার ইন্ডিয়ার

13

বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বেবিচকের লাইসেন্স বাধ্যতাম

14

২১ নতুন বোয়িংয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা, বিনিয়োগ ১৪ হা

15

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এভিয়েশন সক্ষমতার উজ্জ্বল প্রতি

16

বিমানবন্দরে এক যাত্রীর সঙ্গে ৫–৬ স্বজন: ভিড়, বিশৃঙ্খলা ও নির

17

শাহজালাল বিমানবন্দরের সেবায় সন্তুষ্ট প্রবাসী যাত্রীরা, ট্রলি

18

পর্যটন খাত বদলে দিতে ২০ বছরের মহাপরিকল্পনা, চিহ্নিত ১,৪৯৮ পর

19

স্বাধীনতা দিবসে কাতার এয়ারওয়েজের টিকিটে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়

20