এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
চীনের তিনটি বড় এয়ারলাইনস—Air China, Shenzhen Airlines ও Hainan Airlines—Airbus-এর কাছ থেকে মোট ৯৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উড়োজাহাজগুলোর সম্মিলিত তালিকামূল্য প্রায় ১৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বহর আধুনিকায়ন, পুরোনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপন এবং ভবিষ্যৎ যাত্রী চাহিদা মোকাবিলায় এই বড় বিনিয়োগ করছে এয়ারলাইনগুলো।
গত ১৭ জুলাই সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল করা নথিতে এসব অর্ডারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। নতুন উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ কয়েক বছর ধরে পর্যায়ক্রমে চলবে।
সবচেয়ে বড় চুক্তিটি Air China এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান Shenzhen Airlines-এর। দুই এয়ারলাইনস যৌথভাবে ৫৫টি Airbus উড়োজাহাজ কিনবে, যার তালিকামূল্য প্রায় ১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
এর মধ্যে Air China কিনবে ১৫টি Airbus A350-900 widebody উড়োজাহাজ। এগুলো ২০৩০ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে।
A350-900 মূলত দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ব্যবহৃত হওয়ায় নতুন উড়োজাহাজগুলো Air China-এর long-haul fleet শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে এয়ারলাইনটির বহরে A350-900 ও A330-এর পাশাপাশি Boeing 777 ও 787 রয়েছে।
অন্যদিকে Shenzhen Airlines কিনবে A320neo পরিবারের ৪০টি উড়োজাহাজ। এগুলো ২০২৯ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে এয়ারলাইনটির পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। পাশাপাশি পুরোনো narrowbody উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনেও এগুলো ব্যবহার করা হবে।
পৃথক আরেকটি চুক্তিতে Hainan Airlines A320neo পরিবারের ৪০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অর্ডারের সর্বোচ্চ তালিকামূল্য প্রায় ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, Hainan Airlines-এর নতুন উড়োজাহাজগুলো ২০২৮ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে।
A320neo পরিবারের উড়োজাহাজ মূলত স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার রুটে ব্যবহারের জন্য তৈরি। নতুন প্রজন্মের ইঞ্জিন ও aerodynamic উন্নয়নের কারণে পুরোনো প্রজন্মের narrowbody-এর তুলনায় এগুলো আরও জ্বালানিসাশ্রয়ী। ফলে বহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয় ও কার্বন নিঃসরণ কমানো এ ধরনের অর্ডারের অন্যতম লক্ষ্য।
Air China-এর নতুন অর্ডারটি এমন সময়ে এসেছে, যখন উচ্চ পরিচালন ব্যয় ও জ্বালানি মূল্যের কারণে এয়ারলাইনটি আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে নিট লোকসান সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছাতে পারে।
তারপরও দীর্ঘমেয়াদি বহর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন A350-900 কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি পুরোনো কিছু উড়োজাহাজ ধীরে ধীরে অবসরে পাঠানো হবে। ফলে শুধু নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দিয়ে Air China-এর প্রকৃত সক্ষমতা বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা যাবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে চীনের অন্যান্য বড় এয়ারলাইনসও Airbus-এর কাছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উড়োজাহাজের অর্ডার দিয়েছে।
এর আগে China Eastern Airlines ২৫টি A330neo এবং A320neo পরিবারের ১০১টি উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দেয়। China Southern Airlines ও Xiamen Airlines-ও যৌথভাবে ১৩৭টি Airbus উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে।
এই ধারাবাহিক অর্ডারগুলো চীনের দ্রুত বর্ধনশীল বেসামরিক বিমান পরিবহন বাজারে Airbus-এর গুরুত্ব আরও বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে চীনা এয়ারলাইনগুলোর দীর্ঘমেয়াদি fleet renewal এবং নতুন প্রজন্মের জ্বালানিসাশ্রয়ী উড়োজাহাজে বিনিয়োগের প্রবণতাও স্পষ্ট হচ্ছে।
তবে ঘোষিত ১৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার তালিকামূল্য প্রকৃত লেনদেনমূল্য নয়। বড় বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ অর্ডারে সাধারণত নির্মাতা ও এয়ারলাইনসের মধ্যে বাণিজ্যিক ছাড় ও অন্যান্য শর্ত থাকে এবং প্রকৃত মূল্য প্রায়ই প্রকাশ করা হয় না।
সূত্র: Aerospace Global, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনগুলোর সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল করা নথি
মন্তব্য করুন