হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় আগামী আগস্টের শেষ বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে জাপানি একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেবিচক সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘Civil Aviation & Air Traffic Operation’ শীর্ষক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। এর আগে ৩১ জুলাই জাপানি কনসোর্টিয়াম তাদের প্রস্তাব (বিড) জমা দেবে। এরপর তা মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আশা করছি, আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে।”
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও পরিচালনাগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সাপেক্ষে ডিসেম্বরেই টার্মিনাল উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরবর্তী কার্যক্রম ও সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।
সরকার বর্তমানে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎস করপোরেশন এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে জাপানি পক্ষ সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর সেবা ফি, পরিচালন নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব ভাগাভাগি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থান আরও কাছাকাছি এসেছে।
প্রায় ৯৯ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনো চালু হয়নি দেশের সবচেয়ে আধুনিক এই টার্মিনাল। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর অর্থায়নে প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তৃতীয় টার্মিনালটি প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের। এটি চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী এবং প্রায় ৯ লাখ টন কার্গো পরিচালনার সক্ষমতা যুক্ত হবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদ্যমান যাত্রীচাপ কমবে, সেবার মান উন্নত হবে এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল একটি বিশেষায়িত ও কারিগরি খাত। তাই এভিয়েশন বিষয়ে নির্ভুল, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের জন্য বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও সঠিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, গণমাধ্যমকর্মীদের এভিয়েশন বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান বাড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
এ সময় তিনি বিমানবন্দরসহ স্পর্শকাতর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন রোধে বেবিচক কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান। তিনি বলেন, সংরক্ষিত এলাকায় ড্রোন পরিচালনার আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে তা অনুসরণ করা সবার দায়িত্ব।
কর্মশালায় বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বেসামরিক বিমান চলাচল, বিমানবন্দর পরিচালনা, যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় বিমানবন্দরে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে এমবার্কেশন ফি, যাত্রী নিরাপত্তা ফি ও এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফি মওকুফ, জমজমের পানি বিতরণ, পৃথক নামাজের স্থান, বিশুদ্ধ পানি, ওয়াশরুম, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ট্রলি, চেয়ার, কিউ ব্যারিয়ার, মশকনিধন কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডোর মো. নূর-ই-আলম এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি), এয়ার ট্রাফিক ফ্লো ম্যানেজমেন্ট (এটিএফএম), রেডিও ও ন্যাভিগেশন এইডস, ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস), অবস্ট্যাকল লিমিটেশন সারফেস (ওএলএস), এয়ারফিল্ড অপারেশন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ এয়ার ট্রাফিক অপারেশনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মন্তব্য করুন