বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো বিভাগে কর্মরত দুই কমার্শিয়াল সুপারভাইজারকে বদলি করা হয়েছে। তারা হলেন কাজী মোহাম্মদ শাহজালাল ও মোনতাসের রহমান। তাদের একজনকে সৈয়দপুর এবং অন্যজনকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে বদলি করা হয়েছে।
বিমানের প্রশাসনিক আদেশ অনুযায়ী, মোনতাসের রহমানকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এবং কাজী মোহাম্মদ শাহজালালকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে বদলি করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আলাউদ্দিন বদলি আদেশে স্বাক্ষর করেন।
দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগে কার্গো কার্যক্রমসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর তাদের নাম আলোচনায় আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিমানবন্দরের কার্গো এলাকা থেকে প্রায় ৪ হাজার কেজি আমদানি পণ্য প্রয়োজনীয় শুল্কায়ন ছাড়াই বাইরে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ তদন্তে কাজী মোহাম্মদ শাহজালালের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে একই অভিযোগ থেকে মোনতাসের রহমানকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে অভিযোগ ওঠা বা কোনো অভ্যন্তরীণ তদন্তে কারও নাম আসার অর্থ ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। এ বিষয়ে কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।
কার্গো বিভাগে ডিউটি রোস্টার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বা ‘রোস্টার বাণিজ্যের’ অভিযোগ নিয়েও আলাদা তদন্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই তদন্তে দুই কমার্শিয়াল সুপারভাইজারের নামই এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তবে অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি, তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় শাস্তি চূড়ান্ত হয়েছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রশাসনিকভাবে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে এক কর্মস্থল থেকে অন্য কর্মস্থলে বদলি করা এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দুটি আলাদা বিষয়।
বদলি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশও হতে পারে। ফলে এই বদলি আদেশকে তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগের জন্য শাস্তি হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই, যতক্ষণ না বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আনুষ্ঠানিকভাবে তেমন তথ্য জানায়।
একইভাবে কোনো অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলেও পরবর্তী বিভাগীয় প্রক্রিয়া ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগসহ প্রতিষ্ঠানের বিধিবিধান অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কার্যক্রম যাত্রী পরিবহনের চেয়ে আলাদা হলেও বিমানবন্দর নিরাপত্তা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিদেশ থেকে আসা পণ্য বিমানবন্দর থেকে ছাড় করার ক্ষেত্রে কাস্টমসের নির্ধারিত প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় নথি, শুল্ক-কর এবং কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করতে হয়।
এ কারণে কার্গো এলাকায় পণ্যের প্রবেশ ও বের হওয়ার রেকর্ড, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর কার্যক্রম, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার কার্যকর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বড় পরিমাণ পণ্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কার্গো এলাকা থেকে বের হওয়ার অভিযোগ উঠলে সেটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিষয় নয়; বিমানবন্দর নিরাপত্তা, কাস্টমস নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব সুরক্ষার প্রশ্নও সামনে আনে।
কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে অনিয়মের ঝুঁকি কমাতে প্রতিটি চালানের movement digitally traceable রাখা, দায়িত্ব বণ্টন পরিষ্কার করা এবং সংবেদনশীল দায়িত্বে নিয়মিত তদারকি কার্যকর হতে পারে।
একই সঙ্গে ডিউটি রোস্টার তৈরিতে স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা থাকলে নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা কর্মস্থল বণ্টন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের সুযোগ কমানো সম্ভব।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো কার্যক্রম দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। ফলে এ খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানটির পাশাপাশি পুরো বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে দুই কমার্শিয়াল সুপারভাইজারের বদলির প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আগে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
সূত্র: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসনিক আদেশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র
মন্তব্য করুন