এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে নতুন ৫০০টি ট্রলি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের ট্রলির জন্য অপেক্ষা কমানো এবং ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপ সামাল দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে মোট ৩ হাজার ৯৯০টি ট্রলি রয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩০০টি ট্রলি সচল রয়েছে। বাকি ট্রলিগুলো পর্যায়ক্রমে মেরামত অথবা বাতিল করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বর্তমানে বিমানবন্দরে peak hour বা সর্বোচ্চ যাত্রীচাপের সময়ে প্রয়োজনের তুলনায় ট্রলির সংখ্যা কিছুটা অপ্রতুল। এ কারণে যাত্রীদের মাঝে মাঝে ট্রলির জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রলির সংখ্যা বাড়ানোর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে চলমান।
যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আরও ৫০০টি ট্রলি কেনার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নতুন ট্রলিগুলো যুক্ত হলে বিমানবন্দরের ট্রলি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রী আগমন ও বহির্গমনের ব্যস্ত সময়ে পর্যাপ্ত ট্রলি সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ট্রলি নিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে peak hour-এ ট্রলির জন্য কিছু যাত্রীকে অপেক্ষা করতে হয়—নতুন ট্রলি সংযোজনের মাধ্যমে এই অপেক্ষা আরও কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের। পাশাপাশি এয়ারলাইনস, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাস্টমস, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলি সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করে।
ট্রলি বিমানবন্দরের নির্ধারিত এলাকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনা শনাক্ত হলে বিমানবন্দর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রয়েছে।
বর্তমানে ট্রলি ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণে আলাদা কোনো ডিজিটাল বা প্রযুক্তিনির্ভর monitoring system নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা চালু করা হলে কোন এলাকায় কত ট্রলি রয়েছে, কোথায় চাহিদা বেশি এবং কত দ্রুত ট্রলি পুনরায় সংগ্রহ করা প্রয়োজন—এসব কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নতুন ৫০০ ট্রলি সংযোজনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শাহজালালের যাত্রীসেবা সক্ষমতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে ভারী লাগেজ নিয়ে আসা আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য সহজে ট্রলি পাওয়া বিমানবন্দরের সামগ্রিক passenger experience উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)
মন্তব্য করুন