এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ভোগান্তি কমাতে নতুন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন। এখন থেকে স্বল্প সময়ের পরিবর্তে একসঙ্গে ১৫ দিনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত করা হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ তথ্য জানিয়েছেন।
নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীরা আগে থেকেই পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সুবিধাজনক অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে ভারতগামী বাংলাদেশিদের জন্য এই পরিবর্তন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হাইকমিশনার জানান, আগে প্রতিদিন ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত করা হতো। এতে আবেদনকারীদের বারবার স্লট পাওয়ার চেষ্টা করতে হতো এবং বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ভারত যেতে আগ্রহীরা সমস্যায় পড়তেন।
পরবর্তীতে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে একসঙ্গে এক সপ্তাহের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ওই ব্যবস্থায় ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর এবার সময়সীমা আরও বাড়িয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে।
ফলে একজন আবেদনকারীকে প্রতিদিন নতুন স্লটের জন্য অপেক্ষা না করে তুলনামূলক দীর্ঘ সময়ের মধ্যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে যারা ভিসার আবেদন করছেন, তাদের যেন ন্যূনতম সমস্যায় পড়তে হয়। এটাই আমাদের অগ্রাধিকার।”
নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভিসা আবেদনকারীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পরিকল্পনা আরও সহজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে যাদের হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, চিকিৎসকের পরামর্শ কিংবা নির্ধারিত সময়ে ভারতে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, তারা আগে থেকে ভিসা জমা দেওয়ার তারিখ পরিকল্পনা করার কিছুটা বেশি সুযোগ পাবেন।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের জন্য নির্ধারিত সময়ও রয়েছে।
রোববার থেকে বৃহস্পতিবার: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
শনিবার: সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।
আবেদনকারীদের এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমে প্রবেশ করে স্লট খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে ১৫ দিনের স্লট উন্মুক্ত থাকার অর্থ প্রতিটি দিন বা প্রতিটি সময়ে স্লট পাওয়া নিশ্চিত—এমন নয়। আবেদনকারীর সংখ্যা ও উপলভ্য সক্ষমতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট তারিখের স্লট পূর্ণ হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। কলকাতা, চেন্নাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরুসহ বিভিন্ন শহরের হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র বাংলাদেশি রোগীদের অন্যতম গন্তব্য।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতালের নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সঙ্গে ভিসার সময় সমন্বয় করা গুরুত্বপূর্ণ। স্বল্প সময়ের স্লটের কারণে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পেলে চিকিৎসার পূর্বনির্ধারিত তারিখও পরিবর্তন করতে হতে পারে।
১৫ দিনের স্লট একসঙ্গে উন্মুক্ত হলে আবেদনকারীরা তুলনামূলক আগে থেকে ভিসা জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারবেন।
নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা জরুরি—১৫ দিনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট এবং ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় এক বিষয় নয়।
নতুন ব্যবস্থার অর্থ হলো আবেদনকারীদের সামনে একসঙ্গে ১৫ দিনের অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।
এর অর্থ এই নয় যে আবেদন করার পর সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যেই ভিসা দেওয়া হবে কিংবা প্রত্যেক আবেদনকারী ভিসা পাবেন।
ভিসা অনুমোদন, প্রত্যাখ্যান এবং প্রসেসিংয়ের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ও প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।
ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্টের চাহিদাকে কেন্দ্র করে অনলাইনে ‘Guaranteed Slot’, ‘Confirmed Appointment’ কিংবা অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত ভিসা পাইয়ে দেওয়ার বিভিন্ন প্রস্তাব দেখা যায়।
১৫ দিনের নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরও আবেদনকারীদের অনুমোদনহীন এজেন্ট বা দালালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট কেনার চেষ্টা না করাই নিরাপদ।
ভিসা আবেদন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও প্রয়োজনীয় নথির তথ্য শুধু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এবং অনুমোদিত ভিসা সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।
বিশেষ করে পাসপোর্টের তথ্য, ই-মেইল, OTP বা অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ অপরিচিত ব্যক্তির হাতে দিলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে ভিসা অনুমোদনের আগেই non-refundable বিমান টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো।
শুধু ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া মানেই ভিসা অনুমোদিত হওয়া নয়। তাই চিকিৎসা বা জরুরি ভ্রমণের ক্ষেত্রে হাসপাতালের কাগজপত্র, সম্ভাব্য যাত্রার তারিখ এবং ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় রেখে পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ১৫ দিনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের বারবার স্লট খোঁজার চাপ কমার পাশাপাশি ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনা আগেভাগে করার সুযোগ বাড়বে।
সূত্র: ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন
মন্তব্য করুন