এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশে নিয়মিত নজরদারি চালানোর সময় দেশটির একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারে থাকা দুই ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে কী কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক তদন্তের বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সৌদি সামরিক জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি মার্কিন নির্মিত ‘এএইচ-৬আই’ (AH-6i) লাইট অ্যাটাক ও নজরদারি মডেলের ছিল। দুর্ঘটনাস্থলটি সৌদি ন্যাশনাল গার্ডের আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত। এদিকে দুর্ঘটনার পেছনে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কোনো হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই দুর্ঘটনার ঠিক আগেই হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে দাবি করেছিলেন, তাদের যোদ্ধারা নাজরান সীমান্তে একটি সৌদি অ্যাপাচি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটি হুথি যোদ্ধাদের অবস্থানের ওপর লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছিল। হুথিদের দাবির প্রায় একদিন পর সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের নজরদারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবর প্রকাশ করলেও এটি কোনো সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি। অন্যদিকে হুথিদের ‘অ্যাপাচি ভূপাতিত’ করার দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি। তিনি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি অক্ষত অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের ছবি প্রকাশ করে পাল্টা দাবি করেন, হুথিরা যে হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করার গুজব ছড়িয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং দ্রুতই অভিযানে অংশ নেবে। উল্লেখ্য, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি ও বিমান হামলার পাশাপাশি সৌদি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিরাও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করে আসছে। সর্বশেষ এই হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় ওই অঞ্চলের আকাশসীমা ও সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সূত্র: সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বক্তব্য ও হুথিদের প্রকাশিত দাবি; ব্যবহারকারীর সরবরাহ করা তথ্য।
মন্তব্য করুন