এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
পাসপোর্টে বৈধ মার্কিন ভিসা থাকলেই যে একজন যাত্রী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন, তার নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের এ বিষয়টি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। একই সঙ্গে অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান বা ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করলে ভবিষ্যৎ যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ ও ভিসা আবেদনে গুরুতর অভিবাসন জটিলতা তৈরি হতে পারে।
শনিবার নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত বার্তায় দূতাবাস জানায়, মার্কিন ভিসা মূলত একজন বিদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রের Port of Entry পর্যন্ত ভ্রমণ এবং সেখানে প্রবেশের অনুমতি চাওয়ার সুযোগ দেয়। চূড়ান্তভাবে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট মার্কিন সীমান্ত ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর Department of Homeland Security-এর অধীন U.S. Customs and Border Protection (CBP) কর্মকর্তা যাত্রীর নথিপত্র ও ভ্রমণের উদ্দেশ্য যাচাই করে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কত দিন অবস্থান করতে পারবেন, তা নির্ধারণ করেন।
অনেক যাত্রীর মধ্যে একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে—পাসপোর্টে বৈধ মার্কিন ভিসা থাকলে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত।
বাস্তবে ভিসা এবং admission দুটি আলাদা বিষয়।
মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেট একজন বিদেশি নাগরিককে ভিসা ইস্যু করে। সেই ভিসা ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের Port of Entry পর্যন্ত যেতে এবং সেখানে প্রবেশের অনুমতি চাইতে পারেন।
কিন্তু বিমানবন্দরে বা অন্য Port of Entry-তে চূড়ান্ত admission decision নেওয়ার ক্ষমতা CBP-এর।
ফলে বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও কোনো যাত্রী যদি admission-এর প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করেন, তার প্রবেশ নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রগামী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে Visa Expiration Date এবং Authorized Stay-এর পার্থক্য বোঝা।
ধরা যাক, একজন যাত্রীর পাসপোর্টে থাকা মার্কিন ভিসার মেয়াদ আরও কয়েক বছর রয়েছে। তার অর্থ এই নয় যে একবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার পর তিনি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে পারবেন।
প্রতিবার admission-এর সময় সংশ্লিষ্ট যাত্রীর immigration status এবং অনুমোদিত অবস্থানের সময় নির্ধারিত হয়।
এই তথ্য সাধারণত Form I-94 বা official admission record-এ পাওয়া যায়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর একজন যাত্রীর কত দিন বৈধভাবে থাকার অনুমতি রয়েছে, সেটি বোঝার ক্ষেত্রে শুধু ভিসায় লেখা expiration date দেখা যথেষ্ট নয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশের পর সেখানে অবস্থানকালে ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও, তার authorized stay তখনও বৈধ থাকতে পারে—যদি সংশ্লিষ্ট immigration status বজায় থাকে।
মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে visa category অনুযায়ী অনুমোদিত কার্যক্রম মেনে চলা।
উদাহরণ হিসেবে, সাধারণ B1/B2 visitor visa নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অনুমোদন ছাড়া চাকরি বা employment করা যায় না।
একইভাবে Student, Exchange Visitor কিংবা Temporary Worker category-তেও নিজ নিজ immigration status অনুযায়ী আলাদা শর্ত রয়েছে।
অর্থাৎ পাসপোর্টে বৈধ মার্কিন ভিসা থাকা মানেই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ইচ্ছামতো চাকরি, পড়াশোনা কিংবা অন্য কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অনুমতি পাওয়া নয়।
যে উদ্দেশ্যে ভিসা বা immigration status দেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সেই শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান না করার বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করেছে দূতাবাস।
Authorized stay শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে বিদ্যমান ভিসা ও ভবিষ্যৎ ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তবে প্রতিটি overstay-এর ফল একই নয় এবং সব ক্ষেত্রেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আজীবন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়—এমন ধারণাও সঠিক নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ১৮০ দিন বা তার বেশি কিন্তু এক বছরের কম unlawful presence তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের পর সাধারণত তিন বছরের inadmissibility প্রযোজ্য হতে পারে।
একইভাবে এক বছর বা তার বেশি unlawful presence তৈরি হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাধারণত ১০ বছরের inadmissibility তৈরি হতে পারে।
তবে ব্যক্তির পরিস্থিতি, immigration history এবং আইনের নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম বা waiver-এর কারণে ফল ভিন্ন হতে পারে।
Fraud বা material misrepresentation-এর মতো কিছু গুরুতর immigration violation-এর ক্ষেত্রে আবার দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী ineligibility-এর প্রশ্নও তৈরি হতে পারে।
ফলে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির overstay-এর পরিণতি শুধু দিনের সংখ্যা দেখে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা ঠিক নয়।
বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর যাত্রীকে immigration inspection-এর মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
এ সময় CBP কর্মকর্তা passport ও visa-এর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী supporting documents পরীক্ষা করতে পারেন এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট visa category-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করতে পারেন।
যাত্রীর admission eligibility নিয়ে প্রশ্ন থাকলে অতিরিক্ত যাচাইও হতে পারে।
এ কারণেই U.S. Embassy বা Consulate-এর visa issuance এবং Port of Entry-তে CBP-এর admission decision দুটি পৃথক ধাপ।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর নিজের admission record যাচাই করা যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে I-94 record-এ admission সংক্রান্ত তথ্য সঠিক রয়েছে কি না এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কত দিন পর্যন্ত অবস্থানের অনুমতি রয়েছে, তা দেখে নেওয়া উচিত।
ফেরার পরিকল্পনাও authorized stay বিবেচনায় রেখে করা প্রয়োজন।
শুধু পাসপোর্টে থাকা ভিসার expiration date দেখে ফেরার সময় নির্ধারণ করলে ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কোনো কারণে অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার প্রয়োজন হলে নিজে থেকে overstay না করে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই প্রযোজ্য immigration procedure যাচাই করা প্রয়োজন।
পরিস্থিতি অনুযায়ী U.S. Citizenship and Immigration Services (USCIS)-এর মাধ্যমে extension of stay বা change of status-এর সুযোগ থাকতে পারে। তবে আবেদন করলেই যে সেটি অনুমোদিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই এবং সব visa category-তে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
তাই নিজের immigration status অনুযায়ী সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে passport ও visa validity, visa category এবং প্রয়োজনীয় supporting documents ঠিক আছে কি না যাচাই করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর নিজের admission status ও I-94 record পরীক্ষা করা এবং অনুমোদিত সময়ের মধ্যেই দেশ ত্যাগের পরিকল্পনা রাখা প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—ভিসা পাওয়া, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া এবং সেখানে কত দিন বৈধভাবে অবস্থান করা যাবে—এই তিনটি এক বিষয় নয়।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তাটি নতুন কোনো ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান immigration rules এবং visa conditions মেনে চলার বিষয়টি বাংলাদেশি ভিসাধারীদের আবারও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সরকারি অভিবাসন নির্দেশনা
মন্তব্য করুন