শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী ও স্বজনদের জন্য আধুনিক অপেক্ষাগার, বাড়ছে স্বস্তি ও সেবার মান
aviation
প্রকাশিত: 4 October 2026, 7:06:49 Pm
|অনলাইন সংস্করণ
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ও তাদের সঙ্গে আসা স্বজনদের অপেক্ষা আরও স্বস্তিদায়ক করতে আধুনিক যাত্রী অপেক্ষাগার চালু করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বিনামূল্যে বসার পাশাপাশি এখানে নামাজের স্থান, শিশুদের খেলার জায়গা ও পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুমসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।
বিমানবন্দরের মাল্টি-লেভেল কার পার্কিং (MLCP) ভবনের দ্বিতীয় তলায় অপেক্ষাগারটির অবস্থান। বিশেষ করে যেসব যাত্রী নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে বিমানবন্দরে পৌঁছান অথবা যাত্রীকে বিদায় জানাতে কিংবা গ্রহণ করতে এসে স্বজনদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, তাদের জন্য জায়গাটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, যাত্রী ও স্বজনদের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক এবং সুশৃঙ্খল অপেক্ষার পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যেই এ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কী কী সুবিধা রয়েছে
অপেক্ষাগারটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। সেখানে বিনামূল্যে বসার ব্যবস্থা, নামাজ আদায়ের পৃথক স্থান, শিশুদের খেলার জায়গা এবং ওয়াশরুম রয়েছে।
ফলে বাইরে দীর্ঘ সময় রোদ, বৃষ্টি কিংবা গরমের মধ্যে অপেক্ষা না করে স্বজনরা অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক পরিবেশে অবস্থান করতে পারেন।
ফ্লাইট বিলম্বিত হলে অথবা কোনো যাত্রীকে নিতে স্বজনরা নির্ধারিত সময়ের আগে বিমানবন্দরে পৌঁছে গেলে এই অপেক্ষাগার বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে।
সুবিধা আছে, অনেকেই জানেন না
অপেক্ষাগারে গিয়ে কয়েকজন যাত্রী ও তাদের স্বজনের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, সুবিধাটি নিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হলেও এর অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে এখনো অনেকের পরিষ্কার ধারণা নেই।
একজন জানান, সুবিধাটির কথা জানলেও অনেক মানুষ টার্মিনালের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
আরেকজন বলেন, “আমি আসলে এই অপেক্ষাগারের কথা জানতামই না। যদি আরও প্রচার করা হতো, তাহলে অনেক মানুষই এই সুবিধা ব্যবহার করতেন।”
অন্য একজন ব্যবহারকারী অপেক্ষাগারের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমার কাছে জায়গাটি বেশ ভালো লেগেছে। এখানে আরামে বসে অপেক্ষা করা যায়।”
এই অভিজ্ঞতাগুলো থেকে বোঝা যায়, শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই তার পূর্ণ সুফল পাওয়া যায় না; যাত্রী ও দর্শনার্থীদের কাছে সুবিধাটির অবস্থান এবং ব্যবহারের তথ্য সহজে পৌঁছানোও গুরুত্বপূর্ণ।
টার্মিনালের সামনের ভিড় কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে
শাহজালাল বিমানবন্দরের টার্মিনালের সামনে যাত্রীকে বিদায় দিতে বা গ্রহণ করতে আসা স্বজনদের উপস্থিতির কারণে বিভিন্ন সময়ে বাড়তি জনসমাগম দেখা যায়। অপেক্ষার জন্য নির্ধারিত জায়গার ব্যবহার বাড়ানো গেলে এই চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।
এতে টার্মিনালের প্রবেশ ও বের হওয়ার এলাকার অপ্রয়োজনীয় জনসমাগম কমার পাশাপাশি সামনের সড়ক ও যানবাহন চলাচল আরও সুশৃঙ্খল রাখতে সহায়তা করতে পারে।
বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পরিবারগুলোর জন্য এমন ব্যবস্থা বেশি কার্যকর। অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইটের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে যাত্রা করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
প্রচার ও সাইনেজ বাড়ানোর সুযোগ
অপেক্ষাগারটি আরও কার্যকর করতে এর অবস্থান সম্পর্কে যাত্রী ও দর্শনার্থীদের সহজে জানানোর ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
