এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে যাত্রী চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র তিন দিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চলাচল করায় ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যাতায়াত করতে চাইলেও ফ্লাইট না থাকায় অনেককে শেষ পর্যন্ত সড়কপথ বেছে নিতে হচ্ছে।
বর্তমানে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও রোববার ঢাকা-বরিশাল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সপ্তাহের বাকি চার দিন নিয়মিত কোনো ফ্লাইট না থাকায় ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অন্তত সপ্তাহে পাঁচ দিন, সম্ভব হলে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, আপাতত এই রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
ঢাকা-বরিশাল রুটের চিত্র কয়েক বছর আগেও ছিল ভিন্ন। সরকারি ও বেসরকারি এয়ারলাইন্স মিলিয়ে একসময় এই রুটে প্রতিদিন প্রায় আটটি পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালিত হতো।
দ্রুত ঢাকা পৌঁছানোর প্রয়োজন রয়েছে—এমন ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসার জন্য যাতায়াতকারী এবং অন্যান্য যাত্রীর কাছে আকাশপথ ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প।
কিন্তু পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা ও বরিশালের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এর প্রভাব পড়ে আকাশপথের যাত্রী চাহিদায়। পরবর্তী সময়ে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো পর্যায়ক্রমে ঢাকা-বরিশাল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দেয়।
ফলে বর্তমানে রুটটির নিয়মিত বিমান যোগাযোগ মূলত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সীমিত ফ্লাইটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, সপ্তাহে মাত্র তিন দিন ফ্লাইট থাকার কারণে হঠাৎ জরুরি প্রয়োজনে আকাশপথ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষ করে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সভা, সরকারি কাজ, চিকিৎসা কিংবা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ধরার প্রয়োজন হলে ফ্লাইটের দিন ও সময়ের সঙ্গে মিল না থাকায় অনেক যাত্রীকে সড়কপথে যেতে হচ্ছে।
যাত্রীদের মতে, আকাশপথের মূল সুবিধাই হচ্ছে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো। কিন্তু প্রতিদিন বা অন্তত অধিকাংশ দিন ফ্লাইট না থাকলে জরুরি ভ্রমণের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা কার্যকরভাবে পাওয়া যায় না।
এ কারণে সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন অথবা প্রতিদিন একটি করে ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন বাজারে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনগুলোর একটি ঘটেছে ঢাকা-বরিশাল রুটে।
সড়কপথে যাতায়াতের সময় কমে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের একটি বড় অংশ বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির দিকে ঝুঁকেছেন। এতে বাণিজ্যিকভাবে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ার অর্থ আকাশপথের প্রয়োজন পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সময়-সংবেদনশীল যাত্রা, ব্যবসায়িক প্রয়োজন, জরুরি চিকিৎসা এবং ঢাকার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সঙ্গে সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিমান যোগাযোগ এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প।
এ কারণেই স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা বলছেন, রুটটিতে প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইটের বাজার না থাকলেও অন্তত একটি নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য ফ্লাইট সূচি প্রয়োজন।
বরিশাল দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। শহরটির সঙ্গে ঢাকার নিয়মিত আকাশ যোগাযোগ থাকলে শুধু যাত্রীদের সময়ই সাশ্রয় হয় না, ব্যবসায়িক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সুবিধা তৈরি হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, নিয়মিত ফ্লাইট থাকলে একই দিনে ঢাকা-বরিশাল যাতায়াত করে ব্যবসায়িক কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ বাড়ে। একইভাবে দেশের অন্য অঞ্চল কিংবা বিদেশ থেকে আসা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্যও বরিশালে পৌঁছানো সহজ হয়।
আঞ্চলিক বিমানবন্দরের কার্যকর ব্যবহার দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে রাজধানীর বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।
যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি থাকলেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আপাতত ঢাকা-বরিশাল রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে না।
একটি অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সাধারণত যাত্রী চাহিদা, আসন পূরণের হার, উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা, পরিচালন ব্যয় এবং সামগ্রিক নেটওয়ার্ক পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে।
ফলে স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদা থাকলেও সেটি নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বাণিজ্যিকভাবে কতটা টেকসই—এ বিষয়টিও এয়ারলাইনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে যাত্রীদের প্রত্যাশা, বর্তমান চাহিদা নতুন করে পর্যালোচনা করে অন্তত সপ্তাহে পাঁচ দিন ঢাকা-বরিশাল ফ্লাইট পরিচালনার সম্ভাবনা বিবেচনা করবে বিমান।
পদ্মা সেতুর কারণে ঢাকা-বরিশাল যাতায়াতে সড়কপথ এখন শক্তিশালী বিকল্প হলেও জরুরি ও সময়-সংবেদনশীল ভ্রমণের জন্য আকাশপথের আলাদা প্রয়োজন রয়েছে। সেই চাহিদা ভবিষ্যতে ঢাকা-বরিশাল রুটে আবার ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর মতো বাজার তৈরি করতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: স্থানীয় যাত্রী, ব্যবসায়ী ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
মন্তব্য করুন