এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় পর্যটক আগমন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় নতুন করে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করছে দেশটির পর্যটন কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ২৬ জন পর্যটক মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ কম। এমন পরিস্থিতিতে কুয়ালালামপুরের বাইরের পর্যটন গন্তব্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও মুসলিমবান্ধব পর্যটনসেবা তুলে ধরে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের আকৃষ্ট করতে চায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়া।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় আয়োজিত এক মতবিনিময় ও নেটওয়ার্কিং অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার ঢাকা কার্যালয় ও মালয়েশিয়ার ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটর এবং বিভিন্ন এয়ারলাইনসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় পর্যটক আগমনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ২৬ জনে।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৩৬ শতাংশ কম।
ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক প্রচার বিভাগের এশিয়া ও আফ্রিকা অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ পর্যটন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজ বিন মোহাম্মদ শাহ (Mohd Hafiz B Mohd Shah) বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমন আবার বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ৪৩টি সরাসরি ফ্লাইট যোগাযোগ রয়েছে। এসব ফ্লাইটে সম্মিলিতভাবে ১১ হাজার ৩৬১টি আসনের সক্ষমতা রয়েছে।
তবে ফ্লাইট ও আসনের এ সংখ্যা কোন সময়সীমার ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে, তা অনুষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট করা হয়নি।
বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর অন্যতম পরিচিত গন্তব্য। তবে এবার রাজধানীর বাইরেও পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে চায় দেশটির পর্যটন কর্তৃপক্ষ।
মোহাম্মদ হাফিজ বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের মালাক্কা (Malacca) ও জোহর বাহরুর (Johor Bahru) মতো গন্তব্য ঘুরে দেখার আহ্বান জানান।
মালাক্কা ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে জোহর বাহরু মালয়েশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর, যেখানে পরিবারভিত্তিক বিনোদন ও ভ্রমণের বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে।
ট্যুরিজম মালয়েশিয়া মনে করছে, পরিচিত গন্তব্যের পাশাপাশি নতুন শহর ও পর্যটন আকর্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশি পর্যটকদের ভ্রমণের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে।
শুধু অবকাশযাপন নয়, বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য মালয়েশিয়ার শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ব্যবসায়িক পর্যটনের সুযোগও তুলে ধরা হয়েছে অনুষ্ঠানে।
মোহাম্মদ হাফিজ জানান, মালয়েশিয়ায় শিক্ষা পর্যটন, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ, সেকেন্ড হোম কর্মসূচি এবং সভা, প্রণোদনামূলক ভ্রমণ, সম্মেলন ও প্রদর্শনীভিত্তিক পর্যটনের (MICE) সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, চিকিৎসাসেবা নিতে আগ্রহী ব্যক্তি এবং ব্যবসায়িক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মালয়েশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হতে পারে।
তবে এসব সেবার ক্ষেত্রে ভিসা, যোগ্যতা ও অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে মুসলিমবান্ধব পর্যটনসেবাকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে মালয়েশিয়া।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মালয়েশিয়ার ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টারের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ফয়সাল বিন আবু সুয়াইব খান দেশটির মুসলিমবান্ধব পর্যটন সুবিধাগুলো তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গ্লোবাল মুসলিম ট্রাভেল ইনডেক্সে টানা ১১ বছর মালয়েশিয়া শীর্ষ মুসলিমবান্ধব পর্যটন গন্তব্যের অবস্থান ধরে রেখেছে।
মালয়েশিয়ায় হালাল খাবার, মুসলিম পর্যটকদের উপযোগী বিভিন্ন সুবিধা এবং পরিবার নিয়ে ভ্রমণের উপযোগী আকর্ষণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া দেশটিতে বাংলাদেশি খাবার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে।
ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টারের মহাপরিচালকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মালয়েশিয়ায় মোট ৪ কোটি ২০ লাখ দর্শনার্থী এসেছেন।
এর মধ্যে মুসলিম দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক কোটি।
মুসলিমবান্ধব পর্যটনসেবার পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় গন্তব্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি পর্যটক আকর্ষণের পরিকল্পনা করছে দেশটি।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে অনুষ্ঠানে।
ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজ জানান, বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ার ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মালয়েশিয়ায় ফ্লাইট চালু করতে পারে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে নভোএয়ারের সম্ভাব্য রুট, ফ্লাইটের সংখ্যা এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের তারিখ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
ট্যুরিজম মালয়েশিয়া আশা করছে, নতুন গন্তব্যের প্রচার, মুসলিমবান্ধব পর্যটনসেবা এবং বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পর্যটক আগমন আবার বাড়ানো সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে এ উদ্যোগ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
সূত্র: ট্যুরিজম মালয়েশিয়া ঢাকা ও ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টারের ২৮ অক্টোবর ২০২৬-এর অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য।
মন্তব্য করুন