এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
নাইজেরিয়ার আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বাজারে বিদেশি এয়ারলাইনসের শক্তিশালী অবস্থানের পেছনে স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলোর সীমিত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ককে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন United Nigeria Airlines-এর Chief Commercial Officer আদেদায়ো ওলাওয়ুই।
তাঁর মতে, যাত্রীদের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর connecting network গড়ে তুলতে না পারায় নাইজেরিয়ার স্থানীয় এয়ারলাইনস নিজেদের দেশের আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজারের একটি বড় অংশ কাজে লাগাতে পারছে না। বিপরীতে বিস্তৃত route network ও শক্তিশালী hub connectivity কাজে লাগিয়ে বিদেশি এয়ারলাইনস দেশটির যাত্রীদের বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে।
সম্প্রতি লাগোসে League of Airport and Aviation Correspondents (LAAC)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে নাইজেরিয়ার বিমান পরিবহন বাজারের এই বাস্তবতা তুলে ধরেন ওলাওয়ুই।
ওলাওয়ুইয়ের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে যাত্রীর চূড়ান্ত গন্তব্য এবং একটি এয়ারলাইনের hub airport-এর মধ্যকার পার্থক্য।
তিনি বলেন, নাইজেরিয়া থেকে Emirates-এর ফ্লাইটে ওঠা সব যাত্রীর চূড়ান্ত গন্তব্য দুবাই নয়। একইভাবে Qatar Airways-এর সব যাত্রী দোহা কিংবা Ethiopian Airlines-এর সব যাত্রী আদ্দিস আবাবায় ভ্রমণ করেন না।
ASky Airlines-এর যাত্রীদের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য—লোমে অনেকের চূড়ান্ত গন্তব্য না হয়ে connecting point হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এই বিমান সংস্থাগুলো তাদের hub airport ব্যবহার করে যাত্রীদের ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের অসংখ্য গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
ফলে একজন যাত্রী নাইজেরিয়া থেকে একটি airline network-এ প্রবেশ করেই এক বা একাধিক connection-এর মাধ্যমে নিজের চূড়ান্ত গন্তব্যে যেতে পারেন।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনে বড় network carrier-গুলোর সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি hub-and-spoke model।
এই ব্যবস্থায় একটি airline বিভিন্ন শহর থেকে যাত্রীদের নিজের প্রধান hub-এ নিয়ে আসে। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই যাত্রীদের বিভিন্ন connecting flight-এ বিশ্বের অন্য গন্তব্যে পাঠানো হয়।
এর ফলে প্রতিটি শহরের মধ্যে আলাদা direct flight পরিচালনার প্রয়োজন পড়ে না।
দুবাই, দোহা কিংবা আদ্দিস আবাবার মতো hub-এর শক্তি শুধু সেখানে কত যাত্রী ভ্রমণ করেন, তার ওপর নির্ভর করে না। বরং ওই বিমানবন্দর থেকে একজন যাত্রী কতগুলো onward destination-এ সহজে যেতে পারেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এই জায়গাতেই নাইজেরিয়ার স্থানীয় airline-গুলোর সীমাবদ্ধতা দেখছেন ওলাওয়ুই।
পরিস্থিতি পরিবর্তনে পশ্চিম আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সঙ্গে নাইজেরিয়ার সরাসরি বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন United Nigeria Airlines-এর এই কর্মকর্তা।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ডাকার রুটের কথা তুলে ধরেছেন।
লাগোস থেকে সরাসরি ফ্লাইটের পর্যাপ্ত বিকল্প না থাকলে একজন যাত্রীকে ডাকার যেতে লোমে, আবিদজান কিংবা বানজুলের মতো অন্য কোনো শহর হয়ে connection নিতে হতে পারে।
সরাসরি regional flight থাকলে যাত্রাপথ ছোট হওয়ার পাশাপাশি transit time কমতে পারে। একই সঙ্গে উপযুক্ত ভাড়া পাওয়া গেলে যাত্রীর মোট ভ্রমণ ব্যয়ও কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নাইজেরিয়ার স্থানীয় airline-গুলোর জন্য regional connectivity বাড়ানোর অর্থ শুধু নাইজেরিয়া থেকে অন্য দেশে যাত্রী পরিবহন নয়।
সঠিক network তৈরি করা গেলে একটি Nigerian airline ভবিষ্যতে অন্য পশ্চিম আফ্রিকান শহরের মধ্যকার যাত্রীও নিজের network-এর মাধ্যমে পরিবহন করতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, একটি airline যদি লাগোসকে কার্যকর regional connecting point হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, তাহলে বিভিন্ন শহর থেকে আসা যাত্রীদের লাগোস হয়ে অন্য গন্তব্যে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে।
অর্থাৎ স্থানীয় airline ধীরে ধীরে শুধু point-to-point carrier না থেকে একটি regional network carrier হিসেবেও অবস্থান তৈরি করতে পারে।
তবে এর জন্য শুধু নতুন route ঘোষণা করলেই হবে না।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক network সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বাস্তবতাও তুলে ধরেছেন ওলাওয়ুই।
তাঁর মতে, সব route-এ একই ধরনের বা একই আকারের aircraft লাভজনকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো route-এ প্রতিদিন দুই দিকে মাত্র ৪০ জনের মতো passenger demand থাকলে সেখানে ১৫০ আসনের aircraft পরিচালনা করা অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক নাও হতে পারে।
কারণ aircraft-এর বড় অংশের আসন খালি থাকলেও fuel, crew, airport charges, maintenance এবং অন্যান্য operating cost বহন করতে হবে।
ফলে একটি নতুন route-এর সম্ভাব্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু ‘যাত্রী আছে কি না’ সেটি নয়, কতজন যাত্রী নিয়মিত ভ্রমণ করবেন এবং সেই demand-এর জন্য কোন aircraft উপযুক্ত—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
