এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে সরাসরি বিমানযাত্রার চাহিদা বাড়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা–টোকিও রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের মতে, সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে যাতায়াত সহজ হয়েছে, তবে বাড়তে থাকা যাত্রীচাহিদা বিবেচনায় বর্তমান ফ্লাইট সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়।
গত ২৮ জুলাই টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী-এর সভাপতিত্বে সভায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ, জাপানে বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ঢাকা–টোকিও সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে ভূমিকা রাখা প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।
মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া প্রবাসীরা সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, সরাসরি সেবা চালু হওয়ায় ট্রানজিটের ঝামেলা কমেছে এবং বাংলাদেশে যাতায়াত তুলনামূলক সহজ হয়েছে।
তবে তাদের দাবি, বর্তমানে এই রুটে যাত্রীসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে বিদ্যমান ফ্লাইটের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকা–টোকিও রুটে ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর দাবি জানান তারা।
প্রবাসীদের দাবির জবাবে বিমানের ডিএমডি সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াতে সরকার ও বিমান পরিচালনা পর্ষদ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং বিমানের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
তবে ঢাকা–টোকিও রুটে ঠিক কতটি অতিরিক্ত ফ্লাইট চালু হতে পারে কিংবা কবে থেকে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো হবে—এ বিষয়ে সভায় কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ঢাকা–টোকিও সরাসরি বিমান যোগাযোগ শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াতের ক্ষেত্রেই নয়, দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন ও মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
সরাসরি ফ্লাইট থাকায় ট্রানজিটনির্ভর ভ্রমণের তুলনায় যাত্রাপথ সহজ হয়। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারী, প্রবীণ যাত্রী এবং ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য সরাসরি ফ্লাইট বাড়তি সুবিধা তৈরি করে।
তবে কোনো আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু যাত্রীচাহিদাই নয়; উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা, স্লট, পরিচালন ব্যয়, রুটের বাণিজ্যিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক নেটওয়ার্ক পরিকল্পনাও বিবেচনায় নিতে হয়।
জাপানপ্রবাসীদের নতুন দাবি তাই ঢাকা–টোকিও রুটে বাড়তে থাকা চাহিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। এখন যাত্রীচাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বিমান এই রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
মন্তব্য করুন