হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু ও যাত্রী সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সামনে রেখে পুরো বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানোর মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত ৬ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পুরো বিমানবন্দর এলাকা আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন আইপি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহজনক চলাচল ও কার্যক্রম শনাক্ত করা সহজ হবে। যাত্রী হয়রানি ও অনিয়ম প্রতিরোধেও এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হবে।
সভায় যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, লাগেজ বেল্টে দ্রুত মালামাল পৌঁছানো এবং ইমিগ্রেশন পার হতে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
দেশি-বিদেশি যাত্রীরা বিমানবন্দরে নেমে সহজেই প্রয়োজনীয় কাউন্টার, গেট ও গন্তব্য খুঁজে পান—এ জন্য পুরো টার্মিনালে একাধিক ভাষায় আধুনিক ডিজিটাল সাইনেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের ট্রলি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ট্রলির অবস্থান ট্র্যাক করার ব্যবস্থা চালু এবং প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় বলা হয়, বিমানবন্দর একটি দেশের ‘ড্রয়িং রুমের’ মতো। এখানে আসার পর কোনো যাত্রী যেন অনিশ্চয়তা বা হয়রানির শিকার না হন। কোনো অনিয়ম বা অপকর্ম দৃশ্যমান হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক), এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশসহ (এপিবিএন) সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সভা সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল বিমানবন্দরে বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত বিমানবাহিনীর সদস্যসংখ্যাও পর্যায়ক্রমে কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে কর্মরত প্রায় ১ হাজার ৪৫০ জনের মধ্যে ৭০০ জন সদস্য কমানো হবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ‘এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় অতিরিক্ত বিমানবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃতীয় টার্মিনালকে কেন্দ্র করে এআইভিত্তিক নজরদারি, বহুভাষিক ডিজিটাল সাইনেজ, উন্নত ট্রলি ব্যবস্থাপনা, দ্রুত লাগেজ ডেলিভারি ও ইমিগ্রেশন সেবা এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
মন্তব্য করুন