Aviation business-এ এই ধারণাকে সাধারণভাবে aircraft right-sizing বলা হয়।
অর্থাৎ একটি route-এর passenger demand, distance এবং operating economics বিবেচনায় উপযুক্ত capacity-এর aircraft ব্যবহার করা।
যে regional route-এ একটি 150-seat jet পূর্ণ করার মতো যাত্রী নেই, সেখানে তুলনামূলক ছোট aircraft ব্যবহার করে বেশি টেকসই operation তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
আবার demand বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে aircraft capacity অথবা flight frequency বাড়ানো যায়।
এভাবে শুরুতেই বড় aircraft দিয়ে route পরিচালনার আর্থিক ঝুঁকি নেওয়ার পরিবর্তে বাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে capacity সমন্বয় করা সম্ভব।
তবে ছোট aircraft ব্যবহার করলেই কোনো route স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাভজনক হয়ে যায় না।
একটি route-এর commercial viability নির্ধারণে passenger load factor-এর পাশাপাশি average fare বা yield, fuel cost, airport charges, aircraft utilisation, crew cost, maintenance এবং route frequency গুরুত্বপূর্ণ।
একইভাবে business traveller-এর কাছে daily frequency গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, যেখানে leisure market-এর যাত্রী তুলনামূলক কম frequency-তেও ভ্রমণ করতে পারেন।
ফলে একটি airline-এর network planning মূলত demand, frequency, aircraft capacity এবং airfare-এর মধ্যে ভারসাম্য তৈরির বিষয়।
নাইজেরিয়ার আন্তর্জাতিক বাজারে বিদেশি network carrier-গুলোর একটি বড় সুবিধা হলো তাদের onward connectivity।
একটি Nigerian airline কোনো একটি আন্তর্জাতিক শহরে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারলেও ওই শহরের বাইরে যাত্রীকে আরও বহু destination-এ পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় নিজস্ব network অথবা airline partnership।
এই কারণে interline agreement, codeshare এবং strategic airline partnership-ও স্থানীয় carrier-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
নিজস্ব aircraft দিয়ে প্রতিটি আন্তর্জাতিক destination-এ ফ্লাইট চালানো সম্ভব না হলেও partnership-এর মাধ্যমে একটি airline নিজের যাত্রীকে partner carrier-এর network-এ যুক্ত করতে পারে।
ওলাওয়ুইয়ের বক্তব্যের মূল বার্তাও এই জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ।
বিদেশি airline-এর উপস্থিতিকে সীমিত করার পরিবর্তে স্থানীয় carrier-গুলোর network competitiveness বাড়ানো প্রয়োজন।
কারণ যাত্রীরা সাধারণত এমন itinerary বেছে নিতে চান যেখানে সুবিধাজনক departure time, গ্রহণযোগ্য airfare, কম transit time এবং চূড়ান্ত গন্তব্য পর্যন্ত সহজ connection পাওয়া যায়।
স্থানীয় airline যদি এই সুবিধাগুলো দিতে না পারে, তাহলে যাত্রী স্বাভাবিকভাবেই এমন বিদেশি carrier-এর দিকে যেতে পারেন যাদের network বেশি বিস্তৃত।
একটি দেশের নিজস্ব airline আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাজারে শক্তিশালী হলে তার প্রভাব শুধু aviation sector-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
Passenger traffic-এর একটি অংশ স্থানীয় carrier-এর মাধ্যমে পরিচালিত হলে airfare revenue-এর বড় অংশ দেশের নিজস্ব aviation ecosystem-এ থাকার সুযোগ তৈরি হয়।
একই সঙ্গে pilot, cabin crew, engineer, ground handler এবং অন্যান্য aviation professional-এর কর্মসংস্থান বাড়তে পারে।
Tourism এবং business connectivity-ও উপকৃত হতে পারে।
তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে airline-কে commercially sustainable হতে হবে। শুধু জাতীয় বা স্থানীয় carrier হওয়ার কারণে লোকসানি route দীর্ঘদিন পরিচালনা করা টেকসই business model নয়।
নাইজেরিয়ার aviation market নিয়ে আদেদায়ো ওলাওয়ুইয়ের বক্তব্য শেষ পর্যন্ত একটি মৌলিক airline business principle সামনে এনেছে—বড় fleet থাকলেই শক্তিশালী airline হওয়া যায় না; সেই fleet দিয়ে কার্যকর network তৈরি করতে হয়।
একদিকে যাত্রী কোথায় যেতে চান, অন্যদিকে কোন route-এ কত passenger demand রয়েছে এবং সেই বাজারের জন্য কোন aircraft উপযুক্ত—এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর মিলিয়েই network strategy তৈরি করতে হয়।
নাইজেরিয়ার স্থানীয় airline-গুলো যদি পশ্চিম আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সঙ্গে কার্যকর সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতে পারে, demand অনুযায়ী সঠিক aircraft ব্যবহার করে এবং ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক connection বাড়ায়, তাহলে নিজ দেশের আন্তর্জাতিক passenger market-এ তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিদেশি airline-গুলোর সাফল্য তাই শুধু তাদের বড় aircraft বা আন্তর্জাতিক পরিচিতির কারণে নয়; যাত্রীকে একটি শহর থেকে বিশ্বের বহু গন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করতে পারার সক্ষমতাই তাদের অন্যতম বড় প্রতিযোগিতামূলক শক্তি।
তথ্যসূত্র: United Nigeria Airlines-এর Chief Commercial Officer আদেদায়ো ওলাওয়ুইয়ের League of Airport and Aviation Correspondents (LAAC) প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় দেওয়া বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত তথ্য।
মন্তব্য করুন