বিমানবন্দরের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্পষ্ট directional signage, ডিজিটাল ডিসপ্লেতে তথ্য এবং বেবিচকের অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রচার করা হলে সুবিধাটি সম্পর্কে আরও বেশি মানুষ জানতে পারবেন।
বিশেষ করে “Passenger Waiting Area” কোথায় এবং সেখানে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে—এ তথ্য বিমানবন্দরে প্রবেশের পর সহজে দৃশ্যমান করা গেলে প্রথমবার আসা দর্শনার্থীদের জন্য জায়গাটি খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।
যাত্রীসেবায় ছোট উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ
একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান শুধু check-in counter, immigration কিংবা baggage delivery দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বিমানবন্দরে যাত্রী ও তাদের সঙ্গে আসা মানুষের পুরো অভিজ্ঞতার সঙ্গে বসার জায়গা, পরিচ্ছন্নতা, ওয়াশরুম, তথ্যপ্রাপ্তি এবং অপেক্ষার পরিবেশের মতো বিষয়ও জড়িত।
এ কারণে MLCP ভবনের যাত্রী অপেক্ষাগারটি পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার করা গেলে এটি যাত্রী ও স্বজনদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বিমানবন্দর এলাকার জনসমাগম ব্যবস্থাপনাতেও সহায়ক হতে পারে।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীবান্ধব বিমানবন্দর গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সেবা আধুনিক করা হচ্ছে। MLCP ভবনের এই অপেক্ষাগারও সেই উদ্যোগের একটি অংশ।
এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো—সুবিধাটি যে রয়েছে, কোথায় রয়েছে এবং কারা ব্যবহার করতে পারবেন—এই তথ্যটি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তাহলেই যাত্রী ও স্বজনদের জন্য তৈরি অবকাঠামোটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), অপেক্ষাগার ব্যবহারকারী যাত্রী ও স্বজনদের বক্তব্য
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
এয়ারবাস থেকে আরও ২৫ উড়োজাহাজ কিনছে ফ্লাইনাস, বহর সম্প্রসারণে
1
মাদক পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ এয়ার ইন্ডিয়ার আরও দুই পাইল
2
১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনে জাপানের সহযোগিতা চাইল ব
3
১ নভেম্বর শুরু হচ্ছে তিন মাসের ‘কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল ২
4
বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরক
5
সিভিল এভিয়েশন বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রথম প্রশিক্ষ
6
শাহজালাল বিমানবন্দরে আচারের বয়ামে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার স্বর্ণ
7
রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও হামলা, টার্মিনাল-৪-এ আগু
8
শাহজালালের আয়েই টিকে আছে দেশের অধিকাংশ বিমানবন্দর, বছরে রাজস
9
সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শুরু হতে পারে বেবিচকের নিয়োগ পরীক্ষ
10
তৃতীয় টার্মিনাল ঘিরে বড় প্রস্তুতি, ২০২৭ সালের মধ্যে ৪০ নতুন
11
আকাশে উড়ল বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাটারিচালিত উড়োজাহাজ ‘এক্স১’
12
ব্যাগে স্কচটেপে মোড়ানো স্বর্ণের পেস্ট, পকেটে ৩৫ অলংকার; শাহ
13
শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫ কেজির বেশি কুশসহ দুই ভারতীয় নাগরিক গ্
14
বিমানবন্দরের আকাশপথে ঝুঁকি: উচ্চতা-সীমা লঙ্ঘন করে নির্মিত ৬৪
15
শাহজালাল বিমানবন্দরে কোটি টাকার বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণ, নিষি
16
নিউইয়র্কে আকাশে দুই গ্লাইডারের সংঘর্ষ, পাইলট নিহত
17
ইউরোপের সঙ্গে বিমান চলাচলে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ, বহর
18
পুনরায় চালু হলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-নারিতা সরাস
19
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সচল তেহরানের প্রধান বিমানবন্দর, ৩