অনলাইনভিত্তিক টিকিট বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নিয়ে টিকিট সরবরাহ না করে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং সেই অর্থ গোপন ও স্থানান্তরের চেষ্টার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।
সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত শনিবার রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন—ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, সভাপতি এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন, আব্দুল গণি মেহেদী, হেড অব ফাইন্যান্স মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেন।
২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা ফ্লাইট এক্সপার্ট অনলাইনে উড়োজাহাজের টিকিট বিক্রির পাশাপাশি হোটেল বুকিং, হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ভ্রমণসেবা দিয়ে আসছিল। পরে প্রতিষ্ঠানটি এফইবিডি নামে যৌথমূলধনী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও উভয় নামেই ব্যবসা ও ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করত বলে সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
সিআইডির অভিযোগ, আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন ট্রাভেল সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিশ্রুত টিকিট সরবরাহ করা হয়নি। একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশত্যাগ করেন। এর পরদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ করে ফ্লাইট এক্সপার্টের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে হাজারো গ্রাহক ও টিকিট বিক্রেতা এজেন্সি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। ওই সময় দায়ের করা একটি প্রতারণার মামলায় প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস, মালিকানা ও ব্যবহার আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে সংস্থাটি।
সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে প্রতারণার মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় স্থানান্তরের প্রমাণের ভিত্তিতে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পদের উৎস ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে সিআইডি।
মন্তব্য করুন