পর্যটকদের জন্য ভিসামুক্ত অবস্থানের মেয়াদ কমিয়ে নতুন ভিসানীতি অনুমোদন করেছে থাইল্যান্ড। নতুন সিদ্ধান্তে অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত থাকার মেয়াদ ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি দেশকে আগের সুবিধার আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ভারতসহ ছয়টি দেশের নাগরিকদের জন্য বাড়তি সুবিধা রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপ-সরকারি মুখপাত্র প্লয়থালে লাকসামিসায়েংচান জানান, দীর্ঘমেয়াদি ভিসামুক্ত সুবিধার অপব্যবহার, আইন লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে সরকার বিদ্যমান ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৫৯টি দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই থাইল্যান্ডে সর্বোচ্চ ৩০ দিন অবস্থান করতে পারবেন। অন্যদিকে বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, ভারত, মাল্টা ও মালদ্বীপের নাগরিকদের জন্য আগের তুলনায় ভিসা সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের নাগরিকদের সমান ভিসা সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
ভারতীয় নাগরিকদের জন্য আগে চালু থাকা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল ব্যবস্থার পরিবর্তে এখন ৩০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা দেওয়া হবে। থাই সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পর্যটকরা গড়ে ৭ দশমিক ২ দিন দেশটিতে অবস্থান করেন।
থাইল্যান্ডের পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রী সুরাসাক ফানচারোয়েনওয়ারাকুল জানান, ভারতীয় পর্যটকদের জন্য ৬০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধা প্রত্যাহারের পর তাদের ভিসা-অন-অ্যারাইভালের জন্য আবেদন করতে হতো। এর ফলে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ কমে যায়। নতুন সিদ্ধান্তে তাই ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধা রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া সেশেলস ও মরিশাসের নাগরিকরা ১৫ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধা পাবেন। আজারবাইজান, বেলারুশ ও সার্বিয়ার নাগরিকদের জন্য চালু করা হয়েছে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা।
নতুন ভিসানীতি রাজকীয় গেজেটে প্রকাশের ১৫ দিন পর কার্যকর হবে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকরের আগে যারা থাইল্যান্ডে প্রবেশ করবেন, তারা আগের অনুমোদিত মেয়াদ অনুযায়ী অবস্থান করতে পারবেন।
একই সঙ্গে থাইল্যান্ড ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড (টিডিএসি) ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের পটভূমি যাচাই, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং বিদেশিদের প্রবেশ ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করা হবে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে নতুন ভিসামুক্ত নীতির সরাসরি কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। বাংলাদেশ আগে থেকেই থাইল্যান্ডের ভিসামুক্ত দেশের তালিকায় ছিল না। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের থাইল্যান্ড ভ্রমণের জন্য আগের মতোই প্রয়োজনীয় ভিসা নিতে হবে।
তবে ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোর হলে বাংলাদেশিসহ থাইল্যান্ডে প্রবেশকারী সব বিদেশি নাগরিককে বাড়তি যাচাই প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
মন্তব্য করুন